সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপের পদক বাতিলের দাবি

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনকালে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের পুলিশের দেওয়া বিভাগীয় পদক বাতিলের দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Jan 2022, 04:38 PM
Updated : 9 Jan 2022, 04:38 PM

রোববার সন্ধ্যায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম।

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলছেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব-পরিকল্পিত এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এ মাসের শেষের দিকে মামলার রায়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজন ভ্যান করে কক্সবাজার কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সকাল সোয়া ১০টায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আদালতের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সারাদিন গড়িয়ে এ কার্যক্রম চলে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত।

কৌঁসুলি ফরিদুল বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডটি (সিনহা হত্যা) যে পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল, ষড়যন্ত্র ছিল এবং মামলার আলামত নষ্ট করা হয়েছে- এসব যুক্তি ও তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

“আমরা (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ) তুলে ধরেছি, যে জায়গাটিতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে;  ওসি প্রদীপ টেকনাফ থানায় এবং পরিদর্শক লিয়াকত বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রে নিজেদের হাতেই ডায়েরি লিখে এসে সেখানে (শামলাপুর চেকপোস্ট) উপস্থিত হন। এই দুইটা ডায়েরিই প্রমাণ করে তারা (প্রদীপ ও লিয়াকত) ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। “

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, “আমরা আদালতে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি, এই দুই আসামির (প্রদীপ ও লিয়াকত) ষড়যন্ত্রে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। “

ফরিদুল জানান, যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী বুধবার পর্যন্ত আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের দিন ধার্য রয়েছে। এর মধ্যে মামলার অন্য আসামিদের ব্যাপারে আদালতে বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

রাষ্ট্র ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ‘প্রতারণা করে নিজের অপরাধের তথ্য গোপন করে ওসি প্রদীপ পদক নেওয়ায়’ তা বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান পিপি ফরিদুল।

“ওসি প্রদীপ বিপিএম, পিপিএম প্রাপ্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা। যদি পুলিশের বিভাগীয় কোনো পদক নিতে হয়, সেটার জন্য নিম্নস্তর থেকে একজন অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে তদন্ত করে মনোনীত করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ওসি প্রদীপ অপরাধের তথ্য গোপন রেখে রাষ্ট্র ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।”

“কোনো অনিয়ম, অপরাধ ও দুর্নীতি আছে কি না তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু দেখা গেছে যে, সে (প্রদীপ) টেকনাফ থানায় এসআই (উপ-পরির্দশক) থাকতে ২০০১ সালে একটা মামলায় অভিযুক্ত ছিল। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিও হয়েছে। সে সেটা গোপন করেছে। “

“তেমনিভাবে মহেশখালীতে হত্যার মামলার বিষয়টি সে (প্রদীপ) গোপন করেছে। একইভাবে চট্টগ্রামে কর্মরত থাকাকালীন তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করে পুলিশের বিভাগীয় পদকগুলো হাতিয়ে নিয়েছে,” যোগ করেন রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

ওই বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র‍্যাবকে।

পরদিন ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত সহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। 

গত ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম আদালতে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে। এরপর গত বছর ২৭ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর (চার্জগঠন) আদেশ দেওয়া হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক