জয়কে রাজ-জ্যোতিষী করা হোক: ফখরুল

দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেইসবুক স্টেটাস ভোটকে প্রভাবিত করবে বলে সমালোচনা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2020, 01:16 PM
Updated : 31 Jan 2020, 06:12 PM

শুক্রবার বিকালে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের গোপীবাগের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির মহাসচিব। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি দলের বড় নেতা বা সরকারের কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যখন এ ধরনের কথা বলেন, তখন ‘ডেফিনেটলি’ তা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনসহ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে।

“আমার মনে হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা করা উচিত যে, তাকে (সজীব ওয়াজেদ জয়) তার উপদেষ্টা হিসেবে রাখবেন নাকি ‘রাজ জ্যোতিষী’ হিসেবে তাকে নতুন নিয়োগ দেবেন।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগেও সজীব ওয়াজেদ জয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সাধারণত যারা জ্যোতিষ তারা এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন।

“আমরা মনে করি, তিনি ভোটের আগে এ ধরনের যে সব ভবিষ্যদ্বাণী করছেন সেগুলো গোটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে।”

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে জয় ‘নিজের করা জরিপের’ উপর ভিত্তি করে ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের দুই মেয়র প্রার্থীর জয়ের বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন।

তাতে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের পক্ষে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের পক্ষে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন দেখানো হয়।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে দলের প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপসের পক্ষে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ ও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের পক্ষে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তুলে ধরা হয়।

বিকালে গোপীবাগে ঢাকার মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বাসায় গিয়ে তার ছেলে ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী ইশরাকের কাছ থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে জানেন বিএনপি মহাসচিব।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের কর্মকর্তাদের যে সমস্ত কথা শুনছি, সরকারি দলের নেতৃবর্গ যে সমস্ত কথা বলছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে, সরকার চেষ্টা করছে পুরো নির্বাচনটাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়ার। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, প্রত্যেকটি কেন্দ্র তারা পাহারা দেবেন এবং তারা নিয়ন্ত্রণ করবেন।

“তারপরেও আমরা যেটা বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করে এসেছি যে, ঢাকা শহরের মানুষ যদি ভোট দেওয়ার ন্যূনতম সুযোগ পান তাহলে তারা অবশ্যই দক্ষিণে ইশরাক ও উত্তরে তাবিথকে জয়যুক্ত করবেন ধানের শীষে।”

ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে কী করবেন প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, “আমরা বলেছি, আমাদের জনগণই যা কিছু করবার করবেন, জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, জনগণই তাদের অধিকার নিশ্চিত করবেন।”

এসময় পাশে থাকা ইশরাক বলেন, “আমি একটি কথাই বলব- ভোটকেন্দ্র দখল হলে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। আমার একটাই কথা, সোজা কথা।”

গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আবদুস সালাম, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার ও রফিক শিকদারসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী তাব্থি আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার- ভোট হবে পরিস্কার, সুষ্ঠু  ও অবাধ। ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা থাকা দরকার। সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

“দুর্ভাগ্য আমাদের নির্বাচন কমিশনের সে যোগ্যতা নেই। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনোভাবে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।”

তাবিথ সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্র দখলের বিষয়টি আশঙ্কার মধ্যে নেই। কারণ ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ্যে কেন্দ্রের আশপাশে মহড়া ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন।

“ওনাদের উদ্দেশ্য ওনারা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আমাদের প্রতিবাদ, প্রতিরোধের কিছু নাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হল, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করা, ভোটাধিকার রক্ষা করা। তাই আমরা যে কোনো মূল্যে ভোটারদের উৎসাহী করছি, ভোটাররা নিজ নিজ কেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন।’

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক