রাতের তাণ্ডবের পর রংপুরের মাঝিপাড়ায় আতঙ্ক

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের একটি রাত পেরিয়ে এসে রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া-বটতলা ও হাতিবান্ধা গ্রামে এখন সবার মাঝে আতঙ্ক।

রংপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Oct 2021, 07:27 AM
Updated : 18 Oct 2021, 11:20 AM

ফেইসবুকে এক তরুণের ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে মাঝিপাড়া জেলেপল্লীতে হিন্দুদের ২৯টি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোববার রাতে।

পুলিশ আর বিজিবি এখন পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে; সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের লোকজন এসে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু এক রাতে সব হারানো মানুষগুলো যেন বুঝে উঠতে পারছেন না, কীভাবে কী হল।

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ফেইসবুকে এক হিন্দু তরুণ ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ পোস্ট দিয়েছেন অভিযোগ তুলে গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানো হয়।

“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণের বসতবাড়ির আশপাশে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়িটি রক্ষা করা গেলেও হামলাকারীরা দূর থেকে কিছু বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।”

সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে হিন্দুদের বাড়ি আর দোকানপাটে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সেখানে ফাঁকা গুলি ও রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। রাত ১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকশ লোক আধা ঘণ্টা ধরে সেখানে তাণ্ডব চালায়। ঘর আর দোকানপাটে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি একটি মন্দির তারা ভাংচুর করে। লুট করে নিয়ে যায় গবাদিপশু ও নগদ টাকা।তাদের মারধরে কয়েকজন আহতও হন।

হামলায় সর্বস্ব হারানো বাসন্তি রানী বলেন, “চাউল নাই বাবা আজ একনা খই মুড়ি খেয়ে আছি চাউল এ্যালা হামাক কে দিয়ে যাইবে। হামরা এ্যালা কি খেয়ে থাকমো বাবা।”

দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে সহিংসতা শুরুর পর গত কয়েকদিনে তা ছড়িয়েছিল চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার, ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। সেই সাম্প্রদায়িক আগুনেই রোববার রাতে পুড়ল পীরগঞ্জের মাঝিপাড়া।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুনের খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থেকে দুটি, মিঠাপুকুর থেকে দুটি ও রংপুর থেকে একটি ইউনিট সেখানে আগুন নেভাতে যায়। ভোর ৪টা ১০ মিনিটে আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

তার আগেই ১৫জন মালিকের ২৯টি বসতঘর, দুটি রান্নাঘর, দুটি গোয়াল ঘর এবং ২০টি খড়ের গাদা আগুনে পুড়ে যায়।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এএসএম তাজিমুল ইসলাম শামীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ঘটনার সাথে যেই জড়িত হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমি আমার পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক সহয়তা দিয়েছি।”

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিফ আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা তাদের করা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক