এরশাদের ‘দুঃখগাথা’

সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে না পারার জন্য নিজের অন্তর্গত বেদনাবোধের কথা তুলে ধরলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2013, 11:50 AM
Updated : 3 Dec 2013, 11:57 AM

আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বদলের ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের দুঃখবোধের কথা তুলে ধরেন তিনি।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো এই সামরিক শাসক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,“ তোমরা সবসময় বলো, আমি কথা ঠিক রাখি না। সকালে এক কথা বলি, বিকেলে আরেক কথা বলি।

“এটা কিছুটা হলেও সত্য। কিন্তু আমার অবস্থা তোমরা বুঝতে চাও না। আমার দুঃখের কথা তোমরা শুনতে চাও না।”

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের হয়ে অংশ নেয় এরশাদের জাতীয় পার্টি। এরপর তিনি মহাজোট ছাড়ার কথা বলতে থাকেন।

নির্দলীয় সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলে এরশাদও ঘোষণা দেন সব দল অংশগ্রহণ না করলে তিনিও নির্বাচনে গিয়ে ‘জাতীয় বেঈমান’ হওয়ার ঝুঁকি নেবেন না। 

কিন্তু এরপর আগের সিদ্ধান্ত বদলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সর্বদলীয়’ সরকারে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি, নির্বাচনে মনোনয়নপত্রও দাখিল করেন এরশাদ। এনিয়ে দলের মধ্যেই বিভেদ দেখা দিলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর আহমেদকে বহিষ্কারও করেন তিনি।

মঙ্গলবার আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ আগের সিদ্ধান্ত বদলে ঘোষণা দেন, সব দল অংশ না নেয়ায় নির্বাচনে অংশ নেবে না জাতীয় পার্টি। দলের প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।

এরশাদ বলেন, “আমার সম্পর্কে লেখার আগে তোমাদের বুঝতে হবে, আমি যাই করি আমার পার্টির জন্য করি। পার্টিকে টিকিয়ে রাখার জন্য করি। আমি না থাকলে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব থাকবে না।

নিজের ‘দুঃখ’ উপলব্ধি করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে বন্দি করা হয়েছিল। অনেক অবিচার, অপমান, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে রাজনীতি করছি।

“১৯৯০ সাল থেকে মুক্তভাবে রাজনীতি করতে পারিনি। আমার নামে ৭৪টি মামলা দেয়া হয়েছে। গত ২২ বছরে আওয়ামী লীগ এসেছে, বিএনপি এসেছে..আমার মামলাগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি।”

কারাবন্দি জীবনের কথা তুলে ধরে এরশাদ বলেন, “জেলে যখন ছিলাম; একবার রোজার মাসে ইফতারের সময় একটু মিষ্টি খেতে চেয়েছিলাম, আমাকে দেয়া হয়নি।

“আমি জেলে থাকার সময় আমার ছেলেকে কোনো স্কুলে ভর্তি হতে দেয়া হয়নি। তার জীবন থেকে আড়াই-তিন বছর হারিয়ে গেছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক