জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে স্পিকারকে চিঠি

চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের পর এবার জি এম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগ দিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি গেছে জাতীয় পার্টির নামে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Sept 2019, 07:00 PM
Updated : 3 Sept 2019, 07:00 PM

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে কয়েকজন সংসদ সদস্য স্পিকারের দপ্তরে গিয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেন।

জাতীয় পার্টির প্যাডে চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্বাক্ষরে পাঠানো এই চিঠির সঙ্গে দলটির ১৫ জন সংসদ সদস্যের সম্মতিপত্রও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

সংসদে এখন সংরক্ষিতসহ ২৫টি আসন আছে জাতীয় পার্টির। এর মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন হবে।

স্পিকার শিরীন শারমিন দেশের বাইরে থাকায় স্পিকারের দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পৌঁছে দেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। 

স্পিকারের একান্ত সচিব কামাল বিল্লাহ জাতীয় পার্টির চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

 

চিঠিটির বিষয়ে জাতীয় পার্টির কোনো নেতা মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে কাজী ফিরোজ রশীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ও সাংসদ শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলবেন পার্টির মহাসচিব ও দলের চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ।”

মঙ্গলবার রাতে রাঙ্গাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

চিঠিতে বলা হয়, “…মহান জাতীয় সংসদে বর্তমানে জাতীয় পার্টির প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে। আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা বিগত ১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন।

“ফলে মহান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পার্টির সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ১৮ লালমনিরহাট-০৩ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত আমি গোলাম মোহাম্মাদ কাদেরকে মহান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রস্তাব করছে।

“অতএব উপরোক্ত বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এবং পার্টির সংসদীয় দলের মনোনীত সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আমাকে নিয়োগ দানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’

জি এম কাদের (ফাইল ছবি)

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার নিয়োগ দেন স্পিকার।

অসুস্থ থাকা অবস্থায় এরশাদ গত এপ্রিলে তার ভাই জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন। এর পর থেকে দলের জ্যেষ্ঠ কো চেয়ারম্যান রওশন ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতাকে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না।

এরশাদের স্ত্রী রওশন বর্তমানে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদে আছেন। প্রথমে ভাই জিএম কাদেরকে এই পদে আনলেও পরে তাতে পরিবর্তন আনেন এরশাদ।

গত ১৪ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ।

তার চার দিনের মাথায় এক সংবাদ সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়। দলের মহাসচিব রাঙ্গাঁ সেদিন ওই ঘোষণা দিয়ে বলেন, মৃত্যুর আগে এরশাদই এ সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন।

এরপর গত ২৩ জুলাই সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার প্যাডে গণমাধ্যরেম পাঠানো এক বিবৃতিতে রওশন বলেন, জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করার আগে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি। ফলে তার দেবর কাদের এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই আছেন।

এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায়ই রওশন ও কাদেরের শীতল সম্পর্ক; যা সামাল দিতে দুজনের পদে নানা পরিবর্তন আনতে হয়েছিল এরশাদকে।

আরও খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক