ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সঙ্কট হয় ইসির: হাবিবুল আউয়াল

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নির্বাচন কমিশন ‘সঙ্কটে রয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 09:47 AM
Updated : 18 July 2022, 10:21 AM

সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি বলেছেন, “জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার হতে হবে। সেখানে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের নামে নাটক মঞ্চস্থ হোক, সেটা আমরা কখনো চাইব না। কেউ চাইবেন না। যেভাবেই হোক গ্রহণযোগ্যভাবে নির্বাচন হোক। সুন্দর সংসদ ও সরকার গঠিত হোক।”

প্রথম দিন তিন দলের সঙ্গে সংলাপ করার পর সোমবার সকালে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে নির্বাচন বর্জনের যে ঘোষণা বিএনপি ও সমমনারা দিয়ে রেখেছে, সে প্রসঙ্গ ধরে সিইসি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে সঙ্কটে পড়তে হয়। একটা বড় দল বলছে নির্বাচনে অংশ নেবে না। আরেকটি দল বলছে নির্বাচন হবে। এটা অনাকাঙ্খিত। কাঙ্খিত যাই হোক, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।”

নতুন কমিশনকে নিয়ে শুরু থেকেই বিএনপি যে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে, সে কথা তুলে ধরে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “বিএনপিসহ কয়েকটি দল আগাম অনাস্থা দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কী বিশেষ সুবিধা নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট হলাম তা বুঝতে পারছি না। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা বা অন্য কোনোভাবে নতুন ব্যবস্থাপনায় নির্বাচনে আসে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।”

জাতীয় নির্বাচনের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ইসির অধিনস্থ করার যে প্রক্রিয়া, তাকে ‘জটিল’ বলে মনে হয়েছে সিইসির।

তিনি বলেন, “এর সঙ্গে জটিল সাংবিধানিক বিষয় জড়িত রয়েছে। এটা নিয়ে সব রাজনৈতিক দল নিজের মধ্যে সংলাপ করতে পারে।”

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পর সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সঙ্গেও সংলাপ হয় এদিন। সেখানে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনতে ‘সংবিধান সংশোধন লাগবে’।

“সেটা বড় কথা নয়, সবই সম্ভব, যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়। মেজর পলিটিক্যাল প্লেয়ার্স বা পলিটিক্যাল পার্টিস (একমত হলে) যে কোনো ইস্যুতে সংবিধান কোনো বাধা না। জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে। বিরোধী দল যেটা চাইছেন, সরকারি দল যা বলছেন, তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য বসা দরকার।”

অংশগ্রহণমূলক ভোটের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিইসি বলেন, “আমরা কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। বিএনপি ও তার সঙ্গে সমমনা দু’চারটি দল আছে, আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা; আমি যেটা মনে করি, সরকারি দল ও বিরোধী দল যদি বসতেন এবং ৫-৭টা মিটিং করতেন, তাহলে সমস্যটা সমাধান করতে পারতেন।”

এদিন সংলাপের সময় চার নির্বাচন কমিশনারও সিইসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক দলের দশ জন করে প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেন।

সোমবার বিকালে খেলাফত মজলিশ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে সংলাপের সূচি রয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক