যেভাবে ‘আইনের শাসন’ ভঙ্গ হয়

এ বি এম খায়রুল হক
Published : 12 Oct 2021, 01:56 AM
Updated : 12 Oct 2021, 01:56 AM

'আইনের শাসন তত্ত্ব' নিয়ে কিছু সংখ্যক অধ্যাপক, বােদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আপত্তি থাকলেও বিচার বিভাগ মােটামুটি এ তত্ত্ব গ্রহণ করেছে বলেই মনে হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে আমার মনে পড়ে যে, ৮ম সংশােধনী মােকদ্দমা, ৫ম সংশােধনী মােকদ্দমা, ১৩তম সংশােধনী মােকদ্দমা, ৭ম সংশােধনী ইত্যাদি মােকদ্দমার রায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসন তত্ত্ব গ্রহণ করেছে, এমনকি ব্রেক্সিট মােকদ্দমায় (২০১৭) যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লর্ড নিউবার্গার তার রায়ের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে 'আইনের শাসন' অনুমােদন করেছেন। তার রায়ের ৪২ দফায় তিনি বলেন:

In the broadest sense, the role of judiciary is to uphold and further the rule of law; …

তবে আইনের শাসন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে হামদানের মামলাটি দুঃখজনক। ইংল্যান্ডের আর্ল অব ক্লারেনডানের মত যুক্তরাষ্ট্র কিউবার 'গুয়ান্তামো বে'র সামরিক ঘাঁটিতে এক কারাগার নির্মাণ করে। সেখানে বন্দিদের বিনা বিচারে অন্তরীণ রাখা হতাে। কারাগারটি যুক্তরাষ্ট্রের এলাকার বাইরে বিধায় হেবিয়াস করপাস রিট 'গুয়ান্তানামো বে'-তে অবস্থিত কারাগারের গভর্নরের উপর জারি করা হয়তো সম্ভব ছিল না। ভুল হতে পারে, তবে সন্দেহ হয় যে হয়তাে সে কারণেই সেখানে কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

যা হােক। প্রতীয়মান হয় যে হামদানকে নভেম্বর ২০০১ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তার বিরুদ্ধে কোনাে অভিযােগ ছিল না। ২০০৪ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযােগ আনা হয়। তাকে সামরিক কমিশনের মাধ্যমে বিচার করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতােমধ্যে কংগ্রেস ৩০ ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে 'ডিটেইনি ট্রিটমেন্ট আ্যাক্ট' প্রণয়ন করে। এই আইন গুয়ান্তানামো কারাগারে বন্দিদের পক্ষে হেবিয়াস করপাস রিট দায়েরের পথ বারিত বা রুদ্ধ করে। হামদান সামরিক কমিশনের দ্বারা তার বিচারকে চ্যালেঞ্জ করে মােকদ্দমা দায়ের করেন।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের আইনের আওতায় Theo bald Wolfe Tone (১৭৯৮) এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় Ex parte Milligan (১৮৬৬) মােকদ্দমা দুইটি সংক্ষেপে আলােচনা দরকার।

উলফ টোন একজন আইরিশ বিপ্লবী ছিলেন। তিনি ফরাসি সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করে তাদের মদদে আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছিলেন। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর হাতে উলফ টোন  ধরা পড়লে তাকে ডাবলিনে কোর্ট মার্শাল করে প্রাণদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়। যেহেতু তিনি বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন, আয়ারল্যান্ডের কিংস বেঞ্চ রিট অব হেবিয়াস কর্পাসের আবেদন অনুমােদন করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার হুকুম দেয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা উলফ টোনকে মুক্তি দেয় না। ফলে লর্ড প্রধান বিচারপতি শেরিফকে উলফ টন ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তা- দুইজনকেই হেফাজতে নেওয়ার হুকুম দেন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডাইসি বলেন:

.. it will be admitted that no more splendid assertion of the supremacy of law can be found than the protection of Wolfe Tone by the Irish Bench.

(ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য স্টাডি অব ল অব কনস্টিটিউশন, ২৯৪ পৃষ্ঠা, ইএলবিএস এডিশন, ১৯৬৮) 

Ex parte Milligan (১৮৬৬) মােকদ্দমায় গৃহযুদ্ধ চলার সময়ে ল্যামডিন পি. মিলিগান নামে একজন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্তর আমেরিকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযােগ আনা হয়। সে বেসামরিক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও একটি সামরিক কমিশন বিচারে তাকে প্রাণদণ্ডের আদেশ দেয়। তার পক্ষে রিট অব হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের প্রেক্ষিতে যেহেতু ইনডিয়ানা রাজ্যে কোনাে বিদ্রোহ ছিল না, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে মিলিগানকে মুক্ত করার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি ডেভিস তার রায়ে বলেন:

.. No graver question was ever considered by this court, nor one which more nearly concerns the rights of the whole people; for it is the birth-right of every American citizen, when charged with crime, to be tried and punished according to law. .. By the protection of the law human rights are secured; withdraw that protection, and they are at the mercy of wicked rulers, or the clamor of an excited people. If there was law to justify this military trial, it is not our province to interfere; if there was not, it is our duty to declare the nullity of the whole proceedings. ..

The Constitution of the United States is a law for rulers and people, equally in war and in peace, and covers with the shield of its protection all classes of men, at all times, and under all circumstance.

ম্যাগনা কার্টা থেকে আমরা জানি যে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযােগের অনুপস্থিতিতে কাউকে অন্তরীণ রাখা যায় না। আমরা এটাও জানি যে সুনির্দিষ্ট অভিযােগ থাকলে তার পক্ষে 'রিট অব হেবিয়াস কর্পাস' আবেদন এমনিই রক্ষণীয় নয়। তা সত্ত্বেও কী কারণে গুয়ান্তামো বে কারাগারে রক্ষিত বন্দিদের পক্ষে এ রিট আবেদন আইন করে বারিত বা নিষিদ্ধ করা হলাে তার কারণ বােধগম্য নয়।

আমরা সাধারণত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে অনুসরণ করে থাকি। কিন্তু সেখানেও হামদানের মত অনেক বন্দিকে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে বিনা অভিযােগে অন্তরীণ রাখার কারণ অবােধ্য।

বিচারপতি স্টিভেন্স বলেন,  

.. None of the overt acts alleged to have been committed in furtherance of the agreement is itself a war crime, or even necessarily occurred during time of, or in a theater of, war. Any urgent need for imposition or execution of judgment is utterly belied by the record; Hamdan was arrested in November 2001 and he was not charged until mid-2004. These simply are not the circumstances in which, by any stretch of the historical evidence or this Courtās precedents, a military commission established by Executive Order under the authority of Article 21 of the UCMJ may lawfully try a person and subject him to punishment.

VI

Whether or not the Government has charged Hamdan with an offense against the law of war cognizable by military commission, the commission lacks power to proceed. (Phot 85)

তার রায়ের আর একটি জায়গায় তিনি বলেন:

The procedures adopted to try Hamadan also violate the Geneva Conventions. (reft 42)

বিচারপতি স্টিভেন্স উপসংহারে বলেন,

.. in undertaking to try Hamdan and subject him to criminal punishment, the Executive is bound to comply with the Rule of Law that prevails in this jurisdiction. (PT 93)

যা হােক, সুপ্রিম কোর্ট এক্ষেত্রেও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রয়াস পেয়েছে।

গুয়ান্তানামো বে কারাগার প্রসঙ্গে ২০০৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী পণ্ডিত অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি বলেন:

A country with any shred of self-respect will be vigilant to ensure that it does not take part in this criminal savagery.

এ প্রসঙ্গে লর্ড টম বিনহাম এর মন্তব্য স্বব্যাখ্যায়ত ও প্রণিধানযােগ্য:

The motive of the United States Government in detaining terrorist suspect at Guantanamo Bay was exactly the same as Clarendon/s: to deny them the remedy of habeas corpus provided in domestic law which, it was thought, could not be invoked by detainees held at an American military base in Cuba. Much litigation, and much suffering, would have been avoided had the rule of law been observed at Guantanamo from the start as it was required to be in the UK in 1679.

(রুল অব ল, পৃষ্ঠা ২৩, প্রকাশ ২০১০) 

এই মন্তব্যের সাথে দ্বিমত করার কোনাে অবকাশ নেই। 

ইদানিং শােনা যাচ্ছে যে গুয়ান্তামো বে কারাগার বন্ধ হতে যাচ্ছে। শুভস্য শীঘ্রম।

কোনাে বিশেষ ক্ষেত্রে আইনের শাসন ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা সাধারণত বিচার বিভাগই সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন, উপরের মােকদ্দমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নিয়েছে। কিন্তু এই বিচারের ক্ষমতা যাদের হাতে তারা যদি নিজেরাই আইনের শাসন মেনে না চলেন তবে তাদেরকে 'আইনের শাসন তত্ত্ব' কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, এটা একটা লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে এক্ষেত্রে বিচারকরা কি আইন অনুসারে বিচার করবেন, নাকি ক্ষেত্রবিশেষে তাদের নিজেদের বিবেচনা অনুসারে বিচার করবেন? যদি কোনাে বিচারক আইনকে উপেক্ষা করে আইনের আবরণে নিজের বিবেচনা অনুসারে বিচার করেন, তাহলে বিচার হলাে বটে, কিন্তু আইন অনুসারে নয়। এ ধরনের বিচারকে বড়জোর কাজীর বিচার বলা যায়। ফলে বিচার ব্যবস্থায় অরাজকতা সৃষ্টি হয়, বিচারের ক্ষেত্রেও আইনের শাসনের ব্যত্যয় ঘটে। এ ধরনের অবস্থা চিন্তা করেই Terminiello Vs. City of Chicago 33 US 1, 11 (1949) মােকদ্দমায় বিচারপতি ফেলিক্স ফ্র্যাংকফুর্টার বলেন:

We do not sit like kadi under a tree, dispensing justice according to consideration of individual expediency.

আদালত আইনের বৈধতা বিবেচনা করবে, আইনের বিচক্ষণতা নয়, সেটা দেখার জন্য জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রয়েছেন।  Noble State Bank Vs Haskell 219 US 575 (1911) মোকদ্দমায় বিচারপতি অলিভার ওয়েনডেল হোমস, জুনিয়র বলেন:

We fully understand .. the powerful argument that can be made against the wisdom of this legislation, but that point we have no concern.

অনেক সময় বিচারকরাই আবেদনকারীকে প্রতিকার দেওয়ার জন্য অতি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু খেয়াল করেন না যে আইনের সীমানা অতিক্রম করেছেন কিনা। যদি করেন, তবে আইনের শাসন বিচারক নিজেই ভঙ্গ করবেন, যা একেবারেই অনভিপ্রেত।।

এ বিষয়ে Central Board of Secondary Education Vs. Nikhil Gulatc (1998) 7 SCC 89 (para 12) মোকদ্দমায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সময়ােচিত সতর্কীকরণ প্রণিধানযােগ্য:

Occasional aberrations such as these, whereby ineligible students are permitted, under court orders, to undertake Board and/or University examinations, have caught the attention of this Court many a time. To add to it further, the Courts have almost always observed that the instance of such aberrations should not be treated as a precedent in future. Such a casual discretions by the Court is nothing but an abuse of process; more so when the High Court at its level itself becomes conscious that the decision was wrong and was not worth repeating as a precedent. It should better desist from passing such orders, at it puts the ÔRule of Law' to a mockery, and promotes rather the 'Rule of Man'.

(দ্য রুল অব থাম্ব, ভি.জে. টারাপরেভালা, পৃষ্ঠা ২৪)

অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস এবং লার্নেড হ্যান্ড তাদের সময়ের নামকরা বিচারক এবং জুরিস্ট ছিলেন। দুইজন সম্পর্কে অধ্যাপক রোনাল্ড ডোরকিন তার 'জাস্টিস ইন রোবস' গ্রন্থের শুরুতে একটি বর্ণনা দেন: 

একদিন হোমস সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথে তরুণ ছাত্র লার্নেড হ্যান্ড-কে তার ঘােড়ার গাড়িতে উঠিয়ে কলেজের কাছে পৌঁছে দেন। গাড়ী থেকে নেমে লারনেড হ্যান্ড বলে ওঠেন, 'Do justice, Justice'; ইতােমধ্যে গাড়িটি কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছিল। হোমস গাড়িটি ফিরিয়ে এনে হ্যান্ডকে অবাক করে বললেন, 'That is not my job'।

মধ্যযুগের প্রারম্ভে অনেক সময় রাজা নিজেই 'ফাউন্টেইন অব জাস্টিস' হিসেবে তার বিবেচনা অনুসারে বিচার করতেন। পরবর্তীতে রাজার পক্ষে লর্ড চ্যান্সেলর সাধারণ ন্যায়নীতি বা ইকুইটি অনুসারে বিচার করতেন। এভাবেই ৭০০ বছর আগে 'চ্যান্সেরি কোর্ট' এর জন্ম।

মধ্যযুগের শেষ ভাগে প্রশ্ন উঠলাে যে আইন কি 'ন্যায়' বা 'ইক্যুইটি'কে অনুসরণ করবে। তখন আইন প্রণয়ন করে আইন ও 'ইক্যুইটি' বিচার একই আদালতের আওতাধীন করা হলাে। বিধান করা হলাে যে ন্যায় আইনকে অনুসরণ করবে।

এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সকলকেই মনে রাখতে হবে যে নিজেদের বিবেচনা অনুসারে বিচার করতে গিয়ে আইন যেন হারিয়ে না যায় বা চাপা পড়ে। ভয় হয় যাদের হাতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখার দায়িত্ব তাদের হাতেই আইনের শাসন না কোমায় চলে যায়।

বিচারপতি বেঞ্জামিন এন. কারডোজো তার ন্যাচার অব দ্য জুডিশিয়াল প্রসেস গ্রন্থে বিচারকদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্বন্ধে বলেন:

The judge, even when he is free, is not wholly free. He is not to innovate at pleasure. He is not a knight-errant roaming at will in pursuit of his own ideal of beauty or of goodness. He is to draw his inspiration from his consecrated principles. He is not to yield to spasmodic sentiment, to vague and unregulated benevolence ..

একটি বিষয়ে আলােকপাত করা প্রয়ােজন। প্রায়ই দেখা যায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে এ অজুহাতে আইনবােদ্ধারা প্রবন্ধ লিখে বিচারিক বিষয়ে মতামত প্রকাশ করা থেকে নিরুৎসাহিত করেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে ব্রেক্সিট মােকদ্দমায় লর্ড নিউবার্গার গণমাধ্যমে এই ধরনের আলােচনার প্রশংসাই করেছেন:

.. We have also been much assisted by a number of illuminating articles written by academics following the heading down of the judgmen of the Divisional Court. It is a tribute to those articles that they have resulted in the arguments advanced before this Court being somewhat different from, and more refined than, those before that court.

এ প্রসঙ্গে বিচারকরা তাদের দায়িত্ব আরম্ভ করার পূর্বে যে শপথ বাক্য প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেন তার প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়ােজন:

.. আমি বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।

কাজেই একজন বিচারককে, তিনি যে দেশেরই হােন, তাকে আইন অনুযায়ী-ই বিচার করতে হবে, অন্যথায় শুধু আইনের শাসনের ব্যত্যয় ঘটবে না, সংবিধানও ভঙ্গ হতে পারে।দুঃখজনক হলেও সত্য যে এক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের অতীতের ভূমিকা মােটেই সন্তোষজনক ছিল না।

১৯৭০ সালের শেষদিকে এবং ১৯৮০ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান সমুন্নত রাখার পরিবর্তে তাকে ভূলুণ্ঠিত করে। সামরিক শাসন চালু থাকার সময়ে নিষ্পত্তিকৃত Halima Khatun Vs. Bangladesh 30 DLR (SC) (1978) 207 মােকদ্দমায় সুপ্রিম কোর্ট ঘােষণা করে:

.. with the declaration of Martial Law in Bangladesh on August 15, 1975, … by Clause (d) and (c) of the Proclamation made the Constitution of Bangladesh, which was allowed to remain in force, subordinate to the Proclamation and any Regulation or order as made by the President inpursuance thereof ..

সামরিক শাসন প্রত্যাহার হওয়ার পরেও State Vs. Haji Joynal Abedin 32 DLR (AD) (1980) 110 মােকদ্দমায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঘােষণা করে:

.. it leaves no room for doubt that the Constitution though not abrogated, was reduced to a position subordinate to the proclamation, ..

সর্বোচ্চ আদালতের আরও কয়েকটি রায়ে এভাবেই ৩০ লাখ শহীদদের রক্তের অক্ষরে লিখিত মহান সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ভূলুণ্ঠিত হয়। এ রায়গুলি শুধু আইনের শাসনের ব্যত্যয় নয়, সংবিধানও ভঙ্গ হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আইনের শাসন বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে।

যা হােক, প্রায় ৩০ বছর পরে Siddique Ahmed Vs. Government of Bangladesh 64 DLR (AD) (2013) 08 মােকদ্দমায় আপিল বিভাগই উপরে বর্ণিত রায়গুলি রহিত করে, বিচার বিভাগে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনে। তবে আবারও পদস্খলন হবে না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এ প্রসঙ্গে, লর্ড ডেনিং এর সেই বিখ্যাত উক্তি সব সময় মনে রাখতে হবে যে, বিচারককে 'Ivory tower' (জনবিচ্ছিন্ন) থাকলে চলবে না। তাদেরকেও সাধারণ জনগণের 'Scrutiny' বা সমালােচনার সম্মুখীন হতে হবে।

বিচারকরাও জনগণের সেবক। তাদের কর্তব্য আইন অনুসারে বিচার করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, তাদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। তবেই আইনের শাসন থাকবে, তবেই মহান সংবিধান সমুন্নত থাকবে, ত্রিশ লাখ শহীদদের কাছে আমাদের সকলের ঋণ সামান্য হলেও পরিশােধ হতে পারে।

এ পর্যন্ত আইনের শাসনের আলােকে রাষ্ট্রের প্রধান তিন অঙ্গের সম্পর্ক ও অবস্থান আলােচনা করা হলাে।

প্রতিটি অঙ্গে কর্মরত ব্যক্তিরা, যেমন, সাংসদ, পার্লামেন্ট সদস্য বা সিনেট সদস্য এবং রিপ্রেজেনটেটিভ সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য প্রথমত সংবিধান তৎপর অন্যান্য আইন অনুসারে পরিচালিত হয়।

একইভাবে রাষ্ট্রের নির্বাহী কর্মকর্তারা, যেমন, মন্ত্রী বা সেক্রেটারি অব স্টেট ও অন্যান্য সেক্রেটারি- সকলেরই দায়িত্ব-কর্তব্য আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রত।

তাছাড়া, রাষ্ট্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, সকলেই আইনের নিগড়ে আবদ্ধ। বিশেষ করে রাষ্ট্রের সেই সকল বিভাগে যারা কর্মরত যাদের সরাসরি ক্ষমতা প্রয়ােগ করার অধিকার রয়েছে (যেমন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) সেইসব বাহিনীর জন্য আইনের শাসনের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পৃথক পৃথক আইন ও বিধি রয়েছে। সকল বাহিনী তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইনের বিধান মেনে চলতে বাধ্য। যেমন, বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রযােজ্য 'পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল'l ও সংশ্লিষ্ট অন্য বিধি বিধান পুলিশ সদস্যের উপর বাধ্যকর। সে সকল আইন ও বিধি তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মানতে হবে। অন্যথায় আইনের শাসন ব্যহত হবে এবং তারা আইন অনুসারে বিচারের সম্মুখীন হবেন। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আইন তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেও সেই ক্ষমতা অত্যন্ত সংযতভাবে ব্যবহার করতে হবে।

একইভাবে বাংলাদেশের কোনাে সাংসদ যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনাে ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্য দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে সংবিধান অনুসারে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে এবং মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংসদ হওয়ার যােগ্য হবেন না। অন্যথায় আইনের শাসন ব্যহত হবে।

এমনিভাবে যদি কেউ ফৌজদারী অপরাধ সংঘটন করেন, তবে তিনি যত উচ্চ ও সম্মানজনক পদেই থাকুন না কেন, পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। অন্যথায় আইনের শাসন ব্যহত হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য পুলিশ দায়ী হবে। একারণেই রাষ্ট্রকে দক্ষ ও কার্যকর আইন প্রয়ােগকারী সংস্থা এবং নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ কর্তব্য রাষ্টের। অন্যথায় সব আয়ােজন ব্যর্থ হবে।

কোনাে আইন প্রয়ােগকারী সংস্থার কর্মচারী যদি ফৌজদারী অপরাধ করে তাকেও বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। সকলকেই মনে রাখতে হবে, ভয় পেতে হবে যে আইন ভঙ্গ করলে তাকেও শাস্তি পেতে হবে।

উপরের প্রত্যেকটি ক্ষেত্র আইনের শাসনের উদাহরণ। যদি কোনাে কারণে আইন অমান্য করা হয়, বা আইন অনুসারে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলেই আইনের শাসনের ব্যত্যয় হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

উপরের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসনের কথা বলা হয়েছে কারণ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই আইন ভঙ্গকারীকে, তিনি যত বড় শক্তিশালী ব্যক্তিই হােন না কেন, একই আইনের বিধান অনুসারে শাস্তি ভােগ করতে হবে। ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই আইনের বিধান অনুসারে একই আদালতে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে একই পদ্ধতিতে শাস্তি পেতে হবে, তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে মুক্তি পাবে।

যদিও আইন ভঙ্গকারীকে আদালতে বিচারক বিচার করে আইনের শাসন সমুন্নত করবেন, কিন্তু তিনি যদি নিজেই আইন ভঙ্গ করেন বা অপরাধ করেন- তবে আইনের শাসন তাকে ক্ষমা করবে না। আইনের মানদণ্ডে তারও বিচার হবে। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশে একই বিধান।

মনে রাখতে হবে যে অপরাধী যদি কারাে ক্ষতি করে বা কারাে বিরুদ্ধে অপরাধ করে, সে যেন মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করলাে। এখানেই আইনের শাসনের শ্রেষ্ঠত্ব।

ইংল্যান্ডে ১৬৬০ এর দশকে আর্ল অব ক্লারেনডন যে রকম বন্দিরা যাতে রিট অব হেবিয়াস এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় সে জন্য প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দিদেরকে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করে আইনের শাসন ভঙ্গ করেছেন, একইভাবে আপাত কোনাে অভিযােগ ব্যতিরেকে বছরের পর বছর গুয়ান্তামো বে কারাগারে বিনা বিচারে অন্তরীণ রাখাও আইনের শাসনের পরিপন্থি।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনোসেটাতে প্রতিবাদ চলার সময়ে জনৈক জর্জ ফ্লয়েডকে ডেরেক শভিন নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হাঁটুর নিচে তার ঘাড় চেপে রাখার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। বিচারে ডেরেক শভিনের এর সাড়ে বাইশ বছর জেল হয়। তাছাড়া, মিনোপোলিস কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৭ মিলিয়ন ডলার ফ্লয়েডের পরিবারকে দেয়। একেই বলে আইনের শাসন।

আমাদের দেশেও অনেক সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পুলিশের হেফাজতে আসামীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। তাছাড়া, নিপীড়ন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযােগ শােনা যায়। অথচ, এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে যা পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট মানতে বাধ্য, অন্যথায় তারা আইন ভঙ্গ করবেন, আইনের শাসন ভঙ্গ করবেন। অনেকে বলেন যে এছাড়া আসামীকে বিচারের সম্মুখীন করা দুরূহ। কিন্তু এ কোনাে যুক্তি হতে পারে না। কোনাে কারণেই আইন ভঙ্গ করা যাবে না।

প্রয়ােজনে অধিক সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ােগ দিতে হবে, তাদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, তাদের সুযােগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। তবে তাদের সঠিকভাবে অর্থবহ তদন্ত করতে হবে। কিন্তু জোরপূর্বকভাবে স্বীকোরক্তি আদায়, যদি করা হয়, নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ প্রথমত, এটি আইনের শাসন পরিপন্থি এবং দ্বিতীয়ত, অন্য কোনাে স্বাধীন সাক্ষ্য ব্যতিরেকে শুধু দোষ স্বীকোরক্তির ওপর ভিত্তি করে আদালত খুব কম ক্ষেত্রেই সাজা দেয়।

আইনের শাসন ভঙ্গের মানসিকতা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আর্থার এল গুডহার্ট তার 'দ্য রুল অব ল অ্যান্ড অ্যাবসুলেট সভেরিনিটি' বইটিতে একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন

.. we all remember President Andrew Jackson's comment on the Supreme Court decision in Worcester V. Georgia: 'John Marshall has made his decision: now let him enforce it'. (1832) This is a particularly striking illustration because the repudiation was made by the Chief Executive of the State, but the same principle is at issue whenever a public officer, however unimportant he may be, repudiates the obligations which he has accepted when assuming his office. It is not unreasonable therefore for us to judge the quality of the rule of law in any State by asking whether the police themselves obey the rule of law.

(ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া ল রিভিউ, ভলিউম ১০৬, ১৯৫৮, পৃষ্ঠা-৯৬১)

এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে যে পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে জেলায় জেলায় মামলা দায়ের হত, তাকে নানান জায়গায় ছুটে ছুটে জামিন নিতে হত। এইভাবে তিনি নিজেও ক্রমাগত 'আইনের শাসন' ভঙ্গের শিকার হতেন। যাতে অন্য কেউ আইনের শাসন ভঙ্গের শিকার না হন, সে কারণেই হয়তাে আমাদের মহান সংবিধানের প্রস্তাবনাতেই আইনের শাসনের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর,  যখন তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এসেছিলেন তখন 'আইনের শাসন' কায়েম করার ওপরেই সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজেই 'আইনের শাসনে'র শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন।

কারণ, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, ছিলেন জনগণের একচ্ছত্র নেতা, তিনি তাদের কষ্টের কথা নিজের অন্তরে ধারণ করতেন এবং সে কারণেই তিনি আইনের শাসন এর স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

আমাদেরও উচিত বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বীকৃত আইনের শাসনে বিশ্বাস করা। অন্তরে ধারণ করা।

উল্লেখ্য, যে আইন হচ্ছে- রায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলে দায়রা জজকে আইনের বিধান অনুসারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে নথি পাঠাতে হয়। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে দায়রা জজরা কঠোরভাবে এ আইন পালন করে আসছেন। উদ্দেশ্য হলাে, হাইকোর্ট বিভাগ যেন সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্সটি দ্রুততম সময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে ৮০০ এর বেশি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায়, কত শত আসামি কনডেম সেল এ বছরের পর বছর ফাঁসিতে মৃত্যুর অপেক্ষায়! এর থেকে অমানবিক ঘটনা আর কী হতে পারে! মৃত্যুর জন্য কনডেম সেল এ অপেক্ষমান আসামিদের নিকট আইনের শাসন কথাটি হাস্যকর।

তেমনিভাবে যদি কোনাে বিচারক আইনানুগ কারণ ব্যতিরেকে কোনাে মােকদ্দমা শুনানি করতে অনীহা প্রকাশ করেন, বা আংশিক শ্রুত মােকদ্দমা শুনানি সম্পন্ন করতে অহেতুক বিলম্ব করেন বা শুনানি শেষে রায় না দিয়ে মাসের পর মাস ফেলে রাখেন, তাহলে আইন ভঙ্গ হয় কিনা জানিনা, কিন্তু অবশ্যই আইনের শাসন ভঙ্গ হয়।

তবে এই শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে দেশের জনগণকেও সজাগ থাকতে হবে, যেমন এথেন্সের জনগণ তাদের ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যকলাপের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখতাে, তারা জানতাে Eternal vigilance-ই শুধু তাদের অধিকার সমুন্নত রাখতে পারবে, অন্যথায় নয়। এ কথা সকল যুগে সকল দেশেই প্রযােজ্য।

২০০৭ সালে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে 'ক্যাঙ্গারু কোর্ট' এ বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল যা ছিল আইনের শাসন ভঙ্গের এক চরম লজ্জাজনক উদাহরণ।

আমার এই আলােচনা শেষ করছি লর্ড টম বিনহাম এর 'দ্য রুল অব ল' গ্রন্থের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে:

The core of the existing principle is, I suggest, that all persons and authorities within the state, whether public or private, should be bound by and entitled to the benefit of laws publicly made, taking effect (generally) in the future and publicly administered in the courts…. But belief in the rule of law does not import unqualified admiration of the law, or the legal profession, or the courts, or the judges. We can hang on to most of our prejudices. It does, however, call on us to accept that we would very much live in a country which complies, or at least seeks to complay, with the principle I have stated than in one which does not.

(দ্য রুল অব ল, পৃষ্ঠা ৮-৯, ২০১০ সংস্করণ)

শেষ কথা 

যে পদ্ধতিতে ধনী-দরিদ্র, শক্তিশালী-দুর্বল, প্রভাবশালী-অক্ষম, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সকলের উপর সমভাবে, একই মানদণ্ডে আইনের প্রয়ােগ হয়, সেই পদ্ধতিকেই বলে আইনের শাসন।

আগের চার পর্ব

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক