কণ্ঠশিল্পী মঞ্জুরের বর্ণনায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আখ্যান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪তম বার্ষিকী উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণাদায়ী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সেই সময়কার ভূমিকা তুলে ধরেছেন মঞ্জুর আহমেদ, যিনি সে সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

লাবলু আনসার, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Dec 2015, 07:54 PM
Updated : 16 Dec 2015, 07:54 PM

বিজয় দিবস উপলক্ষে রোববার নিউ ইয়র্কে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চার প্রবাসী শিল্পীকে নিয়ে এক আয়োজনে যুদ্ধদিনের স্মৃতি তুলে ধরেন মঞ্জুর।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত ২১ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত মঞ্জুর আহমেদ প্রত্যাশা করেছেন গেজেটের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের স্বীকৃতি।

একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সর্বপ্রথম আমরা ‘বাংলাদেশ সঙ্গীত শিল্পী সংস্থা’গঠন করেছিলাম। এরপর আব্দুল জব্বারের পরামর্শে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শিল্পী গোষ্ঠী’ হয়।

“সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামানসহ তিন মন্ত্রী এসে আমাদের এ সংগঠনের ছোট্ট একটি কমিটি দাঁড় করিয়ে দেন। সভাপতি ছিলেন এমএনএ আবুল খায়ের। সেক্রেটারি করা হয় কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারকে। জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়েছিলেন আরেক কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ। আমাকে করা হয় সাংগঠনিক সম্পাদক।”

সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায়  সব ধরনের কাগজপত্র  তাকেই সংরক্ষণ করতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “চার সদেস্যের এই কমিটির মধ্য দিয়েই আমরা ভারত সরকারের সহায়তায় বিভিন্ন রাজ্যে সফর করেছি তহবিল সংগ্রহের জন্যে। আমাদের ১৬ সদস্যের একটি টিম হয়েছিল। ব্যারিস্টার বাদল রশীদ, এডভোকেট নূরল কাদের খান এবং সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট করেছি।

“শিল্পীরা ছিলেন আব্দুল জব্বার, আপেল মাহমুদ, শহীদ হাসান, মাজহারুল ইসলাম, স্বপ্না রায়, নমিতা ঘোষ, রমা ভৌমিক, অরুণা সাহা, মাধুরী আচার্য। তবলায় শান্তি মুখার্জি, দোতারায় ছিলেন অবীনাশ শীল এবং সর্দার আলাউদ্দিন আহমেদ। আরেকজন ছিলেন তবলায়, তার নাম ভুলে গেছি।”

বিজয় দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের  সঙ্গে চার কণ্ঠশিল্পী এবং উপস্থাপক সুবীর নন্দী। ছবি-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

মঞ্জুর আহমেদ বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীর মধ্যে আরও ছিলেন রথীন্দ্রনাথ রায়, অজিত রায়, রঞ্জন ঘটক, কাদেরি কিবরিয়া, অরুপ রতন চৌধুরী, মোশাদ আলী, মফিজ আঙ্গুর, শাহ আলী সরকার, রঙ্গলাল দেব চৌধুরী, প্রবাল চৌধুরী, কল্যাণী ঘোষ, উমা চৌধুরী, রূপা খান, মালা খান, অরূণা সাহা, মো.শাহ বাঙালি, আব্দুল গণি বুখারি, মোশারফ হোসেন, মোকসেদ আলী খান, অনুপ ভট্টাচার্য, মো. রফিকুল আলম, রেজাউল করিম, আবু নওশের, সুজেয় শ্যাম, রুমো খান, দীলিপ সোম, মলয় কুমার গাঙ্গুলি, গুপি বল্লভ বিশ্বাস, সুবল দত্ত, সুনীল দত্ত, শেখ সাদী খান, লাকী আখন্দ, নওয়াজেশ আলী ও মহিউদ্দিন হায়দার খোকা।

“এই ৪২ জনের বাইরে আরও দুয়েকজনের নাম থাকতে পারে। তবে তা কোনোভাবেই ৪৫ এর বেশি হবে না,” বলেন তিনি।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের তালিকা করার দাবি জানিয়ে মঞ্জুর বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় যেমন অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের ১২ নম্বর সেক্টর হিসেবে পরিচিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তালিকাতেও ভুয়াদের সংযোজন ঘটেছে। শিগগির এটা সংশোধন করা উচিত সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে।”

মঞ্জুর কাদের বলেন, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল’- গোবিন্দ হালদারের লেখা এই গণসঙ্গীতটি তিনিই নির্বাচন করেছিলেন সুর করার জন্যে।

“সর্বপ্রথম ১২ জন শিল্পী গেয়েছি সমবেত কণ্ঠে। প্রথমবারেই রেকর্ড করা হয়েছিল কলকাতার ছোট্ট একটি কক্ষে।”

রাজনৈতিক কারণে যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করেছে তাদের বিচারের দাবি জানান একাত্তরের এই কণ্ঠযোদ্ধা।

রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মো. আনোয়ার হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।