অসহায়দের ‘সহায় হতে’ ভোটের লড়াইয়ে দুই হিজড়া

সারাদেশে ২৩৪ পৌরসভায় ১২ হাজারের বেশি প্রার্থীর ভিড়ে খানিকটা আলাদা তারা দুজন; এদের একজন সাতক্ষীরার কলারোয়ার এবং অন্যজন যশোরের বাঘারপাড়ার।

যশোর প্রতিনিধিসাতক্ষীরা ওবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Dec 2015, 04:26 PM
Updated : 16 Dec 2015, 04:26 PM

তারা দুজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ; এর মধ্যে কলারোয়ায় দিতি বেগম এবং বাঘারপাড়ায় সুমি খাতুন। দুজনই সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে লড়ছেন।

দুই বছর আগে হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলার পর অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর এই দুজন নারী হিসেবেই ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রোগ্রামার মহসিন রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ভোটার হওয়ার সময় লিঙ্গ পরিচয় ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে হিজড়াদের জন্য। আর এতে অধিকাংশই নিজেকে নারী বলে উল্লেখ করেছেন।

চুড়ি প্রতীক নিয়ে কলারোয়া পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সমাজের অনিয়ম আর বৈষম্য দূর করার ব্রত নিয়েই তার নির্বাচনের মাঠে নামা।

“অসহায় মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ বিভিন্ন কারণে এলাকার মানুষ আমাকে প্রার্থী করেছে। মুরুব্বিরাসহ সাধারণ মানুষই আমাকে মাঠে নামিয়েছে।”

সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে কাউন্সিলর প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ দিতি বেগম।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সমর্থন দেওয়ায় দিতি আশাবাদী, ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জয় তারই হবে।

একই রকম প্রত্যয় বাঘারপাড়ারও সুমি খাতুনেরও (৪৭)। ২৫ বছর আগে কুমিল্লা থেকে এসে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল মোড় এলাকায় থাকছেন তিনি।

সুমির ভোটে অংশগ্রহণ এবারই প্রথম নয়। ২০০৪ সালের পৌর নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ১৩ ভোটে হেরে গেলেও এবার আশাবাদী তিনি।

এবার অবস্থা আগের চেয়ে ‘বেশি ভালো’ বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বাবলুর রহমান।

তবে সুমির প্রতিদ্বন্দ্বী তাসলিমা খাতুনের শিবির তা মানতে রাজি নন।

তাসলিমার ভাই আরিফ খান বলেন, “লোকজন চাঁদা তুলে তাকে (সুমি) নামিয়েছে। গতবারও একইভাবে হাসিঠাট্টার জন্য লোকজন তাকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছিল।”

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুমি যে ওয়ার্ডে লড়ছেন, সেই সংরক্ষিত ৩ নম্বর (৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ড) ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৩২৫।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্য দিয়ে সরকারি নথিপত্র ও পাসপোর্টে লিঙ্গ পরিচয় ‘হিজড়া’ হিসাবে উল্লেখ করার অধিকার পান তারা।

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার হিজড়া রয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে কতজন এবার পৌর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই ইসির কাছে।

ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ণের শুরু থেকে হিজড়ারা ভোটার হয়ে এলেও তারা নারী বা পুরুষ ঐচ্ছিক পরিচয়ে ভোটার হতেন। ফলে কমিশনের প্রার্থীর তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (সিআইএমএস) হিজড়া শনাক্ত করা হয়নি।

ইসির প্রোগ্রামার মহসিন রেজা বলেন, “যেহেতু হিজড়ারা ভোটার হওয়ার সময় লিঙ্গ পরিচয় ঐচ্ছিক থাকায় অধিকাংশই নিজেকে নারী বলে উল্লেখ করেছেন। তাই নারী ও পুরুষ পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীদের অন্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।”

তবে হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পর নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিধিমালায় সংশোধন আনছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনে নির্ধারিত ফরমে নারী, পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া লিঙ্গ পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধিমালায় সংশোধন এনে আরও কিছু প্রস্তাবসহ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

</div>  </p>