বৃষ্টিতে বীজ আলুর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কায় গোপালগঞ্জ বিএডিসি

টানা বৃষ্টিতে গোপালগঞ্জে বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছে বিএডিসি।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2021, 11:29 AM
Updated : 7 Dec 2021, 01:10 PM

ক্ষতি পুষিয়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ শুরু করলেও এখনও করণীয় নির্ধারণ করতে পারেনি তারা।

গোপালগঞ্জ বিএডিসির উপ-পরিচালক দীপংকর রায় বলেন, তারা ‘ভিত্তিবীজ’ দিয়ে বীজ আলু উৎপাদন করেন। সেই আলুর সুনাম রয়েছে সারাদেশে।

“এ বছর বীজ রোপণের পরপরই দুই দিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় কিছু ক্ষেতের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে ইতোমধ্যেই ক্ষেত পরিদর্শন করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমরা কাজ করছি।”

বিএডিসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর এ জেলায় প্রায় দুই শ একর জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে বীজ আলু উৎপাদন করেন কৃষকরা। তারা বছরে এক হাজার ২২০ টন আলুবীজ উৎপান করেন। এই বীজ দেশের বিভিন্ন জেলায় আলু চাষে ব্যবহৃত হয়। এ বছর ইতোমধ্যেই প্রায় ১৩০ একর জমিতে বীজ আলু রোপণ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৭০ একর জমিতে রোপণের প্রস্তুতি চলছিল। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে রোপণ করা ৮০ একর জমির বীজ পচে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিএডিসি বীজ আলু ও সার দিলে কৃষক আবার রোপণ করে ঘুঁরে দাঁড়াতে পারবেন বলে অনেকে জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের পূর্ব নিজড়া গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, “বিএডিসির চুক্তিভিত্তিক কৃষক হিসেবে আট বছর ধরে বীজ আলু উৎপাদন করে আসছি। বিএডিসি অফিস থেকে আলুবীজ ও সার দেয়।

“আমি তিন-চার  দিন আগে আমার পাঁচ একর জমিতে আলু রোপণ শেষ করেছি। বৃষ্টিতে আলুক্ষেত ডুবে রোপণ করা বীজ পচে যাবে। জমি আবাদে আমার অন্তত দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বৃষ্টি আমার সব শেষ করে দিল।”

রোপণ করা বীজে ইতোমধ্যেই পচন ধরেছে বলে জানান একই গ্রামের কৃষক জিকুর হোসেন মোল্লা।

ওই গ্রামের কৃষক নজরুল সরদার বলেন, বীজ আলু উৎপাদন করে আমরা আট বছর ধরে ভাল আছি। বিএডিসি আমাদের দিয়ে বীজ আলু উৎপাদন করিয়ে আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে সংরক্ষণ করে। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়।

“এ বছর বৃষ্টিতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বিএডিসি ফের আমাদের বীজ আলু ও সার দিলে  আমরা চাষাবাদ করে ঘুঁরে দাঁড়াতে পারব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক