অগণতান্ত্রিক এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না: ফখরুল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে দেশে ‘অগণতান্ত্রিক’ একটি পরিবেশ তৈরি করেছে দাবি করে তা বজায় রেখে নির্বাচনে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Dec 2013, 11:32 AM
Updated : 1 Dec 2013, 11:32 AM

রোববার এক বিবৃতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘তথাকথিত’ তফসিল ঘোষণার পরও আইন ভাঙার অভিযোগ করেন।ৎ

তিনি ঘোষিত তফসিল স্থগিত করে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। ‘একতরফা পাতানো নির্বাচন’ প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

নিরর্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে টানা অবরোধের মধ্যে রোববার দেয়া ওই বিবৃতিতে বর্তমান অবস্থায় বিরোধী দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মির্জা ফখরুল।

সহিংসতার মধ্যদিয়ে সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এতে সহিংসতায় ২০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, গাড়ি পোড়ানোয় অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন অনেকে।

রাজধানীতে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় দুটি মামলা দায়েরের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা মির্জা ফখরুলের এটি প্রথম বিবৃতি। প্রথম দফায় ৭১ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচির পর নিহতদের স্মরণে গত শুক্রবার বিকালে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে গায়েবানা জানাজায় সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে।

বিরোধী দলের কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে নেতাদের গ্রেপ্তার, সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “এই রকম চরম অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নই উঠতে পারে না।”

এজন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে ‘চিরস্থায়ী’ করার উদ্দেশ্যে দেশে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিএনপি নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে এলেও ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠন করে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে তাতে বিএনপিকেও যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করে।  

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের পুনর্গঠিত বেআইনি এই সরকার অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র শাসনে তাদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

“সকল আইন ভেঙে তথাকথিত তফসিল ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীবর্গ সরকারি সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে চলছে, নীতি নির্ধারণী  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, চুক্তি স্বাক্ষর করছে।”

তফসিল ঘোষণা করে পরিস্থিতি সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে তিনি বলেন,“এর বিরুদ্ধে সমগ্র জাতি যখন সোচ্চার হয়ে উঠেছে, তখন সরকার জনগণের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমন করবার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের দলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা প্রদান ও গ্রেপ্তার করছে।”

ফাইল ছবি

ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, “ঘোষিত তফসিল স্থগিত করুন এবং সকল দলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।”

“অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষ একতরফা পাতানো নির্বাচন মেনে নেবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তারা আদায় করবে,” হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

‘দমনে বেগবান হবে আন্দোলন’

দমনপীড়নে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে সঙ্কট ‘অবসানে’  প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।

রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। আত্মগোপনে থেকেই টেলিফোন ও বিবৃতি দিয়ে দলের অবস্থান দেশবাসী ও নেতা-কর্মীদের জানাচ্ছেন তিনি।

সালাহউদ্দিন রোববার টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলে দিতে চাই, শত দমন-পীড়ন, হত্যা-নির্যাতন ও মামলা-হামলায় চলমান আন্দোলন আরো বেগবান করবে।

“সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে, সব নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিন। সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিন। সঙ্কট সমাধানে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করুন।”

সংলাপ নিয়ে মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ অভিহিত করে সালাহউদ্দিন বলেন,“মহাজোটের অবৈধ সরকার দেশে একরতফাভাবে প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। পদলেহী মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে সেই আয়োজন সমাপ্তপ্রায়।

“একদিকে সরকার মুখে সংলাপের কথা বলছে। অন্যদিকে তারা প্রতিনিয়ত রাজপথে বুলেটে ঝাঁঝরা করছে গণতন্ত্রকামী মানুষের বুক। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা আলোচনা ও সংলাপের মালা জপে জপে দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণায় লিপ্ত রয়েছে।”

বিএনপি কার্যালয়ে অভিযানের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন,“বিরোধী দলের অফিস ভাংচুর করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা ক্ষমতাসীনদের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য। বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে একদলীয় শাসন কায়েম করা তাদের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো।”

 
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক