লোড শেডিং ‘মিউজিয়াম’ থেকে ফিরল কেন: মোশাররফ

বিদ্যুত খাতে এতদিন ধরে যে সাফল্যের কথা ক্ষমতাসীনরা বলে আসছে, বর্তমান পরিস্থিতি তা মিথ্যা প্রমাণ করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 July 2022, 11:10 AM
Updated : 6 July 2022, 11:14 AM

“আজকের প্রধানমন্ত্রী ফলাও করে অনুষ্ঠান করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এই লোড শেডিংকে আমরা মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছি’। কোথায় আপনার সেদিনের আস্ফালন?” বলেছেন তিনি।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর হন বিএনপি আমলের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, আজকে কেন এই লোড শেডিং এদেশের জনগণ প্রতিনিয়ত অনুভব করছে।

“আমি গতকাল ডেমরাতে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। এক ঘণ্টা দেরি হয়েছে অনুষ্ঠান শুরু করতে। ঢাকা শহরে লোড শেডিং, গ্রামে-গঞ্জে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা লোড শেডিং হচ্ছে। আর সরকার প্রধান বলছেন, লোড শেডিংকে মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছেন! কী পরিমাণ চাপাবাজি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।”

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করে যাওয়ার মধ্যে ছন্দপতন ঘটিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে অস্থিরতায় ভুগতে হচ্ছে বহু দেশকে।

সরকারি ভাষ্যে, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে লোড শেডিং হচ্ছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে সবারই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯১-১৯৯৬ পর্যন্ত জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা খোন্দকার মোশাররফ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি গ্যাসের দেশে উৎপাদন না বাড়িয়ে আমদানির পথ ধরায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের যে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, সেই গ্যাসের যে উত্তোলন, বিতরণ- এ ব্যাপারে গত ১৪ বছর যাবত সরকার কোনো রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

“গ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা করে নাই। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত গ্যাসের উপর নির্ভর করেছে। এই অব্যবস্থার কারণে আজকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, বার বার লোড শেডিং হচ্ছে।”

রেন্টাল বা ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর ভর করে উৎপাদন বাড়ানোর সমালোচনাও করেন বিএনপির এই নেতা।  

তিনি বলেন, “সরকার শুধু একটি সিন্ডিকেটকে খুশি করার জন্য রেন্টাল বিদ্যুৎ নিয়ে এসেছে। যার জন্য আমাদের শাসনামলে যে বিদ্যুতের দাম ছিল ২ টাকার নিচে, সেটা এখন ১০ টাকার ওপরে। কেন? ওই সিন্ডিকেটকে লাভবান করার জন্য তারা এসব করেছে।”

জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে ২০১১ সালের ৬ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকসহ বিএনপির সংসদ সদস্যদের উপর পুলিশি হামলার স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়। সভায় জয়নুল আবদিন ফারুকও ছিলেন।

২০১১ সালে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের উপর পুলিশ হামলার ঘটনাটিকে ‘গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ’ আখ্যায়িত করেন খন্দকার মোশাররফ।

তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতিতেও সঙ্কট চলছে। এসব সঙ্কট ধামাচাপা দিচ্ছে। এরপর একদিন না একদিন দেখবেন, শ্রীলঙ্কার চাইতেও খারাপ অবস্থা হতে পারে।

“দুর্নীতিতে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা ডাকাতিতে, ব্যাংকগুলোকে ঋণে জর্জরিত করে দিয়ে, রিজার্ভের থেকে ঋণ নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও সেই রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে আবার সেই ঋণের কথা গোপন করে, রিজার্ভকে বাড়িয়ে দেখিয়ে আজকে অর্থনীতিকে নিয়ে যাচ্ছে-এই লুটেরা অর্থনীতি বেশিদিন টিকবে না।”

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান খোন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, “শুধু বিএনপি নয়, এদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আর এই সরকারকে দেখতে চায় না। কোনো স্বৈরাচারী সরকারের রেকর্ড নাই নিজেরা ইচ্ছা করে ক্ষমতা থেকে সরে যাবে। সেটা করতে হলে আমাদের সকলকে রাস্তায় নামতে হবে।”

সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমি মনে করি, ১২/১৩ বছরের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগকে মানুষ পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগ বোঝে, ভোট হলে কী হবে। অতএব তারা ভোটই বাতিল করে দিয়েছে।

“আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের যদি বুঝতে দেরি হয় তাহলে ওরাই এগিয়ে যায়। আর আমরা যদি ওদের সাথে সাথে বুঝতে পারি কিংবা তাদের চাইতে এগিয়ে বুঝতে পারি তাহলে তাদেরকে সেই জায়গায় আটকে দিতে পারি, বন্ধ করে দিতে পারি এবং নিজেদের যাত্রার পথ সুগম করতে পারি।”

নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন্ আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সাবেক সাংসদ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকার বক্তব্য রাখেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক