মার্কেট-বিপণীতে চাঁদাবাজি ‘সরকারের ছত্রছায়ায়’: মোশাররফ

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব মার্কেট ও বিপনী বিতানে ‘সরকারের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি’ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 April 2022, 09:04 AM
Updated : 26 April 2022, 09:13 AM

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে এই অভিযোগ করেন তিনি। গত সপ্তাহে নিউ মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিএনপির ঢাকা মহানগরের নেতা মকবুল হোসেনের মুক্তির দাবি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়।

সমাবেশে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “এদেশে যারা শাসন করেন এবং এই অবৈধ সরকারের যারা ‘পেটোয়া বাহিনী’ তাদের চাঁদাবাজির কারণেই নিউ মার্কেটের ঘটনার সূত্রপাত।”

ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশের সব মার্কেটে কারা চাঁদাবাজি করছে? - প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতাই উত্তর দেন, “সরকারের ছত্রছায়ায়, যারা সরকারি দল করে, তাদের অঙ্গসংগঠন করে, তারা চাঁদাবাজি করছে। জনগণের প্রথম প্রশ্ন নিউ মার্কেটের ঘটনা কেনো? - চাঁদাবাজির জন্য। করেছে কারা? - আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা।”

নিউ মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “এই নিউ মার্কেটের দোকানিদের প্রতিবাদকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য যারা হামলা করে এভাবে নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, যেখানে দুইজন নিহত হয়েছে ও বহু আহত হয়েছে, এরা কারা? - যারা চাঁদাবাজি করেছিলো। সেই কথা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছে।

“আজকে জনগণের প্রশ্ন তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। অথচ মকবুল হোসেন তিনি আমাদের নেতা এবং নিউ মার্কেটে তার দোকান আছে এটাই তার দোষ। সেজন্য আজকে গ্রেপ্তার এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় সেলুকাস, এই বাংলাদেশ আমরা দেখছি।”

প্রতিবাদ করলেই সরকার হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার করে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “আজকে আমরা এই রমজান মাসে প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমি শুধু বলতে চাই, এই নিউ মার্কেটের দোকানিরা প্রতিরোধ শুরু করেছে। হেলমেটধারীরা এই প্রতিরোধকে দমন করার জন্য মানুষ হত্যা করেছে।

“আমি অবিলম্বে হেলমেটধারীদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিচার চাই। অনবিলম্বে মকবুল হোসেনের মুক্তি চাই এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার চাই।”

গত ১৮ এপ্রিল ইফতারের টেবিল বসানো নিয়ে নিউ মার্কেটের দুই দোকানের কর্মীদের বচসার পর এক পক্ষ ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রলীগের কয়েক কর্মীকে ডেকে আনে। তারা গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার পর ছাত্রাবাসে ফিরে আরও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সোমবার মধ্যরাতে নিউ মার্কেটে হামলা চালাতে গেলে বাঁধে সংঘর্ষ।

পরদিন দিনভর চলা এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে এলিফ্যান্ট রোডের একটি কম্পিউটার এক্সেসরিজের দোকানের ডেলিভারিম্যান নাহিদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। আর ইটের আঘাতে আহত হন মোরসালিন নামে এক দোকানকর্মী। পরে হাসপাতালে মারা যান তারা দুজন।  

দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সংঘর্ষের মামলায় নিউ মার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশে অপশাসন চলছে উল্লেখ করে তা থেকে মুক্ত হতে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, “আমাদের একটিই কথা শেখ হাসিনাকে বিদায় নিতে হবে, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় নিতে হবে। এই বিদায় নেওয়ার জন্য আজকে আমাদেরকে সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে, আরো ব্যাপকভাবে রাস্তায় নামতে হবে।

“বিএনপি, তার অঙ্গসংগঠন, এদেশের এদেশের সব গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তি এবং আমাদের দলসহ সব দল এবং ব্যাক্তির প্রয়োজন এই সরকারকে হটাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এর কোনো বিকল্প নেই। ... ... কোনো স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদি সরকার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ে নাই। তাই এই স্বৈরাচারী সরকারকেও গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরাতে হবে। আমাদের সবাইকে সেজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আমাদের এই প্রতিবাদ প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে। বড় রাস্তা, ছোট রাস্তা, অলি-গলি-পাড়া-মহল্লায় সব জায়গায় প্রতিবাদের ঝড় তুলতে হবে। তা না হলে আমরা যে লক্ষ্য অর্জন করতে চাই সেই লক্ষ্য অর্জন দুরহ হবে।”

বিএনপির লক্ষ্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন - উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সম্ভব না। এই সংসদ বাতিল না হলে সম্ভব না। দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে সেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে না পারবে না। এটা বিজ্ঞানাগার থেকে আরম্ভ করে সব কিছুতে পরীক্ষিত। সেই কারণেই বিএনপির সিদ্ধান্ত এই সরকারের অধীনে কোনো প্রহসনের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না।”

নিউ মার্কেটের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করছি নিউ মার্কেট এলাকায় ঘটনা নিয়ে। ঢাকা শহরের যত মার্কেট আছে সব মার্কেটেই বেহাল। এখানে (নিউ মার্কেট) ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করেছে, সেই কারণে মারামারি হয়েছে।

“শুধু এটাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামনে যে মার্কেটগুলো আছে তারা বছরের পর বছর পেমেন্ট দিয়ে যাচ্ছে। আজকে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই থেকে আরম্ভ করে এমন কোনো অপকর্ম নাই যে অপকর্মের মধ্য দিয়ে অর্থ লুটপাট করা একটি অভ্যারণ্য সৃষ্টি করেছে।”

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দাবি করেন, “১০ লক্ষ কোটি টাকা তো এমনি হয় নাই। এই ছোট-বড়-মাঝারি, দরবেশ থেকে আরম্ভ করে তাদের লুটপাটের টাকাই বিদেশে ১০ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে।”

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে দলের নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু; যুবদলের সাইফুল আলম নিরব; স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল; কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন; ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় এবং ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর সিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক