‘মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও’ তালিকায় বাবা ও দুই ছেলে

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর এক পরিবারের তিন সদস্য স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ না নিলেও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজেদের নাম উঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।    

মনোজ সাহা গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Dec 2015, 06:51 AM
Updated : 16 Dec 2015, 06:53 AM

ওই তিন ব্যক্তি হলেন- উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হক শেখ, তার দুই ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ শেখ ও কাওসার আলী শেখ।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, একাত্তরে যুদ্ধ চলাকালে আব্দুল হক শেখ মানসিক রোগী ছিলেন। তিনি কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধে অংশ নেননি। তার বড় ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ শেখ তখন আত্মগোপনে ছিলেন। আর সে সময় ছোট ছেলে কাওছার আলী শেখের বয়স ছিল ৯ বছর।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, “আব্দুল হক বা তার দুই ছেলে ওই কেউই কোনো মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বা ভারতে প্রশিক্ষণ নেননি। যুদ্ধচলাকালে সংগঠক, সাহায্যকারী ও সহযোগী হিসেবেও কাজ করেননি।”

“১৯৭৪ সালে আব্দুল ওয়াদুদ জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার বাবা ও ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন আর এ কারণে মুক্তিবার্তা ও সরকারি গেজেটে তাদের নাম এসেছে,” বলেন আব্দুল মান্নান।

এ বিষয়ে কয়েক মাস আগে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিরুজ্জমানের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান।

অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াদুদ শেখ জানিয়েছেন, ভারত কিংবা অন্য কোথাও নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের প্রথম দিকে তিনি কাশিয়ানীর জয়নগর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

“যুদ্ধ চলাকালে আমরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও খাবার দিয়েছি। তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি,” বলেন তিনি।

আর ছোভাই কাওসারের জন্মতারিখ ভুল করে ভোটার তালিকায় ১৯৬২ সালের ২১ জানুয়ারি লেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এটি সংশোধনের চেষ্টা করছি।”

তার বাবা আবদুল হকও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে দাবি ওয়াদুদের।

তবে জয়নগর ক্যাম্পে ওয়াদুদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার দাবি ‘মিথ্যা’ বলে জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এনায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, “জয়নগর ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক ছিলাম আমি। ওই ক্যাম্পে আব্দুল ওয়াদুদ প্রশিক্ষণ নেয়নি।”

এদিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর এনায়েত হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাপস ফলিয়াকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।