বিশ্বচিত্র ২০২১: উত্তেজনা-অস্থিরতার চেনা ছকে ফিরছে পৃথিবী

মহামারীর দাপট, তা মোকাবেলায় দিশেহারা অবস্থা, আতঙ্ক, নৈঃশব্দ ও মৃত্যুর যে অচেনা রূপ হঠাৎ করেই বাকি সবকিছুকে গ্রাস করেছিল, টিকার আবির্ভাব এবং ভাইরাসকে সঙ্গী করে কৌশলে চলার চেষ্টায় সূর্যকে আরেকবার প্রদক্ষিণের আগেই ত্রস্ত সেই দৃশ্যপট বদলে পৃথিবী যেন আবার একটু একটু করে তার চেনা ছকে ফিরছে।

মীর মোশাররফ হোসেন>>বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Dec 2021, 06:52 PM
Updated : 31 Dec 2021, 03:09 AM

অঞ্চলে অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে দাবার চাল, সামরিক উপস্থিতি, নৌমহড়া, সীমান্তে সীমান্তে সংঘাত, যুদ্ধ, অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি, ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা, মাদক ব্যবসার রমরমা, পশ্চিম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মরণপণ চেষ্টা, সাইবার ওয়ার, জলসীমা ঘিরে উত্তেজনা, ভিন্নমত দমনে শক্তির ব্যবহার, ক্ষমতা নিতে বা টিকিয়ে রাখা নিয়ে অস্থিরতা, অভ্যুত্থান, সন্ত্রাসী হামলার যে নিত্য চিত্র ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের আগে ছিল, মহামারীর চোখ রাঙানিতে তা একটু থমকালেও খানিক বিরতি শেষে সবই আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে।

মহামারীর ধাক্কা, অর্থনীতির বেহাল অবস্থা পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত করেছে। বৈষম্য বেড়েছে, বেড়েছে চরম দারিদ্র্য। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ অনাহারে, কোথাও কোথাও বিরাজ করছে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিও। তাতে কি হানাহানি বন্ধ হয়?

বছরের প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালা বদল ঘটেছে বড় ধরনের এক দাঙ্গা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। ৬ জানুয়ানিতে ট্রাম্প সমর্থকরা ওয়াশিংটন ডিসি'র ক্যাপিটল ভবনে লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর দু'সপ্তাহ পর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হন জো বাইডেন। আর তার সঙ্গে অনেক প্রথমের জন্ম দিয়ে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিষেক হয় কমলা হ্যারিসের।

ছবি: রয়টার্স

এ বছরও আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। জলাশয়কে কেন্দ্র করে তাজিকিস্তান-কিরগিস্তানের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ১৩ জনের। আফগানিস্তানে ২০ বছরের যুদ্ধের পর এবছর মার্কিন বাহিনী সেখান থেকে পাততাড়ি গুটালেও অগাস্টে দেশের ভেতরে আরেক যুদ্ধে জয়ী হয়ে তালেবান আশরাফ গনি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। তালেবান ক্ষমতা নিতে না নিতেই জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একের পর এক বোমা হামলা ফিরিয়ে এনেছে দেশটির সেই চিরচেনা রূপ।

বছরখানেকের আন্দোলন, কয়েকশ সাথীর মৃত্যু আর আপোস না করা অদম্য তেজের উদাহরণ সৃষ্টি করে জয় নিয়েই এবছর ঘরে ফিরেছেন ভারতের কৃষকরা। খরা, বন্যা আর খাদ্য সংকটে নাকাল উত্তর কোরিয়া এ বছরও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। বছরের মাঝামাঝি তারা দক্ষিণের সঙ্গে হটলাইনও ফের চালু করেছে।

মাঝখানে একটি বছর থমকে থাকার পর এ বছর আবার সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সংঘর্ষে দু’পক্ষেই রক্তক্ষয় হয়েছে। আর এর পরপরই গাজায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের টানা ১১ দিনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি।

মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশে এবছর ঘটেছে সামরিক অভ্যুত্থান। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলে ক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে দেশগুলো। অভ্যুত্থানে আটক রাজনৈতিক নেতাদের ছেড়ে দিতে বরাবরের মতোই জোরদার হয়েছে আন্তর্জাতিক চাপ।

অশান্ত ইথিওপিয়ায় তিগ্রাই বাহিনীর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত বন্ধে আফ্রিকান ইউনিয়ন কোমর বেঁধে নামলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। বছরের মাঝামাঝিতে ক্যারিবীয় দেশ হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসকে তার নিজের বাড়িতেই গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এপ্রিলে ষষ্ঠবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরদিন বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছেন শাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি।

এবছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শরণার্থী সংকটও আবার আগের মতো প্রকট হয়েছে। শরণার্থী নিয়ে পোল্যান্ড এবং বেলারুশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দু’দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষও হয়েছে। পোল্যান্ড হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে চাওয়া শরণার্থীদেরকে পোল্যান্ড ঢুকতে দেয়নি। ওদিকে, বছরের শেষের দিকে মিয়ানমারে সেনা-বিদ্রোহী তুমুল লড়াইয়ের মুখে প্রাণ বাঁচাতে হাজারো মানুষ পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে। এই শরণার্থীদের অনেককেই আবার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে থাইল্যান্ড।

বিশ্বজুড়ে টিকার বদৌলতে এবছর শুরু থেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় বুক বেঁধেছিল মানুষ। টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের সেই আশা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। ভ্রমণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হয়েছে, ছন্দে ফিরেছে মানুষের জীবনযাত্রা। শিশুরাও এবছর টিকা পাওয়ায় অনেক দেশেই খুলেছে স্কুল-কলেজ। আনন্দ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। একবছর দেরীর পর এবছর জুলাইয়ে টোকিওয় বসেছে অলিম্পিক গেমস এর আসরও।

তবে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক থেকে এবছরও বেরোতে পারেনি বিশ্ব। বছরের শেষ দিকে এসে আবার চোখ রাঙিয়েছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকা ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কে অনেক দেশই আবার কঠোর লকডাউনের পথে হেঁটেছে। আরোপ করেছে কঠোর সব ভ্রমণবিধি। কিন্তু এই সব পদক্ষেপ নিয়ে আগেরবারের চেয়ে এবছর আরও বেশি কড়া সমালোচনা–প্রতিবাদ হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে ওমিক্রন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সরকারের কঠোর ভ্রমণবিধি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ডিসেম্বরে ব্রিটিশ ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডেভিড ফ্রস্ট পদত্যাগ পর্যন্ত করেছেন। জনসন তার নিজ দলের এমপিদের কাছ থেকেও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন। সবে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফেরা মানুষ যেন আর ফিরতে চাইছেনা বন্দিত্বের শৃঙ্খলে, বরং ভাইরাসকে সঙ্গী করেই তারা চলতে চাইছে চিরচেনা ছকে।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বছর শেষে শীতের সময়ে এমনিতেই কোভিড সংক্রমণ বেড়েছে। তার ওপর ওমিক্রন সব হিসাব ওলট পালট করে দিয়েছে। প্রচলিত টিকায় এই ভ্যারিয়েন্ট কতটা ঠেকানো যাবে তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানতে পারেনি মানুষ। ওমিক্রন নিয়ে বিশদভাবে জানার চেষ্টা চলার মাঝেই এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে অনেক দেশের সরকারই চিন্তিত। কঠোর বিধিনিষেধ মেনে না চললে ওমিক্রনের দাপট বেড়ে কোভিডের নতুন একটি ঢেউয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আবার ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রনেতারা। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে গত বছরের মতো এবছর বিশ্বের মানুষ খুব বেশি টতস্থ হয়নি। অথচ ভাইরাস তার আপন গতিতেই পদচিহ্ন এঁকে যাচ্ছে।

ছবি: রয়টার্স

টিকায় জোর, তবু ঠেকানো যায়নি মৃত্যু-আক্রান্তের ঢেউ

চলতি বছর করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারতকে নাকাল করে ছেড়েছে। অক্সিজেনের অভাবে পথেঘাটে মৃত্যু, শ্মশানে লাশের সারি, গঙ্গায় ভেসে আসা লাশ, প্রতিদিন শনাক্ত-মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে খুবলে খেয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দাঁড় করিয়েছে নতুন প্রশ্নের সামনে।

টিকা স্বস্তি হয়ে এলেও এর অসম বন্টন, নিত্যনতুন ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব, সংক্রমণের একের পর এক ঢেউয়ের কারণে এ বছরও বহু দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল আটকানো যায়নি। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরও জার্মানি কোভিডের চতুর্থ ঢেউ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে।

করোনাভাইরাসের এই দোর্দণ্ড প্রতাপের কারণে মাত্র দুই বছরেই অদৃশ্য এই ঘাতক বিশ্বের অর্ধকোটির বেশি মানুষকে সাদাকালো ছবিতে পরিণত করেছে, শনাক্ত রোগী পৌঁছেছে ৩০ কোটির কাছে। বছরের শেষভাগে এসে ইউরোপের দেশগুলোতে ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। বছরের শেষ মাসে যুক্তরাজ্যে ফের দৈনিক কোভিড শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে।

তাই টিকার কারণে মানুষ এবছর বন্দি অবস্থা থেকে কিছুটা রেহাই পেলেও মাস্ক পরাসহ অন্যান্য অনেক স্বাস্থ্যবিধির বেড়াজালেই আটকে থেকেছে। তাছাড়া, যত টিকা এসেছে, তার প্রায় সবগুলোতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকা নেওয়ার কয়েক মাস পর থেকে কমতে দেখা যাওয়ায় বছরশেষে টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বুস্টার ডোজ দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তোড়জোড়।

নাগরিকদের কত শতাংশকে টিকা দেওয়া গেছে, কোন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেমন, ধনী দেশগুলোর টিকার মজুদ, দরিদ্র দেশগুলোর কাছে পর্যাপ্ত টিকা না পৌঁছানো নিয়েই চলতি বছরের একটা বড় সময় চাঞ্চল্য ছিল।

টিকা নির্মাতা কোম্পানিগুলোর বুস্টার ডোজ, মুখে খাওয়ার ওষুধ আনার খবর মানুষকে স্বস্তিও দিচ্ছিল। বাধ সাধল ওমিক্রন। উহানে শনাক্ত আদি রূপের তুলনায় এ ধরনটি একেবারেই আলাদা এবং কয়েক ডজনবার এর স্পাইক প্রোটিন পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই ধরনকে কীভাবে ঠেকানো যাবে সেটি এখনও মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে।

টিকার বুস্টার ডোজ করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর তা নিয়ে স্বল্পবিস্তর ধারণা এবছর দিয়েছেন গবেষকরা। তবে তারা এও বলেছেন যে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাদের মডেলিং নিয়ে ‘ব্যাপক মাত্রার অনিশ্চয়তা’ থেকেই যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসে হাঁসফাঁস বিশ্ব এবছরও এই ভাইরাসের উৎস নিয়ে তদন্তে সুনির্দিষ্ট কোনও ফল পায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের উহানে ভাইরাসের উৎস নিয়ে তদন্ত করলেও তাদের অনুমান বলছে, ভাইরাসটি মনুষ্যসৃষ্ট নয় এবং কোনও ল্যাব থেকে ছড়িয়ে পড়েনি, প্রাণীদেহ থেকেই তা মানুষের দেহে এসেছে। তারপরও এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কথার লড়াই ও রাজনীতি এখনও বন্ধ হয়নি। 

ছবি: রয়টার্স

ম্যালেরিয়ার প্রথম টিকা

গতবছরের মতো এবছরও কোভিডে স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থাপনার মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে আফ্রিকায় থাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়া। এই রোগের বিস্তার ও মৃত্যু বাড়তে থাকার চিত্রও উঠে এসেছে এক হিসাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবছরই বিশ্বের প্রথম টিকার অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্য দিয়ে প্রতিবছর আফ্রিকায় লাখো শিশুর মৃত্যু ঠেকানোর পথ তৈরি হয়েছে। একশ বছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর ম্যালেরিয়ার একটি কার্যকর টিকা চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্যই বড় এক অর্জন হয়ে এসেছে।

রহস্যজনক ‘হাভানা সিনড্রোম’

কিউবায় প্রথম দেখা দেওয়া সেই রহস্যজনক হাভানা সিনড্রোমে এবছর কাবু হয়েছেন ভারত সফরে যাওয়া এক সিআইএ কমকর্তা থেকে শুরু করে কলম্বিয়ার মার্কিন দূতাবাস কর্মীরা; এমনকী ভিয়েতনামেও এই সিনড্রোম ধরা পড়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ফ্লাইট তিন ঘণ্টা দেরিতে হ্যানয়ে পৌঁছায়।

২০১৬ সালে প্রথম কিউবার রাজধানী হাভানায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দূতাবাসের কর্মীরা মাথা ঘোরা, কানে কম শোনা, স্মৃতি হারানো ও দুশ্চিন্তার মতো লক্ষণের কথা জানিয়েছিলেন। এসবই ছিল রহস্যজনক স্নায়ু রোগ হাভানা সিন্ড্রোমের লক্ষণ। পরবর্তীতে রাশিয়া, চীন, অস্ট্রিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের গুপ্তচর আর কূটনৈতিকদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। আগের মতো এই রোগ নিয়ে রহস্য এবারও উদঘাটন করা যায়নি।

ছবি: রয়টার্স

হতাশার কপ২৬ সম্মেলন

করোনাভাইরাস মহামারীর দেড় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবছর কেমন ছিল প্রকৃতি? এক কথায় বলতে গেলে বলা যায়- আপাতত সাময়িক উন্নতি হয়েছে, এটি স্বল্পমেয়াদী ফল l আর দীর্ঘমেয়াদী ফলের কথা বলতে গেলে আরও খারাপ পরিণতির দিকেই এগিয়েছে আমাদের পরিবেশ, প্রকৃতি আর ভবিষ্যৎl

লকডাউনে বাতাস উল্লেখযোগ্যভাবে পরিশুদ্ধ হয়েছে তা ঠিক। কিন্তু এই এক বছরে চাহিদা না থাকায় মাঠের পর মাঠ নাড়া পোড়ানো বেড়েছে। তার ওপর বিধি নিষেধ না মেনেই নভেম্বরে বাজি ফুটিয়ে দিওয়ালি উৎসব পালন করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চরমে পৌঁছেছে বায়ু দূষণ। অন্তত ছয় বছরের মধ্যে দিল্লিতে এ সময়েই বায়ু দূষণের মাত্রা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায়। অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, স্কুল-কলেজও অনির্র্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।

পানি দূষণও কমেনি। ভারতের গঙ্গা এবং বিভিন্ন রাজ্যের নদীতে ভেসে এসেছে কোভিডে মৃতদের সারি সারি লাশ। নদীর তীরেই সেগুলো পোড়ানো হয়েছে। আবার এই এক বছরে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় গার্হস্থ্য জ্বালানির দূষণ বেড়েছে অনেক বেশিl আরেকটি নতুন উৎপাত হয়ে এসেছে প্লাস্টিক দূষণ, যা বেড়েছে কয়েক হাজার গুণ l চারিদিকে সাহায্য-অনুদান, ত্রাণ- সবক্ষেত্রেই প্যাকেট, চটজলদি প্যাকেজিংয়ের কারণে পলি প্যাকেটের ব্যবহার বেড়েছেl প্রতিদিন খাবার ডেলিভারিতে প্রচুর প্লাস্টিক ব্যবহার হয়েছে, যা হোটেলে সরাসরি খেলে হয়ত হতো না l

সব মিলিয়ে এক ধরনের দূষণ কমলেও অন্য ধরনের দূষণ বেড়েছেl আর জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে- এবছর জাতিসংঘ বিশ্বকে সতর্র্ক করে দিয়ে ‘লাল সংকেত’ দেখিয়েছে। গত ৯ অগাস্টে ১৯৫টি সদস্য দেশকে নিয়ে বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ষষ্ঠ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের ইন্টারগভমেন্টাল প্যানেল (আইপিসিসি)। তাতে বলা হয়, এখনই সংযত না হলে ধ্বংসের আর বেশি বাকি নেই।

সেই আলামত এবছর কমবেশি দেখাও গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিশ্বে অনেক জায়গাতেই দাবানল হয়েছে। ইউরোপে এবছর প্রবল বৃষ্টিপাতে জার্মানিসহ নানা দেশে নজিরবিহীন বন্যা হয়েছে়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় খরার জন্য লেক ওরোভিলের পানি শুকিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই কুফল থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েই এবছর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোয় গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন কপ২৬ এর আসর বসেছিল অক্টোবরের শেষে।

যুক্তরাষ্ট্র ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’তে ফিরে আসায় এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখায় এই   জলবায়ু সম্মেলন ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গ্লাসগোর ২৬তম সম্মেলন আয়োজন বিশ্ববাসীকে হতাশই করেছে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি প্রাক শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশির মধ্যে আটকে রাখতে কার্বন নির্গমন যতটা কমানো দরকার, ক্ষমতাধর দেশগুলোর কাছ থেকে সে অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থের আশ্বাসও আদায় করা যায়নি। ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে একদিন সময় বাড়িয়ে শেষ হওয়া ‘মন্দের ভালো’ চুক্তিতে এমনকী কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে শূন্যে নামিয়ে আনার কথাও বলা হয়নি।

সম্মেলনের মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন জলবায়ু প্রশ্নে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা অনেককে আশান্বিত করলেও বহুল আলোচিত এবারের কপ২৬ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজের অর্থনৈতিক চাহিদাকে যেভাবে ধরিত্রীর উপরে স্থান দিয়েছে, তাতে আগামী দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।      

ছবি: রয়টার্স

ভজঘট পাকিয়ে ট্রাম্পের বিদায়, স্বস্তিতে নেই বাইডেনও

রাজনীতির অঙ্গনে এবছর সারা বিশ্বের দৃষ্টি ছিল ‍যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দিকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমি, বিচ্ছিন্ন মনোভাব, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রকে একঘরে করে ফেলেছিল। সেখান থেকে জো বাইডেন কীভাবে বেরিয়ে আসেন তা দেখতে আগ্রহী ছিল বিশ্ববাসী। আর ট্রাম্প বিদায়বেলায় যে ভজঘট পাকিয়েছেন, তাতে তো গোটা বিশ্বই স্তম্ভিত হয়েছে!

ভোটে হার নিশ্চিত হলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গত বছরের শেষভাগ থেকেই উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেস যেদিন ওই ফল অনুমোদন করবে সেদিন তার সমর্থকরা বিক্ষোভের ডাক দেয়, যা পরে রূপ নেয় দাঙ্গায়। ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের হাত থেকে বাঁচতে আইনপ্রণেতাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার ছবি, কংগ্রেস কক্ষে বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব পুরো বিশ্বেই হইচই ফেলে দেয়।

ওই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে দ্বিধাবিভক্তির চূড়ান্ত রূপ সামনে নিয়ে এলেও অবশ্য তাতে জো বাইডেনের ক্ষমতায় আরোহত ঠেকানো যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারিতেই ক্ষমতার পালাবদল হয় দেশটিতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে যান বারাক ওবামার আমলের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা এ ডেমোক্র্যাট।

ক্ষমতায় বসে ট্রাম্প আমলের নীতির বদল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ফের বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেও চলতি বছর বাইডেন প্রশাসনকে ট্রাম্প আমলের বিতর্কিত অনেক সিদ্ধান্ত বহাল রাখতেই দেখা গেছে। বছরের শেষদিকে বেশ কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভালো ফল আর জনমত জরিপে বাইডেনের ‘গ্রহণযোগ্যতা নামার ট্রেন্ড’ ডেমোক্র্যাটদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

ছবি: রয়টার্স

পুরনো পথে মিয়ানমার

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনই মিয়ানমার ফিরে গেছে দশককাল আগের পুরনো পথে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির টালমাটাল গণতান্ত্রিক কাঠামোকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে সামরিক বাহিনী। অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনেককেই গৃহবন্দি করা হয়।

অভ্যুত্থানবিরোধী টানা আন্দোলন দেশটির অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। সামরিক জান্তার দমনপীড়নে হাজারের বেশি প্রাণহানি ও বহু লোককে আটকের নিন্দা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। জাতিসংঘ, পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক জোট আসিয়ান ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগ করে এলেও চীন-রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট অভ্যুত্থান্কারীদেরকে যে তাদের অবস্থান থেকে যে খুব একটা সরানো যায়নি তা স্পষ্ট হয় বছরের একেবারে শেষভাগে সু চিকে ‘উসকানি’ ও ‘কোভিড বিধি’ ভাঙার দায়ে দেওয়া কারাদণ্ডে।

অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনকারীরা জান্তাকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে সশস্ত্র পন্থা বেছে নেওয়ায় আর তাদের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী যুক্ত হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে মিয়ানমারে দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মালি-গিনি-সুদানে অভ্যুত্থান

গত মে মাসে মালিতে সামরিক অভ্যুত্থানে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকরের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হন। ওদিকে, গিনিতে অভ্যুত্থান হয় সেপ্টেম্বরে, আটক হন প্রেসিডেন্ট আলফা কোন্দে। এছাড়া, সুদানে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরকার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এ বছরের অক্টোবরে সামরিক অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক ক্ষমতাচ্যুত ও গৃহবন্দি হন। তবে দেশের ভেতর আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে কয়েক সপ্তাহ পরই তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল করে সামরিক বাহিনী।

এসেছে অকাস, তাইওয়ান-ইউক্রেইন ঘিরে যুদ্ধসাজ

‘কোয়াড’ আগেই ছিল। চীনকে ঠেকাতে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগীয় অঞ্চলে নিজের আধিপত্য বাড়াতে এ বছর নতুন একটি নিরাপত্তা জোটও গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ অকাস জোটে তাদের অংশীদার যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। জোটের বরাতে অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিন পাচ্ছে; এজন্য অবশ্য ফ্রান্সের সঙ্গে আগে করা একটি চুক্তি বাতিলও করতে হয়েছে তাদের। যা প্যারিসের সঙ্গে ক্যানবেরা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কাঁটা হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। অকাস নিয়ে নিউ জিল্যান্ডসহ ওই অঞ্চলের অনেকেই অসন্তোষ গোপন রাখেনি।

তাইওয়ান-চীন উত্তেজনাও এই বছর নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাইপের সেনাদের ওয়াশিংটনের গোপনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, স্বশাসিত দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সফর সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নিয়মিত উপস্থিতি চীনকে ক্রুদ্ধও করেছে। নিজেদের ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশটিকে’ বশে আনতে এ বছর বেইজিংকে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপও বাড়াতে দেখা গেছে। বছরের মাঝামাঝি তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা এলাকায় রেকর্ডসংখ্যক চীনা জঙ্গিবিমানের উপস্থিতিই বোঝাচ্ছে তাইওয়ান নিয়ে চীন কতটা ‘সিরিয়াস’। সামনের বছর এ এলাকায় জটিলতা ও উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের।

চলতি বছর ভূরাজনীতির আরেকটি ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইউক্রেইন সীমান্ত। সেখানে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক সৈন্য উপস্থিতি কিয়েভ এবং এর নেটো মিত্রদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেইনের আশঙ্কা, ডনবাসে যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ফের তাদের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো এ ব্যাপারে রাশিয়াকে সতর্কও করে দিয়েছে। অন্যদিকে, মস্কো বলছে, ইউক্রেইনে হামলা চালানোর অভিপ্রায় নেই তাদের। তবে ইউক্রেইন যদি নেটোর সদস্য হয় এবং নেটো যদি রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশটিতে সেনা বা অস্ত্র মোতায়েন করে সেক্ষেত্রে মস্কোও চুপচাপ বসে থাকবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বেলারুশের দ্বন্দ্ব ২০২১ সালে এসে আরও প্রকাশ্য হয়েছে। ভিন্নমতাবলম্বী এক সাংবাদিককে ধরতে যাত্রীবাহী বিমানকে মিনস্কে নামানো, পোল্যান্ড ও লিথুনিয়ায় ঢুকতে চাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে সৃষ্ট সীমান্ত সংকটে ব্রাসেলসের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রয়াও আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকো টলাতে পারছে না।

ছবি: রয়টার্স

ফের তালেবানের কব্জায় আফগানিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি করার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি ফের তালেবানের কব্জায় যাচ্ছে। কিন্তু তা যে এত সহজে, এত দ্রুতগতিতে হবে তা সম্ভবত অনেকেই ভাবেননি। অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার শেষ করার আগেই মাত্র কয়েক সপ্তাহের অভিযানে আফগানিস্তানের একের পর এক প্রদেশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় কট্টরপন্থি তালেবানরা। কাবুলও বিনা যুদ্ধেই তাদের দখলে যায়। তালেবানের এই পরাক্রম কাবুল বিমানবন্দর থেকে সৈন্য ও মার্কিন সহযোগীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজেও গোলমাল পাকিয়ে দেয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে কাবুল বিমানবন্দরে বোমা হামলা, ভিড়ের চাপে প্রাণ যায় বহু মানুষের।

যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর কিছুটা সময় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সরকার গঠন করে তালেবানরা। তবে অন্তর্বর্তী সরকারে সব অংশের প্রতিনিধিদের রাখা, নারীদের পড়ালেখা ও কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ানো, আগের সরকারগুলোর কর্মী ও সৈন্যদের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ন না হওয়ার যেসব প্রতিশ্রুতি তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আগে-পরে দিয়েছিল, তার বেশিরভাগই তারা রাখেনি। এ নিয়ে তাদের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর বাইরেও এসেছে।

তাদের কট্টরপন্থি সরকার এখন পর্যন্ত কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি; ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফেরা দলটি বিদেশে থাকা আফগানিস্তানের অর্থেও হাত দিতে পারছে না। আফগান বাহিনীর সাবেক সদস্যদের হত্যা-গুমে তালেবান সদস্যদের জড়িত থাকার খবরে আন্তর্জাতিক মহল সম্প্রতি কট্টরপন্থি এ গোষ্ঠীকে সতর্কও করেছে। অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ বিপর্যস্ত আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর দাতাদের সাহায্য বন্ধ হয়ে গেলেও বছরের শেষদিকে ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবেলায় দেশটিতে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তায় কিছু অর্থ ছাড়ে দাতারা রাজি হয়েছে।

মমতার হ্যাটট্রিক, মের্কেলের বিদায়

বছরের শুরুর দিকে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন হলেও প্রায় সবারই চোখ ছিল পশ্চিমবঙ্গের দিকে। নির্বাচনের আগে বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেস হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে আভাস মিললেও শেষ পর্যন্ত মমতার হ্যাটট্রিক সরকার গঠনে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

নিজের আসনে তারই এক সময়কার ‘লেফটেনেন্টের’ কাছে হার তৃণমূল সুপ্রিমোকে খানিকটা বিব্রত করলেও বিজেপির বিরুদ্ধে বড় জয় ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও মমতাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপিবিরোধী জোট গঠনে, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও ঘাসফুলের অবস্থান শক্তিশালী করতে বছরের দ্বিতীয়ভাগ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দৌড়ঝাঁপও ছিল চোখে পড়ার মতো।

ডান-বাম-মধ্যপন্থি ও আরব, সবার মিলিত জোট এ বছর ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রেকর্ড শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। নাফতালি বেনেট ও ইয়ায়ির লাপিদের সমঝোতা ১৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা কট্টর ডানপন্থি এ রাজনীতিককে বিরোধী শিবিরে চলে যেতে বাধ্য করে।

টানা ১৬ বছর দেশ শাসনের পর চলতি বছর জার্মানির চ্যান্সেলর পদ থেকে সরে গেছেন আঙ্গেলা মের্কেলও। তার উত্তরসূরি নির্বাচিত হয়েছেন মধ্য বামপন্থি ওলাফ শলাৎস।

রাশিয়া ও কানাডায় নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরাই ফের তখতে বসেছে। জাপানে বদলেছে প্রধানমন্ত্রী, ইরানের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন রক্ষণশীল ইব্রাহিম রাইসি। পেরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতেছেন বামপন্থি পেদ্রো কাস্তিলিও। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করেছেন বাশাল আল আসাদ। ইরাকে সংসদ নির্বাচনে মুক্তাদা আল সদরের জয় দেশটিতে ইরানপন্থিদের প্রভাব কমাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অস্ট্রিয়ায় এক বছরেই দুইবার চ্যান্সেলর বদলেছে।

পার্লামেন্টে ও দলে সমর্থন হারানোর পর কে পি শর্মা ওলি নেপালের পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট ওই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর শের বাহাদুর দেউবা দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হন।

মুহিইদ্দিন ইয়াসিনের ১৭ মাসের নড়বড়ে সরকার পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হারলে এ বছর মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হন ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব। চলতি বছর কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রাউল কাস্ত্রো। এর মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটিতে দীর্ঘ ছয় দশকের কাস্ত্রো যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।

ছবি: রয়টার্স

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ, ইরান চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা

সলতে তৈরিই ছিল, ছিল কেবল কখন আগুন লাগে তার অপেক্ষা। পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদ নিয়ে ইসরায়েলের আদালতের রায় ঘিরে অসন্তোষ ও কট্টরপন্থি ইহুদিদের জেরুজালেম দিবসের শোভাযাত্রার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে রমজান মাসে জেরুজালেমজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল।

আল-আকসা মসজিদ ও এর আশপাশে কয়েকদফা সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় ১০ মে হামাস গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট ছুড়লে বেধে যায় সংঘর্ষ; ইসরায়েল একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে গাজাজুড়ে তাণ্ডব শুরু করে। তাদের হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবনও। ১১ দিনের লড়াইয়ে প্রায় আড়াইশ মানুষের প্রাণ যাওয়ার পর মিশরের মধ্যস্থতায় এবং জাতিসংঘ ও কাতারের চেষ্টায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ থামায়।

এ বছরও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ দখলে থাকা ফিলিস্তিনি ভূমিতে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব। চলতি বছর তারা পশ্চিম তীরে নতুন এক হাজার ৩০০ ঘর নির্মাণে দরপত্র দিলে এমনকী মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রও তাতে আপত্তি জানায়। সংযু্ক্ত আরব আমিরাত প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলে দূতাবাসও খুলেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দেশটি সফরও করেছেন; আমিরাত ও বাহরাইন এ বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ নৌমহড়াও অংশ নিয়েছে।

এপ্রিলে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার পর জুলাইয়ে ওমান উপসাগরে ইসরায়েলি ব্যবসায়িক জাহাজে হামলা তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।ইরান পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর প্রবল আগ্রহ দেখা গেলেও এ নিয়ে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মার্কিন মিত্রদের অসন্তোষ গোপন নয়।

কট্টর শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে খানিকটা উদার হওয়ার চেষ্টা করা সৌদি আরব এ বছর নারীদের পুরুষ অভিভাবক ছাড়া হজ করার আবেদনের অনুমতি দিয়েছে। মুক্তচিন্তায় উৎসাহ যোগাতে করেছে দর্শন সম্মেলনও। সাড়ে তিন বছরের বিরোধ অবসানের পর এ বছরই খুলেছে কাতার-সৌদি আরব সীমান্ত।

ইয়েমেন যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। বছরজুড়েই সৌদি আরব আর হুতিদের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল; কয়েক বছরের এই যুদ্ধ ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করলেও রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কমতি দেখা যাচ্ছে না।

ইসরায়েলে নেতানিয়াহু যুগের অবসান

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টানা এক যুগের শাসনের অবসান ঘটেছে এ বছর জুনে। দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সরকার গঠনের জন্য আস্থা ভোটে বিরোধী দলগুলোর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ক্ষমতা ধরে রাখার সব আশা শেষ হয় দেশটির সবচেয়ে বেশি সময়ের শাসক নেতানিয়াহুর। এক দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থি আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন নেতানিয়াহু। ক্ষমতায় টিকে থাকতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার পথ বেছে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিদায়ে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ইয়েমিনা পার্টির নেতা নাফতালি বেনেট। অতি কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত বেনেট ইসরায়েলকে একটি ইহুদি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতেই বেশি উদ্যোগী।

প্যান্ডোরার বাক্স খুলল, বহুজাতিকের কর ফাঁকি ঠেকাতে চুক্তি

ফিনসেন ফাইলস, প্যারাডাইস পেপার্স, পানামা পেপার্স এবং লাক্সলিকসের ধারাবাহিকতায় এবছর বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে প্যান্ডোরা পেপার্স। সাবেক-বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক, ব্যবসায়ী, সেলিব্রিটি, ধনকুবেররা অফশোর অর্থনীতির মাধ্যমে কীভাবে তাদের সম্পদ লুকিয়ে রাখেন, কীভাবে কর না দিয়ে কিংবা নামমাত্র দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েন অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ সেই প্যান্ডোরার বাক্স খুলে হইচই ফেলে দিয়েছে। বাক্স থেকে বেরিয়ে আসা নামের মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিন, টনি ব্লেয়ার, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর মতো ‘বিগ শট’ও আছে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকি রোধের উদ্দেশ্যে তাদের কাছ থেকে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর আদায় ও লাভের ন্যায্য অংশ কর হিসেবে দেওয়া নিশ্চিতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে এ বছরই সম্মত হয় বিশ্বের শতাধিক দেশ। এর ফলে গুগল, অ্যাপল, আমাজন ও ফেইসবুকের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলো তাদের আয় আয়ারল্যান্ড বা অন্য কোনো ‘করস্বর্গে’ স্থানান্তরিত করে বেশি মুনাফা করার সুযোগ পাবে না।

ইসরায়েলি একটি কোম্পানির তৈরি স্পাইওয়্যার দিয়ে ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে নজরদারির ঘটনাও সারা বিশ্বেই আলোড়ন তুলেছে। বলা হচ্ছে, পেগাসাস এমনই স্পাইওয়্যার যা কোনো ব্যক্তির ফোনকে তার অজান্তেই নজরদারির ডিভাইস বানিয়ে ফেলতে পারে এবং যাবতীয় সব তথ্য যারা তার ওপর নজর রাখছে তাকে পাঠাতে পারে। স্পাইওয়্যারটি ব্যবহার করে উগান্ডার মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ফোন নম্বর হ্যাক হওয়ার খবরও জানা যায় বছরের শেষভাগে।

জাপানি রাজকুমারী মাকো। ছবি রয়টার্সের

অ্যাসাঞ্জের বিয়ের অনুমতি, বিয়ে করে রাজত্ব হারান রাজকুমারী

২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দেওয়া উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবছর তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী স্টেলা মরিসকে বিয়ে করার অনুমতি পেয়েছেন। লন্ডনের বেলমার্শ কারাগারে বন্দি অ্যাসাঞ্জকে অন্য কারাবন্দিদের মতোই প্রচলিত নিয়মে আবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন কারা গভর্নর। তবে বছরের একেবারে শেষদিকে বহিঃসমর্পণ মামলার আপিলে যুক্তরাষ্ট্র জিতে যাওয়া অ্যাসাঞ্জের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভালোবাসার টানে জাপানের রাজকুমারী ছাড়েন রাজপ্রাসাদ, হারান রাজত্ব। সাধারণ ঘরের প্রেমিককে জীবনসঙ্গী বানাতে রাজমর্যাদা হারানো জাপানের রাজকুমারী মাকোর বিয়েও ছিল এ বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সহপাঠী ও দীর্ঘদিনের বন্ধু কোমুরোকে ২৬ অক্টোবরে বিয়ে করেন তিনি। এরপর কেবল রাজপ্রাসাদই নয়, স্বামীর হাত ধরে জাপান ছেড়ে ভিন দেশে পাড়ি জমান মাকো।

ব্রিটিশ রানিকে সরিয়েছে বারবাডোজ

রাষ্ট্রপ্রধান পদ থেকে ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথকে সরিয়ে দিয়ে, ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ চিহ্নকে মুছে ফেলে চলতি বছর প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বারবেডোজ। ৩৯৬ বছর পর ব্রিটিশ রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে দেশটি। পেয়েছে নিজস্ব পতাকা। বারবাডোজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সান্দ্রা ম্যাসন। বারবাডোজ নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট।

ছবি: রয়টার্স

মঙ্গল আরও কাছে

চলতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মঙ্গল অভিযান লাল গ্রহটিকে ঘিরে আমাদের প্রবল আগ্রহের বিষয়টি নতুন করে জানান দিয়েছে। সাত মাসের যাত্রা শেষে ফেব্রুয়ারিতে নাসার রোভার পারসিভের‌্যান্স নামে মঙ্গলের বুকে প্রাণ অনুসন্ধানে; মে-তে একই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চীনের জুরং। আর আমিরাতের হোপ মহাকাশযান মঙ্গলের কক্ষপথে থেকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

চলতি বছর চীন তাদের তিয়াংগং মহাকাশে স্টেশনের নির্মাণকাজও শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে সরঞ্জাম ও ক্রুদের নিয়ে যেতে বেশ কয়েকদফা পৃথিবীর কক্ষপথে যান পাঠাতে হয়েছে তাদের। টাইমের ‘পার্সন অব দ্য ইয়ার’ এলন মাস্কের স্পেসএক্সের একটি যান এ বছর অপেশাদার ৪ নভোচারিকে নিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে গেছে। পুনর্ব্যবহার্য রকেটে করে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর সফল পরীক্ষা চালায় জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন।

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে নাসার ‘ডার্ট’ গেছে মহাকাশে, রাশিয়াও এ বছর মহাকাশে তাদের উপগ্রহবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

শঙ্খের শেষ যতি, চন্দ্রবিজয়ীর চিরবিদায়

চন্দ্রবিজয়ী অ্যাপোলো-১১ দলের সদস্য মাইকেল কলিন্সের পাশাপাশি এ বছর আমরা হারিয়েছি নারীবাদী আইকন কমলা ভাসিন, বিশ্বের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটার এলিন অ্যাশ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলকে।

জানুয়ারিতে চিরতরে থেমে যায় ল্যারি কিংয়ের কণ্ঠ। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক চুন ডো হোয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে এ বছর। অক্টোবরে মারা যান পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আবদুল কাদির খান। অগাস্টে চলে যান সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ।

এপ্রিলে চিরবিদায় নেন রানি এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপ। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যিনি হেঁটে হেঁটে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে পরিণত হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় প্রতীকে, সেই শতবর্ষী ক্যাপ্টেন টম মুরও কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তেরও মৃত্যু হয়েছে এ বছর। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এপ্রিলে মারা যান কবি শঙ্খ ঘোষ। ৮ দিন পর চলে যান তার স্ত্রীও।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নিধনযজ্ঞের খবর যিনি সবার আগে পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের কাছে, সেই বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সায়মন ড্রিং মারা যান এ বছরের জুলাইয়ে। একই মাসে কান্দাহারে তালেবান-আফগান বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মারা যান সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকী। নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে শান্তিতে নোবেলজয়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্কের মৃত্যু হয় নভেম্বরে। একই মাসে চিরঘুমে যান বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক উইলবার স্মিথ।

ছবি: রয়টার্স

প্রকৃতির চোখ রাঙানি, পাল্লা দিয়েছে দুর্ঘটনাও

দুর্যোগ-দুর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী ছিল এ বছরেরও। ক্যামেরনে জানুয়ারিতে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে নেপালে পাহাড়ি রাস্তা থেকে বাস খাদে পড়ে প্রাণ হারান ৩২ জন; পরের মাসেই বুলগেরিয়ায় পর্যটকদের বহন করা একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ার পর আগুন ধরে গেলে মৃত্যু হয় ৪৫ জনের।

বছরের শুরুতে জাভা সাগরে বিমান বিধ্বস্তে প্রাণ যায় ৬২ আরোহীর। জুলাইয়ে ফিলিপিন্সের বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরে নামার সময় দুর্ঘটনায় পড়লে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়, ডিসেম্বরে ভারতের তামিল নাড়ুতে একটি এমআই সেভেনটিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াতসহ ১৩ জন প্রাণ হারান।

এপ্রিলে তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে মারা পড়ে অর্ধশত। মেক্সিকোতে মে’তে রেল ওভারপাস ধসে নিহত হয় ২৬ জন। জুনে পাকিস্তানে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ যায় ৬৫ জনের। রাশিয়ায় নভেম্বরে খনি দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়। সিয়েরা লিওনে তেলের ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১৪৪ জন নিহত হয়। জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে হাইতিতেও প্রাণ যায় ৭৫ জনের।

এপ্রিলে হাইতিতে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২২৪৮ জন নিহত হয়। জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ১০৮ জন।ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার সেমেরুতে আগ্নেয়গিরির উদগীরনে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণ যায়। মে’তে কঙ্গোতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ২২ জনের মত্যু হয়। ইসরায়েলে এপ্রিলে ধর্মীয় উৎসবে পদদলিত হয়ে ৪৫ জন মারা যায়। জুনে ফ্লোরিডার একটি বহুতল ভবনের একাংশ ধসে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়।

জুলাইয়ে চীনের হেনানে বন্যায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই মাসে ইউরোপের কয়েকটি দেশে তুমুল বৃষ্টির পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ২৪২ জনের। ৪০ বছরের মধ্যে জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি দেখা মহারাষ্ট্রেও ব্যাপক বন্যা, ভূমিধসে আড়াইশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই মাসে আফগানিস্তানের নুরিস্তানে বন্যায় শতাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ ধসে বাধের ওপর পড়ার পর লোকালয় প্লাবিত হয়ে প্রাণ যায় ২০০র বেশি মানুষের।  

বছরের মাঝামাঝি প্রায় কাছাকাছি সময়ে দাবানলে বিস্তৃর্ণ এলাকা পুড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, রাশিয়ার সাইবেরিয়া, তুরস্কের দক্ষিণঞ্চল, গ্রিসের এভিয়া, সাইপ্রাসের। আলজেরিয়ায় অগাস্টে দাবানলে সেনাসহ ৬৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কানাডায় তাপদাহে প্রাণ যায় শতাধিক মানুষের।

জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে ভূমিধসে প্রাণ যায় ৩২ জনের। এপ্রিলে ৩ মাত্রার এক সাইক্লোন ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব তিমুরে ২৭১ জনের মৃত্যু হয়। মে’তে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে স্থলে উঠে আসা ঘূর্ণিঝড়ে তকতের কারণে ভারতে অন্তত ১৬৯ জনের প্রাণ যায়। ওই মাসেই ওড়িশায় আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর তাণ্ডবে প্রাণ হারায় একশর কাছাকাছি মানুষ।

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশীবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা এ বছরও ছিল। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে ঢুকতে চাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীবোঝাই একটি নৌকাডুবিতে ২৭ মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েনেরও সৃষ্টি করেছে। আর বছরের শেষে ডিসেম্বরে ফিলিপিন্সের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সুপার টাইফুন রাইয়ের তাণ্ডবে অন্তত ৩৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

সন্ত্রাসী হামলা

জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আইএস ১১ খনি শ্রমিককে চোখ বেঁধে, গলা কেটে হত্যা করে। তাদের অপরাধ, তারা শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ভুক্ত।

মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মোজাম্বিকের পালমায় আল শাবাব তাণ্ডব চালায়, হত্যা করে অন্তত ১০৮ জনকে। মে’তে কাবুলে আইএসকের গাড়িবোমা হামলায় মৃত্যু হয় ৯০ জনের। অগাস্টে আফগানিস্তানের এই রাজধানীতে একই গোষ্ঠীর আত্মঘাতী বোমা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসহ ১৮৩ জন নিহত হয়।

সামরিক বাহিনীর ভুল হামলায় মৃত্যুর ঘটনাও এবছর বেশ কয়েকটি দেখা গেছে। জানুয়ারিতে মালিতে ফরাসী বাহিনী একটি বিয়েতে বিমান হামলা চালালে ১৯ বেসামরিকসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়। অগাস্টে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী ভেবে ভুল করে এক ব্যক্তির ওপর চালানো ড্রোন হামলায় শিশুসহ ১০ বেসামরিকের মৃত্যু হয়। বছরের একেবারে শেষদিকে নাগাল্যান্ডে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ‘ভুল করে’ চালানো হামলায় ১৩ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

চলতি বছরও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ম্যাস শুটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। মে’তে ক্যালিফোর্নিয়ায় গোলাগুলিতে বন্দুকধারীসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। একই মাসে ব্রাজিলে এক স্কুলে ছুরি হামলায় তিন শিশু, এক শিক্ষক ও এক কর্মচারী মারা যায়।

ছবি: রয়টার্স

মনে রাখার আরও কিছু

শাহরুখের ছেলে গ্রেপ্তার: মাদক-কাণ্ডে এবছর কিংবদন্তি বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের ছেলে গ্রেপ্তর হওয়া ছিল বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। প্রমোদতরীতে অবৈধ মাদক-সহ আটক করা হয় শাহরুখের ছেলে আরিয়ানকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। মুম্বাই থেকে গোয়াগামী জাহাজে আরিয়ান-সহ গ্রেপ্তার হন আটজন। অভিযোগ ছিল, চরস, কোকেন, এমডিএমএ-এর মতো নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়েছে তাদের কাছ থেকে। তারা পরিচয় গোপন করে ওই জাহাজে উঠেছিলেন। তাদের কাছে আগেই খবর ছিল যে, ওই জাহাজে মাদক পার্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এনসিবি রিমান্ডে থাকতে হয় তারকা সন্তান আরিয়ানকে। ছেলের জন্য সব শুটিং বন্ধ করেন শাহরুখ। তিন দিন ধরে মুম্বাই হাইকোর্টে আরিয়ানের জামিন শুনানির পর অবশেষে জামিন মেলে।

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় গণভোট:  তৃতীয়বারের মতো এবং চূড়ান্ত গণভোটের রায়ে এবছর ফ্রান্সের অধীনে থাকারইপাকাপোক্ত সিদ্ধন্ত জানিয়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্ষুদ্র দ্বীপ নিউ ক্যালেডোনিয়া। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে বেশি ভোট দিয়েছে অধিবাসীরা। গত ১৭০ বছর ধরে নিউ ক্যালেডোনিয়া ফ্রান্সের অধীনে আছে। এই দ্বীপপুঞ্জের মানুষ এভাবেই থাকতে চান। যদিও ফ্রান্সের অধীনতা থেকে মুক্তির জন্য সেখানকার আদিবাসিন্দা কানাক সম্প্রদায় রীতিমতো লড়াই করছে। কিন্তু গণভোটে ৯৬ শতাংশের বেশি মানুষ ফ্রান্সে থাকাকেই বেছে নিয়েছে। ২০১৮ এবং ২০২০ সালে দুইবার নিউ ক্যালেডোনিয়ার গণভোটেও একই ফল এসেছে।

জাহাজ আটকে সুয়েজ খাল বন্ধ:  দুই লাখ ২০ হাজার টন কন্টেইনার বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাহাজ প্রবল বাতাস ও ধুলি ঝড়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরে গিয়ে সুয়েজ খালের দক্ষিণাংশের সংকীর্ণ একক লেনে আড়াআড়িভাবে আটকে সপ্তাহখানেকের জন্য বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জাহাজ আটকে যাওয়ার পর থেকে সুয়েজ খালের দুই পাশে অসংখ্য পণ্যবাহী জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। ছয় দিন ধরে ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার পর ২৯ মার্চ উদ্ধারকারী টাগবোটগুলো জাহাজ এভার গিভেনকে পাড়ের চড়া থেকে নামিয়ে ফের ভাসাতে সক্ষম হলে সুয়েজ খাল উন্মুক্ত হয়।

বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রার স্বীকৃতি

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এবছর ব্যবসায়িক কাজে ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনকে বৈধতা দিয়েছে এল সালভাদর। দেশটির কংগ্রেসে এক ভোটাভুটিতে বিটকয়েনকে আনুষ্ঠানিক মুদ্রার এই স্বীকৃতি দেয়া হয়। বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন সিটি নির্মাণের ঘোষণাও এসেছে এল সালভাদরের কাছ থেকে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক