আন্দোলনের আগে নিজেদের বিভেদ দূর করায় গুরুত্ব ফখরুলের

সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর আগে দ্রুত দলের ‘বিভেদ’ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 June 2021, 10:22 AM
Updated : 12 June 2021, 10:22 AM

শনিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় নেতাদের প্রতি তিনি বলেন, “আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কি করছে করুক। জনগণের কাছে তাদের অন্যায় টিকে থাকতে পারবে না, তারা ভেসে যাবে। জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা ভেসে যাবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

“আসুন অতি দ্রুত আগামীতে আমরা নিজেদেরকে পুরোপুরি সংগঠিত করে ফেলি, নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি, বিভেদগুলো দূর করি এবং একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে একত্রিত করে আমরা এই যে দানব আমাদের বুকে ওপর চেপে বসেছে, তাকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে মধ্য দিয়ে যেন জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারি সেজন্য কাজ করি।”

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যিনি গত বছরে মার্চ মাস থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে মুক্ত আছেন, তার মুক্তির আন্দোলনও শুরুর কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

“দেশনেত্রীকে তার আগেই মুক্ত করতে হবে। তাছাড়া এখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না। দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন দিয়েই আমরা শুরু করতে হবে আমাদেরকে গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেবকে আমরা যেন দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি সেই লক্ষ্যে আমাদের অতিদ্রুত এগোতে হবে।”

জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গিতে সালাহ উদ্দিন সরকারের বাসাভবনে গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বর্তমান অবস্থাকে ‘সংকটময় অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই অবস্থার পরিবর্তন আমাদেরকেই করতে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদেরকে করে দিয়ে যাবে না। বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে।… আজকে আবার যখন ক্রাইসিস, রাজনৈতিক সংকট, আমাদের সবকিছু নিয়ে চলে যাচ্ছে তখন আমাদেরকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, আমাদেরকেই শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।”

গাজীপুরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অনেকে বলেছেন, গাজীপুর ফাইটার একটা জায়গা, জেলা ও মহানগরে। আপনাদেরকে অনেক বেশি সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা জিয়াউর রহমানের দল করি, বেগম খালেদা জিয়ার দল করি। যখন সংগঠন নিজেরা তৈরি করতে যাই, তখন গ্রুপিং-গ্রপিং। আমার লোক কে, আমার লোক কে- এটা খুঁজি। এটা খোঁজা যাবে না। আপনাকে জিয়াউর রহমানের লোক খুঁজতে হবে, বেগম খালেদা জিয়ার লোক খুঁজতে হবে।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আমরা দলের মধ্যে নেতার সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি করতে পেরেছি, কর্মীর সংখ্যা সেই হারে বৃদ্ধি করতে পারি নাই। সেজন্য আজকে সবাইকে কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।”

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিনি স্লোগান দিয়েছেন- যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ। সেই স্লোগান বুকে ধারণ করে আমরা নব্বইয়ের চেতনায় আরেকটি গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে, ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে, সকল রাজনৈতিক দল ও জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে নেমে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করব।”

জেলা সভাপতি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং নির্বাহী কমিটির ওমর ফারুক শাফিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আবদুস সালাম আজাদ, সালাহ উদ্দিন সরকার, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, সোহরাব উদ্দিন, মজিবুর রহমান, হুমায়ুন কবির খান, মীর হালিমুজ্জামান ননি, খন্দকার আজিজুর রহমান পেয়ারা, হুমায়ুন কবীর মাস্টার, শওকত হোসেন সরকার, মাহবুব আলম শুক্কুর, ফিরোজ আহমেদ, শ্রীপুরের শাহজাহান ফকির, কাপাসিয়ার খলিলুর রহমান প্রমুখ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক