স্ত্রী হত্যার অভিযোগে আটকের পর ‘পুলিশের হেফাজতে’ যুবকের মৃত্যু

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Jan 2022, 09:42 AM
Updated : 8 Jan 2022, 09:42 AM

শুক্রবার দুপুরে হিমাংশু রায় নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। বিকালে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

হিমাংশুর পরিবারের অভিযোগ, ‘পুলিশের নির্যাতনে’ তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের বলছে, এটা ‘আত্মহত্যা’।

৩৮ বছর বয়সী হিমাংশু হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা মালদাপাড়া এলাকায় বিশেস্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে।

হিমাংশুর ছোট ভাই সুধীর চন্দ্র রায় স্ংবাদিকদের জানান, শুক্রবার সকালে তার ভাইয়ের স্ত্রী সবিতা রানীর (৩০) লাশ ঘরের সামনে থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর বেলা ১১টার দিকে পুলিশ স্ত্রী হত্যার অভিযোগে হিমাংশুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ হিমাংশুকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “পুলিশ যখন আমার ভাইকে ধরে নিয়ে যায় তখন সে সুস্থ ছিল। থানার নেওয়ার পর সে মারা গেছে। পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।”

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হিরন্ময় বর্মণ জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে পুলিশ হিমাংশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার গলায় একটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, “সবিতার লাশ উদ্ধারের পর তার স্বামী হিমাংশুকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। পরে জানতে পেরেছি সে মারা গেছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, হিমাংশুর স্ত্রী সবিতার মৃত্যুর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমাংশুর কাছে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এই অবস্থায় থানার নারী-শিশু হেল্প ডেস্কের কাছে হিমাংশুকে রেখে অফিসাররা দুপুরের খাবার খেতে যায়।

এই সুযোগে সেখানে থাকা ওয়াইফাইয়ের তার গলায় পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলে ঝুলে হিমাংশু আত্মহত্যা করে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য।

হিমাংশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং লাশ দুটি লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক