কাসেমের রায়ের পর জামায়াতের হরতালের বার্তা

সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে হরতালের বার্তা দিয়েছে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 March 2016, 06:57 AM
Updated : 8 March 2016, 07:59 AM

মঙ্গলবার আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের নামে গণমাধ্যম কার্যালয়ে ওই বিবৃতি পাঠানো হয়।জামায়াতের ওয়েবসাইটেও ওই বিবৃতি দেখা যায়।

এতে বলা  হয়, “আমরা জনাব মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ৯ মার্চ বুধবার সারা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।”

জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম মজলিসে শুরার সদস্য মীর কাসেম দলটির অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিতি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা উঠে এসেছে এ মামলার বিচারে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, “মাননীয় আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে আজ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের যে রায় ঘোষণা করেছেন তা একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। এ রায়ে মীর কাসেম আলী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

কাসেম এ রায়ের রিভিউ চাইবেন এবং ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে’ তিনি খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয় জামায়াতের বিবৃতিতে। 

জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর মীর কাসেম ছিলেন আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান ব্যক্তি।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এই দলের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। নিজামীর মামলাতেও সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে আপিল বিভাগ থেকে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক