কানাডা অভিবাসনের টুকিটাকি ২৫: এলএমআইএ কী এবং কিভাবে পাওয়া যায়?

কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশে বাস করেন বাংলাদেশি এক প্রবীণ ভদ্রমহিলা। দেশে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকেই আমাকে ফোন দিলেন। তার এক ছেলে দেশে থাকেন; অন্যরা কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে।

এম এল গনি, কানাডা থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Feb 2022, 02:46 PM
Updated : 11 Feb 2022, 02:46 PM

দেশে বসবাসরত ছেলেটি বাদে অন্য চারজনই উচ্চশিক্ষিত। কী কারণে যেন দেশে থাকা ছেলেটি মাধ্যমিক স্কুলের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। তাকে কিভাবে কানাডায় আনা যায় তা নিয়েই বৃদ্ধার চিন্তা সারাক্ষণ। মায়ের মন বলে কথা! এ বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতেই খালাম্মা, মানে, ভদ্রমহিলা আমাকে ফোন দিলেন।

ছেলেটির শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ইত্যাদির বর্ণনা শুনে তাকে কানাডা আনার তেমন সুযোগ নেই জানাতেই খালাম্মা প্রশ্ন করলেন, “কানাডায় লামিয়া নাকি কি একটা আছে, ওটা দিয়ে নেওয়া যাবে না?”

'লামিয়া!' - তাৎক্ষণিক ধরতে পারলাম না তিনি কোন লামিয়ার কথা বলছেন। টরোন্টোতে শাহাদাৎ নামের আমার এক বন্ধুর টুকটুকে লাল পুতুলের মতো সুন্দর একটা কন্যা আছে, যার নাম লামিয়া। কিন্তু, খালাম্মা ওই মেয়েকে চিনবেন এমন কোন যোগসূত্রও খুঁজে পেলাম না। মুরুব্বিকে আবারো প্রশ্ন করে বুঝলাম তিনি আসলে এলএমআইএ বা, লেবার মার্কেট ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (শ্রমবাজারের উপর প্রভাব) নামের একটি কানাডীয় ডকুমেন্টের বিষয়ে ইঙ্গিত করছেন 'লামিয়া' শব্দের মাধ্যমে।

কানাডার বাইরে থেকে কোনও কর্মীকে চাকরি দিয়ে কানাডায় আনার ক্ষেত্রে কানাডার 'এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএসডিসি) বিভাগ' থেকে নিরপেক্ষ বা সম্মতিসূচক সিদ্ধান্ত পেতে হয়। বলা চলে, এটা একধরনের এনওসি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। ইএসডিসি থেকে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত পেলে বিদেশি কর্মী আনার ওই আবেদন আর আগায় না। কোন বিদেশি নাগরিককে ওই পদে চাকরি দেওয়া হলে কানাডার শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে- এমন নির্দেশনাই দেয়া হয় এলএমআইএ আবেদন প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে।

কানাডার অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজার সুরক্ষার পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে কানাডায় নিযুক্ত বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষার জন্য এলএমআইএ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই ডকুমেন্টকে কেউ কেউ সংক্ষেপে এলমিয়া-ও বলে থাকেন; তবে, 'লামিয়া' নামটা খালাম্মার কাছেই প্রথম শুনলাম। তারপরও, একজন অশীতিপর বৃদ্ধা যে কানাডার শ্রমবাজার নিয়ে এতটা খোঁজ-খবর রাখেন তাতেই অবাক হলাম। দেশে থাকা একমাত্র ছেলেটির কারণেই হয়তো তাঁকে এসব জানতে হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতাকেই এলএমআইএ-র জন্য কানাডা সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। নিয়োগকর্তা একবার এলএমআইএ পেয়ে গেলে, সম্ভাব্য কর্মচারী ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন যদি তার কাছে আরো কিছু ডকুমেন্ট, যেমন, একটি কাজের অফার লেটার, চাকরির চুক্তি, অনুমোদিত এলএমআইএ- এর একটি অনুলিপি ও অনুমোদনের নম্বর থাকে। নিয়োগকর্তাই বিনামূল্যে অনুমোদিত এলএমআইএ-এর একটি কপি, কাজের চুক্তি ও জব অফার সম্ভাব্য চাকরিপ্রার্থী বরাবরে পৌঁছে দেন। অতঃপর এসব কাগজপত্র সংযুক্ত করে চাকরি প্রার্থী কানাডায় ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করেন। ব্যতিক্রম ক্ষেত্র ছাড়া অন্যসব ক্ষেত্রে কানাডায় চাকরি করতে হলে কোন বিদেশির ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করা অত্যাবশ্যক।

প্রশ্ন হলো, এলএমআইএ কি টাকা দিয়ে কেনা যায়, বা কেনা উচিত?

উত্তর হচ্ছে 'না, কোনওভাবেই না। এই ডকুমেন্ট বেচাকেনা বেআইনি।' তারপরও কেউ এলএমআইএ ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত হলে তা কানাডার আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তথাপি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা কায়দায় এই ডকুমেন্টটি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছু অসাধু ইমিগ্রেশন পরামর্শক স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় এ অনৈতিক কাজটি করে থাকেন। এ অসৎ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকেন একশ্রেণির অসাধু কানাডিয়ান নিয়োগকর্তা। এরা অস্তিত্বহীন জব অফার ও কাগজপত্র তৈরি করে এলএমআইএ আবেদন দাখিল করে। তারপর, এই অনুমোদিত এলএমআইএ বিদেশি চাকরি প্রার্থীর কাছে চড়াদামে বিক্রি করে।

পরবর্তিতে ওয়ার্ক পারমিটে চাকরি প্রার্থী কানাডায় এসে দেখতে পান এলএমআইএ-তে বর্ণিত তেমন কোন কাজ বা চাকরি আসলে নেই, সবই ভুয়া। ভুক্তভোগী বিষয়টা কানাডার পুলিশের কাছেও রিপোর্ট করতেও সাহস পান না পাছে তাকে কানাডা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এভাবেই শুরু হয় তার কানাডার অনিশ্চিত জীবন। তাই, কেউ অবৈধ পন্থায় এলএমআইএ বিক্রি করতে চাইলে ঘুণাক্ষরেও সে পথে পা দেবেন না। তেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে প্রয়োজনে বিষয়টি আমাকে ইমেইল [info@mlgimmigration.com] করতে পারেন। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে যতটা পারি সহায়তা দেব।

এলএমআইএ নামের এই বিশেষ কাগজটির এতটা গুরুত্ব কেন? গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে, আসল এলএমআইএ পেলে কানাডায় ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আর, একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পেলে দাখিল করা যায় কানাডার পিআর (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট) এর আবেদন। এভাবে একসময় কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ হয়ে যায়। একে বলে, কাজের সূত্রে অভিবাসন। বুঝতেই পারছেন, এ অসাধারণ সুযোগের সেতুবন্ধন রচনা করে এলএমআইএ। 

আগেই বলেছি, সব ধরনের কাজের ক্ষেত্রে এমএলআইএ প্রয়োজন পড়ে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, এলএমআইএ অনুমোদিত হলে তাতে একটা ভ্যালিডিটি তারিখ থাকে যা সাধারণত ছয় মাস। ওয়ার্ক পারমিট (ভিসা) এর আবেদন দাখিল করতে হয় এলএমআইএ কার্যকর থাকাকালীন সময়সীমায়। এলএমআইএ ভিত্তিক ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। এলএমআইএ অনুমোদনপত্রে কোন বিশেষ চাকরিপ্রার্থী/কর্মচারীর নাম থাকতে পারে, বা সুনির্দিষ্ট কোন নাম নাও থাকতে পারে।

এলএমআইএ এর আবেদন দাখিলের আগে কোন চাকরিদাতাকে যে পদে বিদেশি কর্মচারী নিয়োগ দিতে চান সে পদে নিয়োগের জন্য কানাডার অভ্যন্তরে চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে হয়। অর্থাৎ, বিদেশিকে চাকরি দেওয়ার আগে কোন কানাডীয়কে চাকরি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হয়। সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হয়। কোন পদে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে তিনটি মাধ্যমে এ বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হয়, এবং তা কমপক্ষে চার সপ্তাহব্যাপী উন্মুক্ত রাখতে হয়। বিজ্ঞাপনে কী কী বিষয়ের উল্লেখ থাকতে হবে তাও আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। যেমন, কোম্পানির লিগ্যাল নাম, ঠিকানা, পদের নাম, টার্ম অব এমপ্লয়মেন্ট, বেতন, বোনাস, শূন্য পদের সংখ্যা, ইত্যাদি। এসবের কোন একটি বাদ গেলে ওই বিজ্ঞাপন ইএসডিসি-র কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় না।

আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কারও যোগ্যতা চাকরির বিজ্ঞাপনের শর্তাবলীর সাথে মিলে গেলে নিয়োগকর্তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে সেসব প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার। সাক্ষাৎকারের পর উপযুক্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হয়। কানাডার পিআর (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট) বা নাগরিক (সিটিজেন)-দের মধ্য হতে উপযুক্ত কাউকে পাওয়া না গেলে তবেই কোন নিয়োগকর্তা এলএমআইএ আবেদন দাখিল করতে পারেন।

এবার কানাডার ইএসডিসি এলএমআইএ আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনায় এনে থাকে সে বিষয়ে খানিক আলোচনা করা যাক।

এক.  যে কোম্পানি কোন বিদেশি নাগরিককে চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন সেই কোম্পানি আদৌ কোন বিদেশিকে চাকরিতে নিয়োগদানের যোগ্যতা রাখে কিনা তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়। এতে দেখা হতে পারে ওই কোম্পানির বিজনেস লাইসেন্স, আর্থিক অবস্থা, কর পরিশোধের ইতিহাস, অতীতে কোন এমপ্লয়ী বা কর্মচারীর সাথে নিয়োগকর্তার কোন ঝামেলা হয়েছে কিনা, যে পদে বিদেশ হতে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তেমন পদ আদৌ সে কোম্পানির কর্মকাণ্ডের সাথে যায় কিনা, ইত্যাদি।

আমাদের কোম্পানি, এমএলজি ইমিগ্রেশন-এর একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করি যা বিষয়টি বুঝতে সহায়ক হবে। স্বামী-স্ত্রী এবং দুইজন স্থানীয় কর্মচারী সমন্বয়ে পরিচালিত এক কানাডীয় কোম্পানি তাদের অফিসের জন্য 'সিনিয়র ম্যানেজার' পদে এলএমআইএ-র আবেদনের জন্য সম্প্রতি আমাদের সেবা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। কোম্পানির কাগজপত্র এবং কাজের ধরন দেখে জানতে চাইলাম এতো ছোট কোম্পানির জন্য 'সিনিয়র ম্যানেজার' পদে লোক দরকার হবে কেন?

স্বামী-স্ত্রী ওই কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজার পদে কাজ করছেন। তাদের বাদ দিলে থাকেন মাত্র দুই কর্মচারী। এই দুইজন কর্মচারীকে পরিচালনা করতে নতুন সিনিয়র ম্যানেজার কেন দরকার- এর গ্রহণযোগ্য উত্তর তারা দিতে পারলেন না। বাস্তবতা হলো, বিদেশি কর্মচারী নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য তাদেরই এক আত্মীয়কে অন্য দেশ থেকে কানাডায় আনার ব্যবস্থা করা; প্রকৃতপক্ষে এমন পদে লোক নিয়োগ তেমন জরুরী নয়। 

এক্ষেত্রে এলএমআইএ-র আবেদন দাখিল করা হলে ইএসডিসি অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিষয়টি পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়ার পর ওই কোম্পানি তাদের সেই 'সিনিয়র ম্যানেজার' নিয়োগ দেওয়ার অবস্থান হতে সরে দাঁড়ালেন। কিন্তু এ ধরনের আবেদন দাখিলে নিয়োগকর্তাকে এক হাজার ডলার ফি জমা দিতে হয়। সঠিক পরামর্শে নিয়োগকর্তার সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচে।

দুই.  একজন বিদেশি নাগরিককে যে বেতন অফার করা হয় তা কানাডার শ্রমবাজারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তাও ইএসডিসি পর্যালোচনা করে। অনেকসময় একজন বিদেশি খুব কম বেতনেও কানাডায় এসে চাকরি করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। কারণ, তার মাথায় থাকতে পারে ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন পাবার আকাঙ্ক্ষা। তথাপি, একজন কানাডিয়ান নিয়োগকর্তা চাইলেই কোন বিদেশিকে অযৌক্তিক নিম্ন বেতনে কানাডার চাকরিতে নিয়োগ দিতে পারেন না। একই যুক্তি খাটে উচ্চ বেতনের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ, ওই বিদেশির বেতন হতে হবে কানাডার শ্রমবাজারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটা যৌক্তিক পরিসরের মধ্যে।

তিন. চাকরিপ্রার্থী বিদেশি নাগরিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি, চাকরির বিজ্ঞাপনে বর্ণিত পদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তাও যাচাই করে দেখা হয়। যেমন ধরুন, ভিনদেশের একজন অ্যাকাউন্টেন্ট যদি কানাডায় রেস্টুরেন্ট কর্মী পদে আবেদন করেন তবে তা প্রশ্নের মুখে পড়বে। ইএসডিসি-তে যারা কাজ করেন তারা প্রার্থীর যোগ্যতা ও কাগজপত্রের বাইরে গিয়ে 'প্রশ্নবোধক' কিছু করেন বলে আমি কখনো শুনিনি। অযোগ্য বিদেশি শ্রমিক, বা অনুপযুক্ত কানাডিয়ান নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে এলএমআইএ আবেদনে সফলতা অসম্ভব। 

কানাডীয় ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট (আরসিআইসি) হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো আইনগত খুঁটিনাটি পরীক্ষানিরীক্ষা করে যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত বিজ্ঞাপন ও এলএমআইএ আবেদন দাখিলে নিয়োগকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজনে চাকরি প্রার্থীদের রেজিউমি বাছাই ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ কাজে নিয়োগকর্তাকে বিশেষজ্ঞ কারিগরি সহায়তা দেওয়া। কানাডার আইন অনুযায়ী একজন কনসালটেন্ট এ কাজে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার জন্য চাকরিপ্রার্থী থেকে কোন প্রকার ফি গ্রহণ করতে পারেননা। নিয়োগকর্তাও চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চাকরিপ্রার্থী হতে কোন প্রকার অর্থ দাবি করতে পারেন না। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে তা তথ্য কানাডার নিয়ম পরিপন্থি। আবারও বলি, এলএমআইএ কোনওভাবেই বিক্রিযোগ্য নয়।

উপরের আলোচনা থেকে পাঠকের মনে হতে পারে বিদেশিদের চাকরিতে নিয়োগের ব্যাপারে কানাডা বাড়াবাড়ি রকমের কড়াকড়ি আরোপ করে কানাডায় বিদেশিদের কাজ করতে অনুৎসাহিত করছে। এ ধারণা অমূলক। মূলত এলএমআইএ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডা সেদেশের নাগরিকদের শ্রম-অধিকার, নিয়োগকর্তার উপযুক্ততা এবং চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা- এই তিনটি বিষয় যুগপৎ নিশ্চিতকরণের প্রচেষ্টা চালায়।

সত্যিকার অর্থে, কানাডার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতেই দক্ষ বিদেশি শ্রমিক একান্ত প্রয়োজন। বলা চলে, কারও প্রতি দয়া বা সহানুভূতি দেখিয়ে নয়, নিজেদের প্রয়োজনেই কানাডা অন্যদেশ থেকে উপযুক্ত কর্মী আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বিদেশিদের একটি বড়ো অংশ পরবর্তীতে কানাডায় পিআর স্ট্যাটাস অর্জন করে সপরিবারে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, এবং একইসাথে, কানাডার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অমূল্য অবদান রেখে চলেন।

এ লেখা আর দীর্ঘ না করি। কানাডায় পড়াশোনা, বা ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোনও বিশেষ প্রশ্ন থাকলে আমাকে নিচের ইমেইল ঠিকানায় জানাতে পারেন। পরের কোনও লেখায় আপনার আগ্রহের প্রতিফলন ঘটানোর প্রয়াস থাকবে। তবে, বর্তমান পর্বসহ এ সিরিজের অন্য পর্বগুলোতে কানাডা ইমিগ্রেশন বিষয়ে যে সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে তা যেন কোনভাবেই আইনি পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা না হয়। কেননা, সুনির্দিষ্ট আইনি পরামর্শ দেওয়া হয় ব্যক্তিগত সাক্ষাতে, পত্রিকার আলোচনায় নয়।

এছাড়া, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম- এ নিয়মিত চোখ রাখুন কানাডা ইমিগ্রেশন নিয়ে আমার নতুন নতুন লেখা পড়তে। ভবিষ্যতে আপনাদের সাথে আরো অনেক মূল্যবান তথ্য সহভাগের প্রত্যাশা নিয়ে আজ এখানেই শেষ করি।

লেখক: কানাডীয় ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট, আরসিআইসি।

ইমেইল: info@mlgimmigration.com; / ফেইসবুক: ML Gani

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!

এ সিরিজের বাকি লেখা:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক