ঢাবির হলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে ক্যান্টিনে বসা নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 April 2017, 07:18 PM
Updated : 23 April 2017, 07:32 PM

রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্যান্টিনে ভাংচুর ও খাবার নষ্ট করেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের অনুসারীরা।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কর্মীরা আহত হয়েছেন। সভাপতির গ্রুপের আহতরা হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুবেল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নাহিদ ও রাকিব, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের সুলাইমান, দর্শন বিভাগের বিল্লাল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অটল ও  আইন বিভাগের রিফাত হোসেন। এরা সবাই প্রথম বর্ষের ছাত্র।

সাধারণ সম্পাদক তুষার গ্রুপের আহতরা হলেন- প্রথম বর্ষের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শাহাদাত হোসেন, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সজিব আহমেদ, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের ফখরুল হোসেন সোহাগ এবং দ্বিতীয় বর্ষের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সুজন হোসেন।

এছাড়া সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে হলের ক্যান্টিন বয় মাসুদ ও মহসিন আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সভাপতি হাফিজের অনুসারী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফারুক নামে প্রথম বর্ষের এক ছাত্র দুপুরে হল ক্যান্টিনে খাবার খেতে যায়। খাবার টেবিলে বসার আসন ফাঁকা না পেয়ে সাধারণ সম্পাদক তুষারের অনুসারী জামিলকে দ্রুত খাওয়া শেষ করতে বলে। এই নিয়ে জামিলের সঙ্গে ফারুক ও নাহিদের কথা কাটাকাটি হয়।

এই ঘটনার সূত্র ধরে রাতে খাওয়ার সময় হলের ক্যান্টিনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী প্রথম বর্ষের ছাত্রদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরে উভয়পক্ষের কর্মীরা রড-লাঠি নিয়ে হল ক্যান্টিনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

ক্যান্টিন পরিচালক মোহাম্মাদ বাবুল মিয়া বলেন, “ক্যান্টিন পরিচালনার ১৭ বছরেও এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি। ক্যান্টিনের সব খাবার নষ্ট হয়েছে, অর্ধশতাধিক প্লেট-বাটি ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি জানি না। যদি এমন ঘটনা ঘটে, জড়িতদের বিরুদ্ধে একাডেমিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে  সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সও।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক