শরীয়তপুরে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই চলছে সেতুর কাজ

ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে প্রেমতলা-কোটাপাড়ায় কীর্তিনাশা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে জমি অধিগ্রহণ না করেই।

কে এম রায়হান কবীর শরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2021, 05:15 PM
Updated : 13 Sept 2021, 05:15 PM

সেতুর এক প্রান্তের পাইলিং ৬০ শতাংশ হলেও জমির মালিকদের বাধায় অপর প্রান্তে এখনও শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, কাজ করার জন্য জমির মালিকদের চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। 

পালং পৌর ভুমি অফিস বলছে, মালিকানা শনাক্ত করে কাগজপত্র এল এ শাখায় পাঠানো হয়েছে। তবে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে - এখনও জায়গা অধিগ্রহণ হয়নি; তারা জমির মালিকদের বুঝিয়ে কাজ করছেন। সড়ক বিভাগ বলছে, অধিগ্রহণের কাজ চলছে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, পালং ভুমি অফিস ও সড়ক বিভিাগ থেকে জানা যায়,   ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে কীর্তিনাশা নদীর উপর প্রেমতলা-কোটাপাড়ায় ১৯০ দশমিক ২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর দরপত্র আহবান করে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ। ২০২০/২১ অর্থবছরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স জামিল ইকবাল ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স  লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি পায়। 

২০২১ সালের ১লা এপ্রিল কার্যাদেশ প্রদান করে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

ইতিমধ্যে মেসার্স জামিল ইকবাল ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড কাজ শুরু করেছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। সেতুর উত্তর প্রান্তে ঘাগড়ী জোড়া এলাকায় এমব্যাংকমেন্টের পিলারের ১৪টি পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।  নদীর মাঝখানের তিনটি পিলারের ১০টি করে মোট ৩০টি পাইল বসানোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। দক্ষিণ প্রান্তে প্রেমতলা এলাকায় এমব্যাংকমেন্টের পিলারে ১৪টি পাইল বসানোর কথা রয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারছে না স্থানীয়দের বাধার কারণে।

স্থানীয় জলিল, বিল্লাল ফকির, রিনা বেগম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জমি অধিগ্রহণ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ করেছে।

সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের পশ্চিম কোটাপাড়ার জমি মালিক ইলিয়াস বেপারী ও রাজ্জাক শেখ বলেন, তাদের থাকার ঘরের জায়গায় সেতুর পিলার পড়েছে। সেখানে পিলার করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও সড়ক ও জন পথের কর্মকর্তারা তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অথচ তাদের জায়গা এখনও অধিগ্রহণ করা হয়নি।

তারা বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।  

আরেক ভূমিমালিক রেজানুর রহমান খান বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আগের সেতুর সাথে এই সেতুটি নির্মাণ করলে আমাদের শত বছরের পুরানো বসতবাড়ি বেঁচে যেত; সরকারেরও অর্থ সাশ্রয় হত। অথচ পূর্বের ব্রিজ থেকে ৫০/৬০ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এাড়া এখনও জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি।”

পালং পৌরসভার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জুয়েল হোসন ঢালী বলেন, “আমারা ৪০ নম্বর পূর্ব কোটাপাড়া মৌজার কাগজপত্র অধিগ্রহণ করার জন্য এলএ শাখায় প্রেরণ করেছি।” 

মেসার্স জামিল ইকবাল ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স  লিমিটেড-এর প্রকল্প পরিচালক মো. হাসান বলেন, প্রেমতলা-কোটাপাড়া কীর্তিনাশা নদীর উপর সেতুর জায়গা এখনও অধিগ্রহণ করা হয়নি। আমরা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদেরকে বুঝিয়ে কাজ শুরু করেছি। যারা জায়গা দিতে রাজি হয়নি তাদের সাইডে কাজ বন্ধ রেখেছি।”

শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভুঁইয়া রেদুয়ানুর রহমান বলেন, “ভুমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।”

কাজের মানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সিডিউল অনুযায়ী সকল নিয়ম নীতি মেনে কাজ চলছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক