ভোটে সবার অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করেছি: শেখ হাসিনা

সব রাজনৈতিক দলের ‘স্বতঃস্ফুর্ত’ অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 June 2022, 12:37 PM
Updated : 22 June 2022, 12:37 PM

বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের আবশ্যিক দায়িত্ব।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন আগামী সংসদ নির্বাচনকে ‘অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক’ করার বিষয়ে ‘বিশেষ পরিকল্পনার’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংসদকে জানান।

তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।”

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ‘উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে’ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তরিক এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটি। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবে।

“নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের আবশ্যিক দায়িত্ব।“

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সংবিধানের বিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করা হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি এটি জাতীয় সংসদে পাস হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বেই বহু প্রত্যাশিত এ আইনটি বাস্তব রূপ লাভ করলো।

“প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন সংসদে উত্থাপিত হলে বিরোধী দলের প্রস্তাবিত ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়, যা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ করার প্রথম পদক্ষেপ।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আধুনিক পদ্ধতির ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু করা হয়েছে।“

আইন অনুসারে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সকল ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর।”

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার নিবন্ধন করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। তৎপরবর্তীতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ভোটার তালিকা আইন, এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন প্রণয়ন করেছে।

“ভোটার তালিকা আইন প্রণয়নের ফলে নির্বাচন কমিশন বিএনপির আমলে নিবন্ধিত সব ভুয়া ভোটার বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থে যারা ভোটার তাদের নিবন্ধন করেছে এবং সময়ে সময়ে, নিবন্ধন তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।”

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ইভিএমের ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে থাকে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সারাদেশে প্রচুর লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

“বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসাধারণকে ইভিএম সম্পর্কে অবহিত করার জন্য ডেমোনেস্ট্রেশন এবং ভোটার শিক্ষণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের ভোটগ্রহণ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করার লক্ষ্যে ‘মক ভোটিং’ এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।“

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মেগাপ্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরূপ কোনো প্রভাবের সম্ভাবনা নেই। যে কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

“মেগা প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ বৈদেশিক ঋণ/অনুদান সহায়তায় গ্রহণ করা হলেও ঋণগুলো নমনীয় প্রকৃতির। সুদের হার তুলনামুলক কম ও ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ও গ্রেস পিরিয়ডও অনেক। উন্নয়ন সংস্থার প্রদেয় ঋণের অর্থ অবমুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক