কল্যাণপুরে অভিযানে নিহতরা জঙ্গি কি না সন্দেহ: হান্নান

রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলিতে নিহতরা জঙ্গি কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা আসম হান্নান শাহ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2016, 01:41 PM
Updated : 26 July 2016, 04:00 PM

মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “পুলিশ অভিযান চালিয়ে নয় জঙ্গিকে নিহত করেছেন কল্যাণপুরে। এই সম্পর্কে বলতে চাই, সন্দেহ আছে। কেন সন্দেহ করছি যে নিরীহ মানুষ মারা গেছে? …আমরা গুলশানের ঘটনা দেখেছি পুলিশ বাহিনী... শত শত ঘুরছে। তারা কিন্তু ওই দুস্কৃতিকারী বা সন্ত্রাসী, যাদের কাছে অস্ত্র আছে, তাদের মোকাবেলা করতে যায় নাই।

“সুতরাং উনারা যখনই এনকাউন্টারের কথা বলেন, বন্দুকযুদ্ধের কথা বলেন, তখন বাংলাদেশের জনগণের মনে একটি প্রশ্নের উদয় হয়- ওরা কি সত্যিই অপরাধী ছিল? না কি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে?”  

জঙ্গি আস্তানার খোঁজে সোমবার মধ্যরাতের পর কল্যাণপুর গার্লস হাই স্কুলের পাশের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ হিসেবে পরিচিত ‘তাজ মঞ্জিল’ নামের ৬ তলা ভবন ঘেরাও করে অভিযান শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিকে বোমা ও গুলি ছোড়া হয়, তারাও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

সকাল ৭টার আগে সোয়াট বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে এক ঘণ্টার মূল অভিযান শেষে ভবনটিতে নয় জনের লাশ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ একজনকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ।

পুলিশ বলছে, তাদের বেশভূষা, কথাবার্তা ও উদ্ধার করা জিনিসপত্র দেখে গুলশানের হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের মিল পাওয়া যায়।

গুলশানে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে হান্নান শাহ বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা ও মানুষের মনোবল দুর্বল করার জন্যে এরকম ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

“আমার সন্দেহ হয়- এই যে গুলশানের ঘটনা, এই সরকার যা কিছু করলো, অন্যরা এটা নিয়ে খেলছে। যদিও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, উনি জানেন, কারা করছেন।

“শুনতে পেলাম যে বিএনপির একজন নেতার ড্রাইভারকে এরেস্ট করছে, এর সাথে সম্পৃক্ততাও থাকতে পারে। উনা এই ‘ও’ ধরে আমাদেরকে জেলে নেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেন, আমাদের জামিন নাকচ করে দেন। তাদের কাছে কোনো আইন-কানুন ধার ধারে না।”

দুপুরে পুরানা পল্টনে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ-ভাসানী) ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

সরকারের পদক্ষেপে বাংলাদেশের পরিণতি কাশ্মির বা সিকিমের মতো হতে পারে বলে সভায় সতর্ক করে দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

“বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তাতে আমরা কী ধীরে ধীরে কাশ্মিরের দিকে যাচ্ছি না সিকিমের দিকে যাচ্ছি। শ্রোতা বন্ধুরা হুশিয়ার।”

দেশরক্ষায় নিজের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ৭৫ বছর বয়সী সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “আমি বলতে চাই, বাইরের একটি দেশ আমাদের দেশকে এভাবে কবজা করতে পারবে না। আমাদের মতো মানুষ বুড়ো হয়ে গেলেও ওই বিদেশি সৈন্য যদি আসে একটা হলেও মার দেব, পিছপা হব না।”

এবিষয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, মুসলিম লীগের মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ কাশেম, ন্যাপ ভাসানীর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল জাব্বার ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম মোস্তফা আখন্দ বক্তব্য রাখেন।