এখন আর বাঙালি ললনা নয়, দেখা যায় সৌদিফেরত নারীদের: মেনন

বাংলাদেশে নারীদের হিজাব পরার প্রবণতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এখন কোনো অনুষ্ঠানে বাঙালি ললনাদের দেখা যায় না, দেখা যায় সৌদি বা দুবাইফেরত নারীদের।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 March 2020, 03:07 PM
Updated : 8 March 2020, 03:16 PM

‘হিজাব কোনো ধর্মীয় অনুশাসন নয়, অপসংস্কৃতি’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “বেগম রোকেয়া যেখানে দেড়শ বছর আগে পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে মেয়েদের বের হয়ে আসার শিক্ষা দিয়েছিলেন, সেখানে বাংলাদেশে আজকে এই ধরনের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যে সংস্কৃতি গ্রহণ করা হচ্ছে তা কখনও মঙ্গলজনক নয়। আজকে বাঙালি মেয়েদেরকে বাঙালি সংস্কৃতিতে ফিরে আসতে হবে।”

রোববার বিকালে রাজধানীর মতিঝিলে আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরনে হিজাব দেখে ওই এলাকার সাংসদ মেনন এই বিষয়ে কথা বলেন বলে ওয়ার্কার্স পার্টির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বইমেলায়ও দেখা যায় হিজাব পরা তরুণীদের

রাশেদ খান মেনন বলেন, “ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের শিক্ষার হার বেশি। তারাই বেশি লেখাপড়া করছে। কিন্তু সংস্কৃতির দিক থেকে তারা পিছিয়ে যাচ্ছে। আজকাল কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিয়ের অনুষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বাঙালি ললনাদের দেখা যায় না। দেখা যায় সৌদি অথবা দুবাই ফেরত মহিলাদের। তারা মাথায় ছোট করে হিজাব পরে।”

এই প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি শাড়ি পরে মাথায় কাপড় দিয়ে, মতিয়া চৌধুরী অথবা রওশন আরা মান্নান এমপি মাথায় কাপড় দিয়ে তাদের পর্দা রক্ষা হয়, তাহলে কেন আজকে স্কুল-কলেজের মেয়েরা এ ধরনের পোশাক পরবে?

“তাই আমাদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার উত্তরণে নতুন প্রজন্মকে বাঙালি ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতি অনুসরণ করতে হবে।”

সাবেক সাংসদ ও আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান, কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মিনা রহমান উপস্থিত ছিলেন।