কানাডা অভিবাসনের টুকিটাকি- ০৭: বিয়ে করে কানাডা যেতে চান?

সপ্তাহ দুয়েক আগে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম এভাবে, 'গত দু'দশক ধরে আমি বিবাহিত। তিন সন্তান নিয়ে আমরা সুখেই আছি।' হঠাৎ এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার পেছনে মজার এক কাহিনী আছে। কাহিনীটি শুনুন এ লেখার শুরুতেই।

এম এল গনি, কানাডা থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Oct 2020, 02:55 AM
Updated : 5 Oct 2020, 02:55 AM

বাংলা ভাষাভাষী কানাডার রেজিস্টার্ড ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট (আরসিআইসি) হবার সুবাদে আমার সাথে বাংলাদেশ হতে কানাডায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। সুপর্ণা (ছদ্মনাম) নামের এক ভদ্রমহিলা আমাকে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে সেদিন এ বার্তা পাঠালেন, 'ভাইয়া, কানাডা যেতে চাই। হেল্প করবেন?' উত্তরে জানালাম, 'অবশ্যই, সে কাজই তো আমি করি।' তার পাল্টা প্রশ্ন, 'তাহলে কিভাবে আপনার সাহায্য পেতে পারি?' তাকে আমাদের কোম্পানি এমএলজি কানাডা ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' এর ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে বললাম, 'এই ঠিকানায় আপনার বেসিক তথ্য, যেমন, পড়াশোনা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরিবারের সদস্যদের কিছু বর্ণনা, ইত্যাদি পাঠান। আমি দেখে আপনাকে পাল্টা ইমেইলে জানাবো।'

সুপর্ণা পরদিন আমাকে আবার ম্যাসেজ দিলেন, 'ভাইয়া, আমি ইনফরমেশন পাঠিয়েছি। দেখেছেন?' দৈনিক গড়ে বাংলাদেশ হতে অন্তত চল্লিশ/পঞ্চাশটি ইমেইল এসে জমে থাকে। সব ইমেইল চেক করতে অনেকসময় দুইদিন লেগে যায়। তার অনুরোধে ইমেইল চেক করে তারটি খুঁজে পেলাম। তথ্য বলতে সুপর্ণা আমাকে যা পাঠিয়েছেন তা হলো, তার হেভি মেকআপ করা স্লিভলেস ব্লাউজ পরা কয়েকটা ছবি। কিছু ছবিতে সাত-আট বছর বয়সী একটা মেয়ের ছবিও দেখা যাচ্ছে।

তথ্য বলতে এটুকুই, আর কিছু না। ওসব দেখে তার কাছে জানতে চাইলাম ছবিগুলো তার কিনা, এবং ছোট্ট মেয়েটিই বা কে? সুপর্ণা ফোনে কথা বলতে চাইলেও আমি রাজি হলাম না। টেক্সট মেসেজেই জানালেন, তিনি একজন ডিভোর্সি এবং মেয়েটি তার। যেকোনও শর্তে তিনি কানাডা যেতে আগ্রহী বলে জানালেন। ঢাকায় তার একটি দামি ফ্ল্যাট আছে। প্রয়োজনে তা দিতেও রাজি বলে জানালেন। যা বুঝার বুঝে নিলাম; তাই, কথা আর বাড়ালাম না। এর মাস তিনেক আগে প্রায় অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। তা আর এখানে লিখতে চাই না।

বয়সে তরুণ দেখে আরো অনেকে হয়তো আমাকে 'ইয়ে' করে কানাডা আসার স্বপ্ন দেখছেন। সে চিন্তা হতেই উপরের স্ট্যাটাসটি দেওয়ার চিন্তা মাথায় এলো। ধারণা ছিল, ওটা দেখে সুপর্ণারা বুঝবে আমার বিয়ে হয়েছে, পুত্র-কন্যাও আছে, আছে একটি সুখী পরিবার। পোস্টটি দিয়ে আমি ফেইসবুক থেকে বেরিয়ে কাজে মন দিলাম। ঘণ্টা দুয়েক পর ফেইসবুকে ঢুকে দেখি শ'দেড়েক শুভানুধ্যায়ী ইতোমধ্যে আমার শুভবিবাহ বার্ষিকী জানিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে ফেলেছেন। হায়রে বিপদ! কোন্ চিন্তা হতে পোস্ট দিয়ে কী বিপদে পড়ে গেলাম ভাবতে পারেন? আমাকে এই বিপদে ফেলেছে কিন্তু বিপদ সাহা নামের এক অনুজপ্রতিম বন্ধু। বিপদই প্রথম কমেন্টে লিখে, 'শুভবিবাহ বার্ষিকী গনি ভাই।'

কেবল আমি নই, কানাডায় বসবাসকারী অনেকেই বাংলাদেশসহ অন্যান্য অনেক দেশ হতে আকর্ষণীয় উপহারসহ বিবাহের প্রস্তাব পান। বিয়ের এ আগ্রহ কিন্তু ভালোবাসার কারণে নয়। বিয়ের মাধ্যমে যে সহজে কানাডা প্রবেশ করা যায় তার সুযোগ নিতে। তারমানে, এটা হলো ‘ম্যারিজ ফ্রড’, বা বিবাহ-প্রতারণা। ম্যারেজ ‘ফ্রড’ যে শুধু কানাডার বাইরের দেশের মানুষ করে তা কিন্তু না। কানাডার অনেক নাগরিকও মোটাদাগের অর্থকড়ি কামানোর জন্য নিজ উদ্যোগেও অনেক সময় এসব অপকর্ম করে থাকেন। এমন এক কাহিনী শুনুন এবার। ধরুন, ভদ্রলোকের নাম সুমন।

সুমন সাহেব কানাডা এসেছেন নব্বই দশকের শুরুতে, রিফিউজি হিসেবে। তখন বয়সে খুবই তরুণ ছিলেন; বিশ-বাইশ হবে হয়তো। কয়েক গার্লফ্রেন্ড বদলের পর বাংলাদেশ থেকে একটা মেয়েকে বিয়ে করে এনেছিলেন। তাদের ঘর আলো করে এলো দুই সন্তান। ভালোই চলছিল। কিন্তু, এরই মাঝে সুমন সাহেব যে রেস্টুরেন্টে কাজ করেন সেখানকার অপর এক নারী সহকর্মীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন। এর জেরে বিয়ে ভেঙে গেল। বাচ্চারাও সাবালক হয়ে যার যার গার্লফ্রেন্ডের হাত ধরে বাবাকে ছেড়ে চলে গেল। সুমন সাহেব আজ এই গার্লফ্রেন্ড, কাল ওই গার্লফ্রেন্ড করে সময় কাটাতে লাগলেন।

এরই মাঝে তিনি দেশে গেলে তার এক আত্মীয়ার মাধ্যমে তার অর্ধেক বয়সী এক ডিভোর্সি নারীর সাথে পরিচিত হলেন। পরিচয় থেকে সখ্যতা, তথাকথিত প্রেম, বিয়ে সবই হয়ে গেলে মাত্র দুই মাসেই। তারপর সুমন সাহেব যথারীতি কানাডায় ফিরে এলেন। ওদিকে নববিবাহিতাকে জানিয়ে এসেছেন, কাগজপত্র ঠিক হতে বছর খানেক লাগবে, তখন তাকে নিয়ে আসা যাবে। ডিভোর্সি মেয়েটির বাবা ব্যবসায়ী। তাই তিনি নিজ খরচেই সুমন সাহেবের কানাডা-বাংলাদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করলেন প্রতি তিন-চার মাস পরপর। পরিবারটি চাইছিলেন এ যুগল পরষ্পর থেকে অনেক দূরে বসবাস করলেও তারা যেন নিজেদের একে অন্যের কাছেই আছেন মনে করেন তেমন অবস্থা নিশ্চিত করতে। প্রতিবার দেশে গেলে সপ্তাহ দুয়েক জামাই আদরে কাটিয়েই সুমন সাহেব কানাডায় ফেরেন। আর, কানাডায় ফিরে গার্লফ্রেন্ড তো আছেই। রীতিমতো সৌদি প্রিন্সদের আরাম-আয়েস আর কি!

এভাবে একে একে তিনবছর পেরিয়ে গেলেও সুমন সাহেবের নতুন বিবাহিত স্ত্রীকে আর কানাডা আনা হয়না। কাগজ তৈরি হতে নাকি সময় লাগছে, এই হলো সুমন সাহেবের অজুহাত। সঙ্গত কারণেই মেয়ের পক্ষ সুমন সাহেবের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলো। পরিচিত কেউ একজনের মাধ্যমে অবশেষে সুমন সাহেবের কানাডার গার্লফ্রেন্ডের যাবতীয় তথ্য গেল তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের কাছে। সুমন সাহেবের শ্বশুরপক্ষ আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে যোগাযোগ করলেন আমার সাথে। কথা হলো ওই পরিবারের সাথে। সবকিছু শুনে জানতে চাইলাম তারা এই সম্পর্ক রাখতে চান কি চান না? এতকিছুর পরও মেয়েটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে পরিবারটি সম্পর্ক রাখার পক্ষেই সিদ্ধান্ত জানালেন। তারা জানতে চাইলেন, ইমিগ্রেশন পরামর্শক হিসেবে আমি কিভাবে এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারি?

যে বন্ধু আমাকে ঘটনাটি জানিয়ে পরিবারটির সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিলেন তাকে পরামর্শ দিলাম সুমন সাহেবের সাথে কথা বলতে। তাকে বলেছি সুমন সাহেবকে বলতে, যত দ্রুত সম্ভব তিনি যেন তার নববিবাহিত স্ত্রীকে কানাডায় আনার উদ্যোগ নেন, নইলে আমি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো।

এর সপ্তাহ দুয়েক পর সেই সুমন সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন, আর দেরি হবে না, তার স্ত্রী তিন-চার মাসের মধ্যেই চলে আসবে। সময় আরো মাস দুয়েক বেশি লাগলেও শেষতক তার নতুন স্ত্রী কানাডায় এসেছেন। যাক, তিন চার বছরের নিদারুণ শোষণের পরও মেয়েটি যে কানাডায় এসে নতুন সংসার শুরু করতে পেরেছে তাতেই আমার আনন্দ। এই পরিবার হতে আমি কিন্তু এক কাপ কফিও খাইনি। খাবোই বা কেন, আমার তো কিছু করতে হয়নি?

কানাডায় ইমিগ্রেশন পাবার উদ্দেশ্যে বা, অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করে দেবার উদ্দেশ্যে যেসব বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সেসবকে কানাডা ইমিগ্রেশনের ভাষায় 'ম্যারিজ ফ্রড' বলা হয়। কানাডার আইনে এটি একটি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। এর সাজা হতে পারে এক লাখ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এবং সে সাথে পাঁচ বছরের জেল। সাজার মাত্রা দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না, এটা কোন ছোটোখাটো অপরাধ নয়।

‘ম্যারিজ ফ্রড’ করে কেউ কানাডায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও কানাডা কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্তে প্রতারণার বিষয়ে প্রমাণ পেলে স্বামী বা স্ত্রী হয়ে অন্যদেশ হতে আসা ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে। এর সাথে দেওয়া হয় কানাডায় প্রবেশে অন্তত পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা।

কানাডার কোন পিআর বা, সিটিজেন অন্যদেশ থেকে কাউকে বিয়ে করে কানাডায় আনলে কমপক্ষে তিন বছরের জন্য তার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকেন। এই তিন বছর অন্যদেশ হতে কানাডায় আসা ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে কোনও কারণে সংসার করতে রাজি না থাকলেও এ বাধ্যবাধকতার ব্যতিক্রম ঘটে না। এ সময়কালে কোন কারণে বিদেশ হতে কানাডায় প্রবেশ করা ব্যক্তি কানাডার সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স বা কানাডা সরকারের অন্য কোন আর্থিক সুবিধা ভোগ করে থাকলে, সে অর্থ কানাডা সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও থাকে যিনি এই ব্যক্তিকে বিয়ে করে কানাডায় এনেছেন তার উপর।

কোন কানাডিয়ানের কাছে কানাডা সরকারের এ ধরনের অর্থ পাওনা থাকলে তা শতভাগ পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুনভাবে কোন স্বামী বা স্ত্রীকে স্পনসর করার সুযোগ দেওয়া হয় না। এবার বুঝুন, কানাডার বাইরে থেকে কাউকে বিবাহ করে কানাডায় নিয়ে আসা কতখানি হিসেবে কষে করা উচিত। তড়িঘড়ি করে এ ধরনের বিবাহ সম্পাদন কোনওপক্ষের জন্য শুভ নয়।  বিয়ের আগে যথেষ্ট সময় নিয়ে একে অন্যকে ভালোভাবে জানুন। অন্যথায়, পরবর্তীতে সমূহ বিপদ হতে পরে।

অপরপক্ষে, যিনি কানাডিয়ানকে বিবাহ করে কানাডায় প্রবেশ করেছেন তারও দায়বদ্ধতা থাকে। তিনি চাইলেই আগের স্বামী বা স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে নতুনভাবে কারো সাথে গাঁটছড়া বেঁধে তাকে কানাডায় আনার উদ্যোগ নিতে পারেন না। নতুনভাবে কাউকে বিয়ে করে তাকে স্পন্সর করে কানাডায় আনতে কমপক্ষে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়। ‘ম্যারিজ ফ্রড’ নিরুৎসাহিত করতেই এ ব্যবস্থা। আমাদের সবার মনে রাখা দরকার, স্পনসরশিপ হলো কানাডা সরকারের সাথে একটি লিগ্যাল কন্ট্রাক্ট। এ কন্ট্রাক্ট বা চুক্তিকে হালকাভাবে নেবার সুযোগ নেই। এধরনের ঝামেলায় পড়ে কানাডায় অনেক মানুষ হতাশার অতল গহ্বরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। আপনি যেন তাদের একজন না হন।

দুই পক্ষের যোগসাজসে পরষ্পর ইমিগ্রেশন এবং আর্থিক সুবিধা পাবার আশায় যে বিয়ে হয় তাকে ইমিগ্রেশনের ভাষায় বলে 'ম্যারিজ অব কনভেনিয়েন্স,' যা আইনবিরোধী। কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসাররা সন্দেহ হলে, বা অভিযোগ পেলে বিভিন্ন পন্থায় সত্য জানার চেষ্টা চালান। যেমন, অতি সতর্কতার সাথে বিভিন্ন ডকুমেন্ট চেক করা, আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা, আলাদা আলাদাভাবে দুই পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এমনকি, যে ঠিকানায় তারা বসবাস করেন বলে রেকর্ডে আছে সেখানে সরজমিনে লোক পাঠিয়ে দেখা, ইত্যাদি। এতো কিছুর পরও ‘ম্যারিজ ফ্রড’ যে একেবারেই হচ্ছে না তা কিন্তু নয়।

যাক, এ লেখা আর দীর্ঘ না করি। কানাডায় পড়াশোনা, স্পনসরশিপ বা ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোনও বিশেষ প্রশ্ন থাকলে আমাকে নিচের ইমেইল ঠিকানায় জানাতে পারেন। পরের কোনও লেখায় আপনার আগ্রহের প্রতিফলন ঘটানোর প্রয়াস থাকবে। এছাড়া, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম- এ নিয়মিত চোখ রাখুন কানাডা ইমিগ্রেশন নিয়ে আমার লেখা পড়তে। আপনাদের সাথে আরো অনেক মূল্যবান তথ্য সহভাগের আগ্রহ নিয়ে আজ এখানেই শেষ করি।

লেখক: কানাডীয় ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট, আরসিআইসি।

ইমেইল: info@mlgimmigration.com

লেখক: কানাডীয় ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট, আরসিআইসি।

ইমেইল: info@mlgimmigration.com

এ সিরিজের বাকি লেখার লিংক:

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক