মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে ‘পাঁচ শতাধিক’ হিন্দু

মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি সহিংসতার শিকার হিন্দু ধর্মবলম্বীরাও পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।  

কক্সবাজার প্রতিনিধিশংকর বড়ুয়া রুমি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Sept 2017, 04:50 PM
Updated : 3 Sept 2017, 05:47 PM

তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের মত তাদের গ্রামেও হামলা চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা-নির্যাতন চলছে, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত রোববার কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং এলাকায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের দেখতে যান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যে বা যারাই এ সহিংসতা করেছে, তারা গণহত্যা পরিচালনা করছে।”

গত ২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে দমন অভিযান শুরু হয়।

মিয়ানমার সরকারের হিসাবে, গত এক সপ্তাহে রাখাইনে সহিংসতায় অন্তত চারশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৬০০ ঘর-বাড়ি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, সংঘাত থেকে বাঁচতে গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, সেনাবাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছেন।

“তারা বলেছেন, রাখাইনে নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮৬ জন হিন্দু রয়েছেন। তাদের বাড়ি-ঘরে লুটপাট চালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

 

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কুতুপালং এলাকায় আশ্রয় নেওয়া হিন্দু ধর্মবলম্বী রমণী শীল (৫০) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাখাইন রাজ্যের মংডু থানার চিকনছড়ি গ্রামে তারা বসবাস করে আসছিলেন কয়েক পুরুষ ধরে।

কয়েকদিন আগে জনা বিশেক মুখোশধারীর একটি দল ওই হিন্দু পল্লীতে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করে। পরে তারা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কুতুপালংয়ে পালিয়ে আসার কথা জানান রমণী শীল।

কালো শীল নামের ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ জানান, তার বাড়ি মংডুর ঢেঁকিবুনিয়া গ্রামে। সহিংসতা শুরুর তৃতীয় দিন সেখানে তিনজন হিন্দুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রাণে বাঁচতে পরিবারের ১৮ সদস্যকে নিয়ে অন্যদের সঙ্গে তিনি কুতুপালংয়ে চলে আসেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, রোহিঙ্গারাসহ মিয়ানমারের যেসব নাগরিক গণহত্যা, নির্যাতন-নিপীড়নের ভয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে, তাদের ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ সে দেশের সরকারকে তৈরি করতে হবে।

মিয়ানমারে যা ঘটছে, তার যথাযথ তদন্ত দাবি করে বাংলাদেশের যুদ্ধারপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর বলেন, “যারাই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে যুক্ত থাকবে, তাদের আন্তর্জাতিক আইনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দায়িত্ব জাতিসংঘকে নিতে হবে।”

অন্যদের মধ্যে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি পরিমল কান্তি চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, কক্সবাজার জেলার সহ সভাপতি দীপঙ্কর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে পরে মিয়ানমার থেকে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে খাবার ও পোশাক বিতরণ করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক