নৌকাকে হারিয়ে জয়ী সেই মুক্তিযোদ্ধা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কয়রা ইউপিতে হামলার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থী সেই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2021, 02:21 PM
Updated : 29 Nov 2021, 03:04 PM

রোববার ভোটে বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম (৮৭) বিজয়ী হয়েছেন।

গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করেন কয়রা ইউপির দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার ও উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম শামীমুল হক।

তৃতীয় ধাপে এই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে তিন জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮ হাজার ৪৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪১ ভোট। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন তালুকদার আনারস প্রতীকে ১৪৫ ভোট পেয়েছেন।

জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় খোরশেদ আলম বলেন, “যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি যেন স্বাধীন দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পায়। ভোটের আগেও আমি প্রশাসনের কাছে সেটাই চেয়েছিলাম। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, জনগণ সঠিক রায় দিলে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র ও প্রভাব কাজে লাগে না।”      

নির্বাচনের আগে গত বুধবার ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলমের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল উদ্দিনের কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের উপরে ও বাম পায়ে কিছু অংশ থেঁতলে যায়। এছাড়া হামলায় খোরশেদ আলমের আরও ৫ জন সমর্থক আহত হন।

তবে হেলাল উদ্দিন তার কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওই দিনই সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে উল্লাপাড়ায় প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খোরশেদ আলম। রাতে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে থানায় মামলা করা হলেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে উল্লাপাড়া থানা মোড়ে শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এতে অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন।

স্বাধীনতা পর থেকে উল্লাপাড়া উপজেলার বৃহত্তর পূর্ণিমাগাতি ইউনিয়নে টানা পাঁচ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম। তিনি রাজশাহী বিভাগে কয়েকবার সেরা ইউপি চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন। সরকারিভাবে ভারত, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়া সফরও করেছেন। পূর্ণিমাগাতির একাংশ ও পাশের দুর্গানগর ইউনিয়নের একাংশ মিলে গঠিত হয় কয়রা ইউনিয়ন। তিন বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিয়ে চালানোর পর ৫ বছর আগে প্রথম এই ইউপিতে ভোট হয়। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলমকে হারিয়ে হেলাল উদ্দিন নৌকা প্রতীকে প্রথমবারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবার তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেলাল উদ্দিনকে পরাজিত করেছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক