বিজিবি সদস্য খুনের আসামিরা ‘প্রকাশ্যে ঘুরছে, ধরছে না পুলিশ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবি দুই সদস্যের খুনের আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Oct 2020, 09:30 AM
Updated : 21 Oct 2020, 09:30 AM

বুধবার বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

এক আওয়ামী লীগের নেতা ‘প্রভাব খাটানোয়’ সাতমোড়া গ্রামের এ জোড়া খুনের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের পহেলা মার্চ নবীনগর উপজেলার জগন্নাথপুরে সাবেক বিজিবি সদস্য ইয়াছিন মিয়া এবং তার ভায়রা খন্দকার এনামুল হক খুন হন।

স্বজনরা বলছেন, আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। উল্টো আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত খন্দকার এনামুল হকের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থানায় মামলার এজহার নিতে রাজি হয়নি। আদালতে ২৬ জনকে আসামি মামলা করা হয়। আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) মামলার তদন্ত ভার দেয়।

সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে এজহারে উল্লেখিত ২৬ জন আসামিসহ আরও দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর আদালত সব আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এদের মধ্যে ১২ জন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান কিন্তু বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলেন তাছলিমা।

তিনি বলেন, মামলার আসামি ও সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিমের ভাই।

“এমএ হালিমের দলীয় প্রভাব বিস্তার করার কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এর ফলে আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচার পাচ্ছি না।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় আসামিদের হাত থেকে বাঁচাতে তারা এলাকা ছেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বসবাস করছেন।

“আমি আমার স্বামী এবং আমার বোন নাসিমা বেগমের স্বামী হত্যার বিচার চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সাবেক বিজিবি সদস্য ইয়াছিন মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও তার সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নবীনগর থানার ওসি বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।