ফেনীতে দোকান লুটের সময় প্রহরী খুন, পুলিশের গুলিতে ৩ ‘ডাকাত’ নিহত

ফেনীর দাগনভূঞায় একটি বাজারে ডাকাতির সময় এক নৈশপ্রহরী খুন হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন তিন ডাকাত নিহত হয়েছে।

নাজমুল হক শামীম ফেনী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 June 2020, 04:22 AM
Updated : 25 June 2020, 06:57 AM

বৃহস্পতিবার ভোরে ফেনী-মাইজদী মহাসড়ক সংলগ্ন বেকের বাজারে এ ঘটনায় ডাকাতদলের আরও একজনকে আটক করা হয়েছে বলে দাগনভূঞা থানার ওসি আসলাম সিকদার জানান। 

নিহতরা হলেন দাগনভূঞা উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের নুর নবীর ছেলে নৈশ প্রহরী আবদুল মান্নান ওরফে মনু (৪৫), বরগুনার আমতলী উপজেলার চরকাবুনিয়া গ্রামের হোসেন মাতাব্বরের ছেলে দুলাল মাতাব্বর (৪২), একই উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের মতলব মোল্লার ছেলে বাবুল মোল্লা (৪০), নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার থাকেরপুল গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বিদ্যুৎ (৪২)।

এছাড়া আটক ব্যক্তি হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার গেরাখালি গ্রামের আব্দুল মালেক প্যাদার ছেলে দুলাল প্যাদা (৪১)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আসলাম জানান, ভোররাতে ‘ডাকাত’ দলের সদস্যরা বেকের বাজারের শরিয়ত অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি মুদি দোকানের মালামাল লুট করে ট্রাকে তুলছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বাজারের নৈশপ্রহরী আবদুল মান্নান শোরচিৎকার করে ডাকাতদের ধাওয়া করে।

“এ সময় ডাকাতরা আবদুল মান্নানকে ধরে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। বিষয়টি জানতে পেরে বাজারের অপর নৈশপ্রহরী রফিক পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন।”

ওসি বলেন, এ সময় টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে। এদিকে ডাকাতদলের অপর সদস্যরা আটককৃত ডাকাতদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তিন ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়।

“পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ তিন ডাকাতকে উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করে। গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ অপর ডাকাতকে ফেনী জেনালের হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়।”

ওসি জানান, আটক একজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, তিনটি ছোড়াসহ বিভিন্ন সরঞ্জামর উদ্ধার করেছে। ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

আসলাম সিকদার আরও জানান, নৈশপ্রহরী মান্নান ও নিহত তিন ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

এই ঘটনায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক