সরকারের ত্রাণ ‘পৌঁছাচ্ছে না’, অভিযোগ ফখরুলের

সিলেটের বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারের ত্রাণ সামগ্রী ‘পৌঁছাচ্ছে না’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 June 2022, 08:40 AM
Updated : 24 June 2022, 08:40 AM

ঢাকা সিটি করপোরেশনের ‘নিখোঁজ’ কমিশনার চৌধুরী আলমের খিলগাঁওয়ের বাসায় গিয়ে শুক্রবার তার পরিবারের সাথে সাক্ষাতের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আগের দিন বৃহস্পতিবার সিলেটের জৈন্তাপুরে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “আপনারা দে্খেছ্ন যে, দেশে একটা ভয়াবহ বন্যা চলছে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে। আমি নিজে গতকাল সিলেটে গিয়েছিলাম। নিজের চোখে না দেখলে এর ভয়াবহতা সস্পর্কে কোনো ধারণা করা যায় না।

“মানুষ যে কষ্টে আছে এবং তাদের কাছে যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, তাদের বাঁচার ব্যবস্থা করে দেওয়া, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া, তার কোনো ব্যবস্থা সরকার করে নাই।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “সেনাবাহিনী নামার পরে তারা সিস্টেমেটিক্যালি কিছু ত্রাণ রিমোট অঞ্চলগুলো পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া কিছু কাজ করছে বেসরকারি এনজিওগুলো।”

বিএনপির ত্রাণ কার্য্ক্রম তুলে ধরে দলের মহাসচিব বলেন, “আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। তারা নিজেদের পয়সা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে ত্রাণ নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ব্যাপক হারে কাজ করছে তারা। আমি আপনাদের মাধ্যমে সিলেটের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোকে অবিলম্বে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণা করারও দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “যে কারণে বন্যা হয় সেই কারণ বা সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। বরং এটাকে বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়ে যে বড় রাস্তা হয়েছে, যেটা কিশোরগঞ্জের ইটনায় গেছে। আমরা শুনেছি সেটা আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের একটা প্রাইজ প্রজেক্ট। ৩৩ কিলোমিটার এই রাস্তা। এই রাস্তায় সম্পূর্ণ পানির যে স্বাভাবিক প্রবাহ যেটাকে বন্ধ করে দিয়েছে।

“আজকে যে পানি উজান থেকে নেমে আসে, সেই পানি আপনার সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওর দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোণার হাওড় দিয়ে মেঘনাতে গিয়ে পড়ে। অথচ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা গতিকে আজকে বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলে এভাবে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।”

বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার বার্ষিকীতে শুক্রবার সকালে তার বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী হাসিনা চৌধুরীর সাথে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন দলের মহাসচিব।

চৌধুরী আলমের দুই ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী, আবু সাদাত চৌধুরী, দুই মেয়ে মাহমুদা আখতার, মাহফুজা আখতার ও চৌধুরী আলমের ছোট ভাই খুরশীদ আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

২০১০ সালের ২৪ জুন রাতে ঢাকার ফার্মগেইট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রমনা শাহবাগ এলাকার তৎকালীন কমিশনার চৌধুরী আলম। পরিবারের অভিযোগ, সরকারের একটি সংস্থার লোক তাকে ‘তুলে নিয়ে যায়’, তবে পুলিশ তা স্বীকার করেনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, মহানগর নেতা আবদুল হান্নান, ফারুক আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নজরুল ইসলাম, বিএনপির মিডিয়া সেলের শায়রুল কবির খান এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন।

‘গণশত্রু’

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে যাদেরকে গুম করা হয়েছে, তাদেরকে জীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের পরিবারকে তাদের সমস্ত ব্যাংকের লেনদেন, সম্পত্তির মালিকানা, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট পর্যন্ত পাচ্ছে না। গুম হওয়ায় পরিবার চরম কষ্টের মধ্যে আছে।

“প্রতিটি ক্ষেত্রে এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যে কারণে আমি বলছিলাম, এই সরকারকে একমাত্র আখ্যা দেওয়া যেতে পারে গণশত্রু। তারা জনগণের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “চৌধুরী আলমকে এই সরকারের নির্যাতনকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। তার পর থেকে ১২ বছরে শত চেষ্টা করেও তার পরিবার ও বিএনপি কোথাও কোনো সন্ধান পাইনি। এখন পর্যন্ত সরকার তার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরে এ ধরনের ঘটনা অনেকগুলো হয়েছে। আমাদের হিসেবে আমাদের দলের লোকই আছে ছয়শর উপরে।”

ফখরুলের ভাষায়, “বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড এমনভাবে বেড়েছে, যেটা কোনো সভ্য সমাজে করতে পারে না।”

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে পদত্যাগ করে ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক