নিবন্ধটি খালেদারই: ওয়াশিংটন টাইমস

এ বছরের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত আলোচিত নিবন্ধটি খালেদা জিয়ার বলে নিশ্চিত হয়েই তা ছাপিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন টাইমস।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 July 2013, 08:29 AM
Updated : 2 July 2013, 11:59 PM

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিতের পর খালেদা জিয়ার নামে প্রকাশিত নিবন্ধটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বিরোধীদলীয় নেতা ওই নিবন্ধ লেখার কথা অস্বীকারের পর এনিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এর সত্যতা যাচাইয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সংবাদপত্রটি তাদের অবস্থান জানায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ই-মেইলের উত্তরে ওয়াশিংটন টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড এস জ্যাকসন জানান, এজেন্টের মাধ্যমে পাঠানো নিবন্ধটি যে খালেদা জিয়ার তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তা ছাপিয়েছেন তারা।

“ওই নিবন্ধটি ওয়াশিংটন টাইমসের কাছে আসে মার্ক পার্সির মাধ্যমে, লন্ডনভিত্তিক এই মধ্যস্থতাকারী খালেদা জিয়ার পক্ষে কাজ করেন। নিবন্ধটি প্রকাশের আগে এবং পরেও তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করেছি, আমরা এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নিঃসন্দেহ।”

বিটিপি’র অংশীদার মার্ক পার্সি, যার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নিবন্ধটি পাওয়ার দাবি করেছে ওয়াশিংটন টাইমস।

মার্ক পার্সি লন্ডনের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান (পিআর ফার্ম) বিটিপি’র অন্যতম অংশীদার, যেটি বিভিন্ন দেশের হয়েও কাজ করেন।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মার্ক পার্সি ১৯৯২ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি নির্বাচনের প্রচারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি এক সময় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটর ভোডাফোনের কমিউকেশন্স অফিসার ছিলেন। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জার্মানির কমিউনিকেশন্স ফর ডয়চে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টে।

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়ার নামে ওই নিবন্ধ প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সমালোচনায় ফেটে পড়েন। সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য, নিবন্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র গত বৃহস্পতিবার তাদের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলে এর জন্য খালেদা জিয়ার ওই নিবন্ধকে দায়ী করেন তারা।

ওই নিবন্ধে জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য সরাসরি আহ্বান জানানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

এরপর শনিবার খালেদা জিয়া সংসদে বলেন, “বলা হয়েছে, আমি নাকি চিঠি দিয়ে এই সুবিধা বন্ধ করেছি। কিন্তু আমি কোনো চিঠি পাঠাইনি।”

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতে থাকা ওয়াশিংটন টাইমসে ছাপা ওই নিবন্ধের অনুলিপি তুলে ধরলে খালেদা জিয়া বলেন, “এটা আমার নয়। এমন কোনো লেখা আমি পাঠাইনি।”

জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। দলের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম সেদিনই বলেন, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে বিএনপি ওয়াশিংটনকে চিঠি দেবে।

 খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে নিবন্ধ পাঠানোর কথা অস্বীকার করার পরপরই সংসদে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওই নিবন্ধটি বিরোধীদলীয় নেতারই।

সংসদে ২৯ জুন বক্তৃতারত খালেদা জিয়া

শনিবার সংসদে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“অস্বীকার করতে পারবেন না। এখানে লেখা আছে-

খালেদা জিয়ার ওই নিবন্ধ প্রকাশের পর বিএনপি নেতারা তখন তা দলীয় প্রধানের বলেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

নিবন্ধ প্রকাশের পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সভায় মওদুদ আহমদ বলেন, “সরকার আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে নিবদ্ধ লিখেছেন। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করার জন্য এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে।”

সরকারি দলের নেতাদের সমালোচনার জবাবে তিনি আরো বলেছিলেন, “সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে বলেই বিরোধীদলীয় নেতার প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়ে গতকাল (৩১ জানুয়ারি) সংসদে কুরুচিপূর্ণ ভাষার সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের সমালোচনাই প্রমাণ করে বিরোধী দলীয় নেতা নিবন্ধে সত্য কথা বলেছেন।”

তবে খালেদা জিয়ার অস্বীকারের পর মওদুদ তার আগের বক্তব্য থেকে সরে এখন বলছেন, নিবন্ধটি যে খালেদা জিয়ার তা তিনি বলেননি।

মওদুদের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলও ৬ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, “দেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে বিরোধীদলীয় নেতা এই নিবন্ধ লিখেছেন। দেশের নাগরিক হিসেবে তিনি (খালেদা জিয়া) তা লিখতেই পারেন।”

খালেদা জিয়ার অস্বীকারের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এজন্য ওয়াশিংটন টাইমসের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিস পাঠাতে সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বলেছেন- এটা তার লেখা না। আমরা তার কথাই ধরে নিচ্ছি, কারণ বিরোধীদলীয় নেতা একটি ইনস্টিটিটিউশন। তিনি যেই হোক না কেন।

“ওয়াশিংটন টাইমসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অবশ্যই আইনি নোটিস দিই এবং উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক