কেন লিখি?

আনিসুর রহমান
Published : 8 Feb 2021, 09:09 AM
Updated : 8 Feb 2021, 09:09 AM

লেখালেখির জীবন গোবেচারার জীবন। তারপরও কিছু বোকাপ্রজ মানুষ কেন লেখে? কথাটার মধ্যে খটকাও অনেক। যখন আমরা দেখি জাঁদরেল আমলা, মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, ঠিকাদার, অধ্যাপক, উজির, নাজির, উকিল, ব্যারিস্টার, বিচারপতি মুকতার এরকম অনেকেই তো লেখালেখি করে খাচ্ছে। পদ পদবী পুরস্কার খ্যাতি লাভ করছে। তাহলে লেখালেখির জীবন গোবেচারার হবে কেন? মোক্ষম প্রশ্ন।
এবারে আরো কয়েকটা প্রশ্ন জুড়ে দিই। সক্রেতিস হুদাহুদি কেন তার কথা প্রচার ও প্রকাশের জন্যে হেমলক খেয়ে মরতে গেল আর কেন বলে গেল- I to die, You to live? খামোখা গো না ধরে বিচারের রায়ের শর্তে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিলেই তো পারতো। তাহলে প্রাণটাও রক্ষা পেত, আরো অনেক কিছু প্রচার ও প্রকাশের সুযোগ থাকত। কিন্তু তাতে সক্রেতিস আর সক্রেতিস থাকতেন না। সত্য পরাজিত হত, মিথ্যার জয় হত।

লেখালেখির উদ্দেশ্য হচ্ছে- I to die; তার মানে লেখকের জীবন ফালাফালা, জীবনের নিঃশ্বাস বাজি রেখে এ পথ। একই সঙ্গে You to live অর্থাৎ জীবনের জয় দেখানো। সক্রেতিস কথাটা বলে চলে গেলেন, কিন্তু আলোর মশাল জ্বেলে গেলেন সত্য ও জ্ঞানের নিরন্তর অভিষেকে। সে অনেক আগের গল্প, তাও আবার সুদূর গ্রিসের।

সেকেলে সেই গল্প ধরে বসে থাকলে কি পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের দ্বীপ বঙ্গে জীবন ও সংসার চলে? প্রশ্ন বটে। আর শেষোক্ত তাৎপর্য মেনে এ সময়ে আমি, আপনি, তিনি, সে, যারা লিখি- কেন লিখি?

আমাদের লেখালেখির দর্শনটা কী? আমার কেন যেন মনে হয় সক্রেতিসের শেষ কথাটা উল্টে আমরা করে নিয়েছি- I to live, You to die; আমার লেখালেখির উদ্দেশ্য আমার অবস্থা, সাফল্য ও খ্যাতির সুযোগ ও সুবিধার পালে আরো একটু হাওয়া জুড়ে দেওয়া। দরকার হলে অন্যকে ল্যাঙ মেরে, কনুই মেরে মিছিলের অগ্রভাগে ক্যামেরার সুবিধাজনক অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করানো। মন্দ কী? স্লোগান তো আছেই, বাঁচতে হলে লড়তে হবে, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে। সেই লড়াই চলবে পদের জন্যে, পদবীর জন্য, পুরস্কারের জন্য, সফরের জন্যে, তীর্থযাত্রার টিকেটের জন্যে, রাজসভায় দাওয়াতের জন্যে, নগরে প্লটের জন্যে, এরকম প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য হরেক কিসিমের সুবিধার জন্যে। সেই সঙ্গে অমরত্ব লাভের লোভ কে সামলাতে পারে? অপরাধী যখন অপরাধ করার মধ্যেও অমরত্ব লাভের একটা রোমাঞ্চ অনুভব করে মনে মনে, সেখানে লেখালেখি নিঃসন্দেহে আরো রোমাঞ্চকর ব্যাপার-স্যাপার।
সে যাকগে, লেখালেখি নিয়ে রফিক আজাদের পর্যবেক্ষণ ছিল এরকম- কিছু কিছু কাজ দেখলে ইচ্ছে করে এক একজনের গাল কষে থাপ্পর মারি। কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব নয়। তাই আরামের ঘুম হারাম করে রাত জেগে কবিতা লিখি।

কিন্তু তাতেও কি রেহাই আছে! জানের হুমকি, রুটি রুজির হুমকি, মামলার হুমকি তো আছেই। তাই বলে আদতে যারা লিখবেন, লেখালেখিতে টিকে থাকবেন, আখেরে তারা কি হুমকির ভয়ে কলম গুটিয়ে নিবেন? গোবেচারা হলে গুটিয়ে নিবেন না। আর বুদ্ধিমান স্মার্ট হলে হুমকিদাতার সঙ্গে আপস করে শান্তি স্থাপন করবেন। বোকা না হলে কি কেউ হেমলক হাতে নেয়! আমরা তো অতটা সেকেলে নই হুদাহুদি লেখালেখির জন্যে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনব। আমাদের লেখালেখির উদ্দেশ্য হচ্ছে যা আছে তার উপর আরো কিছু বাড়তি পাওনা, বোনাসের উপর বোনাস।

লেখালেখির মধ্যে আবার ফরমায়েশ খাটা লেখালেখিও আছে। তবে ফরমায়েশ খাটার মধ্যেও একটা নীতি আছে। এ প্রসঙ্গে আমার এক সময়ের বয়োজ্যেষ্ঠ সহকর্মী জাকারিয়া শিরাজীর কথা মনে পড়ে। উনার একটা নীতি ছিল, বেতন দিবেন, যা লিখে দিতে বলবেন লিখে দিব। কিন্তু আমার নামটা বিক্রি করব না। আমার নামে ছাপতে পারবেন না। আমার নামে যেটা ছাপাব নিতান্তই আমি যা লিখতে চাই, যা বলতে চাই তাই ছাপাব। আদতে এটাই হচ্ছে লেখালেখির নিগূঢ় কথা।

আবার কেউ কেউ ছাপার অক্ষরে নাম না দেখলে তারা স্বস্তি পান না, ঘুম আসে না। তাই লিখে যান, ছাপিয়ে যান, তাদের বলার বেশি কিছু না থাকলেও বলার ইচ্ছাটা ক্ষেপণাস্ত্রসম বেগবান।

কেউ লিখে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মানুষদের নজরে আসতে চান, কৃপা লাভ করতে চান। এ লাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ্রেণির মাস্টার পদ ও পদবীর লোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের কেন্দ্রের মানুষদের নজরে আসতে চামচায়ে তেলায়ে তেলাকার লেখালেখি করে যান। এ দলে আমলা-ঠিকাদার-ব্যাংকার-ব্যবসায়ী সম্পাদকরাও পিছিয়ে নাই। সবাই এগিয়ে চলছেন। তাদের উপর্যুপুরি অগ্রসরমান উত্থান দেখে আমার কেন 'অদ্ভুত আঁধার এক' কবিতার কথা মনে পড়ে। আমার মনে পড়া দিয়ে কিই বা যায় আসে। তারপরও কবিতার লাইনগুলো উল্লেখ করতে চাই:

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোন প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

একসময় দেশে দেশে রাজার দরবারে রাজকবি বা সভাকবির প্রচলন ছিল। বা রাজার ভাতাপ্রাপ্ত কবিও ছিল। মির্জা গালিব এরকম একটা দৃষ্টান্ত। একালে সভাকবি বা রাজকবি না থাকলেও যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে 'পেয়েট লরিয়েট' প্রথা চালু আছে। আমরা পারস্যের মহাকবি ফেরদৌসীর কথা উল্লেখ করতেই পারি। যিনি রাজদরবারের ফরমায়েশে লিখেছিলেন মহাকাব্য 'শাহনামা'।

পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশে, অনেক শহরে আবাসিক লেখক বৃত্তি চালু আছে। এসব বৃত্তির বড় শর্ত বা উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃত্তিকালীন সময়ে এক একজন লেখককে লেখালেখি করতে হয়। তার প্রস্তাবনা বৃত্তি পাবার আগে জমা দিতে হয়। স্ক্যান্ডিনেভিয় অঞ্চলের দেশ নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডে লেখকদের জন্যে কর্মবৃত্তি চালু আছে। এসব বৃত্তির শর্ত হচ্ছে বৃত্তির বিনিময়ে লেখককে তার প্রকাশনা চালিয়ে যেতে হবে।

তবে কথা হল এসব দেশে যখন এরকম ব্যবস্থা চালু ছিল না তখন কি লেখকরা লেখা চালিয়ে যাননি? আলবৎ গিয়েছেন। তবে আধুনিক কল্যাণনির্ভর সমাজ ও রাষ্ট্রের সংস্কারের আওতা থেকে লেখকরা কেন বাদ পড়বেন? তবে বৃত্তি বা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা বা অধিকার থাকুক বা না থাকুক লেখক তার লেখালেখি চালিয়ে যাবেন গোবেচারা দর্শনের উপর ভর করে। কালে কালে হয়েছেও তাই।
জীবন থাকলে, জীবনের সত্য থাকবে। সত্য থাকলে সেই সত্য প্রকাশের জন্যে কেউ না কেউ থাকবেন। আর এই কেউ না কেউ হচ্ছেন একজন লেখক।

আমি, আপনি থাকি বা না থাকি। সূর্য থাকবে। সূর্য উঠবে, আর এই সূর্য উঠার কালে নগরের কাক ভোরে ভোরে কা কা করবে। কাক কা কা না করলেও সূর্য উঠা থমকে থাকবে না। কিন্তু কাক কা কা করে নগরের মানুষ ও অন্যবিধ প্রাণীর ঘুম ভাঙার কাজটি করে। একজন কবি বা লেখকের লেখালেখি হচ্ছে ভোরের কাকের কা কা।

কিন্তু যারা এই তাৎপর্যের ঠিক উল্টোটা করেন, তারা কেন লেখালেখি করেন? তারা লিখেন বেঁচে থাকার জন্য। ভাবখানা এরকম তারা না লিখলে মারা যাবেন, মারা গেলে দেশ ও জাতির বড় রকমের ক্ষতি হবে। তাই তারা লিখেন, বেঁচে থাকেন, টিকে থাকেন দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করেন। ক্ষমতার হাওয়া বুঝে, সুযোগ বুঝে যার যার অবস্থান থেকে পাঠ্যপুস্তক বা সংকলন থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা, হুমায়ুন আজাদের লেখা, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা সরিয়ে নিজের লেখা বসাতে পারেন।

অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারিও করেন, জাতিকে ছবকও দেন, একই সঙ্গে বিদেশি বই বা ছায়াছবির কাহিনী নকল করে, বিদেশি গবেষণা, প্রবন্ধ নিবন্ধ নকল বা চুরি করে দেদারছে ছাপিয়ে যাচ্ছেন। এরাও তো লিখছেন? কেন লিখছেন? পাণ্ডিত্য জাহির করার ব্যাপার নিশ্চয়ই আছে। সেই সঙ্গে পদোন্নতি, পুুরস্কার সুযোগ সুবিধা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, কত কী। তারা এই জন্যেই লিখেন, এ জন্যই চুরি করেন।

কেউ কেউ আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যে রাতারাতি বীর হতে চান, বিদেশি কিছু সংস্থার নজরে আসতে চান। ঝোঁক বুঝে ফেইসবুকে লাইভ হয়ে যান। তারা অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করীর মত নিজের ঢোল নিজে পিটিয়ে লেখালেখির নামে নিলর্জ্জ আত্মপ্রচারে নেমে পড়েন। আর কিছু না পারলেও নিজের নামে ব্লগ খুলে বসেন। হয়ে গেলেন ব্লগার, লেখক। তারাও লেখেন।

আমাদের দেশে এরকম বার কিসিমের লোক আছেন যারা লেখালেখি করেন। কারো কারো আবার কালো টাকা সাদা করার দরকার হয়ে পড়ে। তাই ঘুষখোর আমলা উপায়ন্তর না দেখে লেখেন ছড়া, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, পত্রিকার কলাম। বই প্রকাশ করেন, কালো টাকা সাদা হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রকৃত লেখক ভাতে মরে। ঘুষখোরের বই প্রকাশ করে প্রকাশকের গায়ে গতরে চর্বি বাড়ে। ফুটপাতের পত্রিকার হকার রাতারাতি কোটিপতি প্রকাশক হয়ে যায়। তার ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্যে বিরলপ্রজ আমলা-মন্ত্রীদের না লিখলে কি আর চলে? তাই তারা লিখেন আর দেশ ও জাতিকে বাড়তি সেবা দেন।

এমন ব্যবসায়ীও আছেন যারা শ্রমিকের রক্ত শোষণ করেন, মজুরি ঠকান। সেই তারাই এসি রুমে বসে বাইরে অনাহারী, অর্ধাহারী নিরাপত্তা প্রহরী দাঁড় করিয়ে ভেতরে বসে শান্তির কবিতা রচনা করেন। প্রেমের কবিতা লিখেন, অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান করেন। বেশ তো! তাঁরাও লিখেন বেঁচে থাকার জন্যে। না লিখলে তারা যেন বাঁচবেন না। এরকম সকল কাজের কাজী অল রাউন্ডার আমলা ব্যবসায়ী, পণ্ডিত মাস্টাররা দীর্ঘজীবী হউন। আমাদের কাব্য, কথাসাহিত্য আর পত্রিকার কলামের বাম্পার ফলন হোক।

তবে এইবার একটু ভিন্ন কথা বলব। কেউ গোস্যা করবেন না। অসৎ লোকের জন্যে লেখালেখি নয়। মানদণ্ড দিয়ে দিলাম যে যা বোঝার বুঝে নিন। বাম্পার লেখকরা নিজ নিজ চোহারা আয়নায় দেখে নিন। নিজের আমলনামা মিলিয়ে নিন।

সত্যপ্রকাশে রবীন্দ্রনাথ কম যাননি। কোন ভয় বা রক্তচক্ষু টলাতে পারেনি। দমে যাননি কাজী নজরুল ইসলাম। সত্য প্রকাশে কাঙাল হরিনাথ ঠাকুর জমিদারদের খপ্পরে পড়েছেন, লাঠিয়ালের কবলে পড়েছেন। শেষতক লালন তার শিষ্যদের নিয়ে গিয়ে কাঙাল হরিনাথকে রক্ষা করেছেন। লাঠিয়ালরা পিছু হঁটেছে। বিপদের মুখে লালনও পড়েছেন, তার অপরাধ সত্যের প্রকাশ্য। ঝামেলায় পড়ছেন রনেশ দাশগুপ্ত, আরজ আলী মাতুব্বর, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ ছফা। তাই বলে তারা সত্য প্রকাশে দমে যাননি। এমনকি সত্যপ্রকাশের দায়ে চর্যাপদের কবিরাও দেশান্তরি হয়েছে। সেই ভিত্তিভূমির উপর দাঁড়িয়ে আমাদের প্রজন্মের কণ্ঠস্বরেরা কি এতটাই ভীরু, তারা গুটিয়ে যাবে, মিলিয়ে যাবে?

দেশ ও জাতির একজন লেখক ন্যায়সঙ্গত স্বার্থে দেশপ্রেমের কাফেলায় স্বদেশ চেতনার পক্ষে শামিল হবে। গোত্রভুক্ত হবে না। উপলব্ধির বিচারে লেখক দেখতে পাবেন ক্রীতদাসের হাসি আর রাজপুত্রের কান্না। একজন লেখক এই অর্ন্তদৃষ্টি অর্জন করেন।
আমরা যারা আমি আপনি তিনি সে লিখি তারা কি সেই অর্ন্তদৃষ্টি লাভ করেছি? না কি অন্ধদৃষ্টি নিয়েই হাতি দেখে যাচ্ছি? এই প্রশ্ন মাথায় রেখেই কবিতার কয়েকটি চরণ দিয়ে লেখাটির সমাপ্তি টানছি:

আমি একে একে সব হব −
আমি মন্ত্রী হব কবি হব দাতা হব ত্রাতা হব
টেলিভিশনের মালিক হব
পত্রিকার সম্পাদক হব
পিএইচডি হব গানের গুরু হব
আমি পণ্ডিব হব
শেয়ালকে নির্বাসনে পাঠাব
সেজদার ইমাম হব
দানের দানবীর হব
আমি পুরস্কার আর পদবী নেব
কায়েদে খেদমত হব
চাকরে চামচায়ে স্যার হব।

আমি একের পর এক হতেই থাকব
একের ভেতরে সব হব
সবের ভেতরে এক
লোভ ভন্ডামি ইতরামি লুটপাট গোগ্রাস
দুই নম্বরী ক্ষমতা খ্যাতি নির্লজ্জ উল্লাস।

[জাতীয় ফ্যাশন শো, লোনলি ক্রাউড পেয়েট্রি, ২০২১]

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক