‘পরিবেশবান্ধব’ আচরণবিধি ছাড়া কীসের ভোট করছে ইসি?

আইরিন সুলতানা
Published : 29 Jan 2020, 11:45 AM
Updated : 29 Jan 2020, 11:45 AM

নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, অন্যান্য দল এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যা কিছু বাক-বিতণ্ডা হয় তা পুরোটাই রাজনৈতিক। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষায় সবার আবদারটাও নিজেদের রাজনীতিকে ঘিরে। এসব ফিল্ডে জনগণ প্রাধান্য পায় না। পরিবেশ-প্রতিবেশের পাশাপাশি মানুষের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য আর মানবিক-রাষ্ট্রীয় অধিকারের বিষয়টি তো গোণাতেই নেই।

এই যেমন সাংবিধানিকভাবে হাতে সময় থাকতেও ভোট ৩০ তারিখ করাটা এত বেশি জরুরি করা হয়েছিল যে কমিশনের মনে বসত করা সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুভূতি পূজার পবিত্রতাকে নিমিষেই ভোটের কাতারে নামিয়ে আনতে দ্বিধা করেনি। এর উল্টোটা ভেবে দেখুন; ভোটের পবিত্রতার সাথে যদি কেউ আসমানি কিতাব বা নামাজ-রোজার তুলনা করে ফেলতো কেউ তবে তার নামে অনুভূতির সমন জারি হতে দেরি হতো না।

রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থার সংখ্যালঘু অবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তাতে গোঁ ধরে বসে থাকাটা ছিল অ্যালার্মিং। সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে অহরহ দুর্গা প্রতিমার মাথা ধুলায় গড়াগড়ি খায়। ওদিকে সরস্বতী দেবীর আবেদনও আদালতের দ্বারে এসে নাচক হয়ে গেল। এরপর আবার আদালতে দেখিয়ে কমিশন ভোট না পেছানোর বাহানা করলো। নির্বাচন কমিশন যে শেষমেষ ভোটের কারণে পূজা পিছিয়ে দিতে বলেনি এই তো ঢের।

সংখ্যাগরিষ্ঠের শেখানো 'অসাম্প্রদায়িক দেশ' বুলিতে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা সংখ্যালঘুরা যে শেষ পর্যন্ত তাদের পূজার দিনক্ষণ ঠিক রেখে ভোট পেছাতে রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থাকে টলাতে পেরেছে সে এক দুঃসাহসিক ঘটনা বটে। তবে এই ঘটনায় এটা স্পষ্ট ছিল যে  আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেওয়া নির্বাচন কমিশনের কাছে যতটা মুখ্য, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তাদের কাছে ততটাই গৌণ ছিল।

হিন্দুরা পূজার অঞ্জলি রাজপথে ঢেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি যতই দিক না কেন, আসলে 'গুটিকয়েক' হিন্দুর জন্য কমিশন টলেনি। বিএনপি-আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের-ফখরুল-ইনুর মত নেতারা ভোট আগানো-পেছানো নিয়ে মুখ খুলেছিলেন; আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশনে না গেলে এ যাত্রা পূজা পেছালেও ভোট পেছাতো না।

ফলে নির্বাচন কমিশনের এই ভোট পেছানোটাও পূর্ণদৈর্ঘ্য রাজনৈতিক; ঢাবি ক্যাম্পাস শান্ত রাখা, বিএনপি-আওয়ামী লীগকে খুশি রাখা। নয়তো পূজার দিনে ভোটের তারিখ রাখা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দুঃখবোধ নেই ইসির। হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি ইসি।

ভোট না পেছানোর একটা অজুহাত ছিল এসএসসি পরীক্ষা। ভোট পেছানোর পর এসএসসিও একটু পিছিয়েছে। এসবে মনে হতে পারে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন বেশ উদগ্রীব। তাই কি?

এসএসসি পরীক্ষা ১ ফেব্রুয়ারি হোক বা ৩ ফেব্রুয়ারি, শিক্ষার্থীদের জন্য এর চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাস জানুয়ারি। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন, মার্কা বরাদ্দের পর এই মাসেই নির্বাচনী প্রচারণার ছাড়পত্র পায় প্রার্থীরা। এবং সেই অনুযায়ী কোমর বেঁধে প্রচারণাতেও ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা।

নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলায় তর্জন-গর্জন করছে শুরু থেকেই। প্রার্থী যে দলের সমর্থন পাওয়াই হোক না কেন, যেহেতু কমিশন নিরপেক্ষতার অগ্নিপরীক্ষায় সফল হওয়ার দৌড়ে নেমেছে তাই এক চুল ছাড় পাচ্ছে না কেউ।

নিজের জন্য ভোট চেয়ে কাউন্সিলর এবং মেয়র প্রার্থীদের সবারই একটি ভোটের গান রেকর্ড করতে দেরি হয়নি। তারপর রিকশা অথবা ভ্যানে বসানো মাইকে এলাকার অলিগলিতে একটার পর একটা গান বেজে চলেছে। এক প্রার্থীর মাইকের সুর মিলিয়ে যেতে না যেতেই আরেক প্রার্থীর গান চালু। সব প্রার্থীই গান বাজাতে পারায় নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলো ভেবে রাজনৈতিক ঢেঁকুর তুলছে।

এরা কেউ ভেবে দেখেননি এসএসসি পরীক্ষার আর মাত্র হাতে গোণা দিন বাকি থাকায় এই সময় শিক্ষার্থীরা মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি  নিচ্ছে। এই সময় তাদের পড়তে যেমন হবে, তেমনি চাপমুক্ত সুস্থ থাকতে বিশ্রামও নিতে হবে। মাইকের শব্দদূষণ এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য হানিকারক। শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ তো হাতছাড়া হয়েছে আগেই, এবার শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটাও হারালো নির্বাচন কমিশনের বিধির গ্যাঁড়াকলে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একটি সংবাদ প্রতিবেদন পড়ে বুঝতে পারলাম, মাইকে সেসব গান বেজে চলেছে, তাতে কপিরাইটের কোনো বিধি মানার বালাই নেই। তাহলে নির্বাচন কমিশন কোন আচরণবিধি মেনে চলতে বলেন?

সিটি করপোরেশন (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালার (২০১৬) ২১ নম্বর শর্তে মাইক্রোফোন ব্যবহারের বিধি-নিষেধ নিয়ে বলা আছে। এখানে একের অধিক মাইক্রোফোন বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার না করতে বলা আছে। এই বিধির ফাঁক-ফোকরটি হচ্ছে, শব্দের ডেসিবল সহনশীলতা নিয়ে কিছু বলা-কওয়া নেই।

আচরণ বিধিতে ব্যাখ্যা না থাকায় ধরে নিচ্ছি শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র বলতে সাউন্ড অ্যামপ্লিফায়ার, সাউন্ড বক্স, বিভিন্ন আকারের মাইক বোঝানো হয়েছে। এসব স্পষ্ট করে না বলায় এই বিধি বাস্তবে কার্যকারিতা  হারাচ্ছে। ফলে প্রার্থীদের প্রচারণার এই উত্তুঙ্গ দশায় নিয়মিত ঘটছে শব্দ দূষণ। এতে শিক্ষার্থী ও বড়দের কানের পর্দা ফাটলেও থাকলেও তাতে কর্ণপাত করার সময় কোথায় নির্বাচন কমিশনের?

সোশাল মিডিয়াতে লেখালেখি চলছিলই, তারপর গণমাধ্যমও গুরুত্বের সাথে নজরে আনে বিষয়টা। এরপর হাই কোর্ট থেকে অবশেষে নিষিদ্ধ হলো পলিথিন মোড়ানো পোস্টার। সম্ভবত একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বৃষ্টির হাত থেকে কাগজের পোস্টার বাঁচাতে এই প্লাস্টিক মোড়ানো পোস্টারের ব্যবহার ব্যাপক মাত্রা নেয়। আজকে এসে আদালত এ নিয়ে কথা বললেও, নির্বাচন কমিশনের এখনও এ দিকে নজর নেই কোনো।

প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধে বিশ্বে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে একে একে প্লাস্টিক ও পলিথিনবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে পরিকল্পনা জোরদার হচ্ছে। পরিবেশের কথা চিন্তা করে কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের একটি পাঁচ তারকা হোটেল প্লাস্টিক বোতল আর স্ট্র ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। দেশে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি আইনও রয়েছে। অন্তত সেটা আমলে রেখেও আইনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারতো নির্বাচন কমিশন। কিন্তু না, এসব নিয়েও কোনো হেল-দোল নেই নির্বাচন কমিশনের।

হাই কোর্টের পলিথিন মোড়ানো পোস্টার বন্ধের আদেশে কমিশন টুঁ শব্দটি না করলেও একজন মেয়রপ্রার্থী  আগামীতে পোস্টার-ব্যানার ছাড়াই প্রচারণায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। অন্যসব প্রার্থীরাও একইভাবে সাড়া দিতে পারতেন। তবে তারা সে সাড়া না দিলেও তাদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ নির্বাচন কমিশন যে আচরণবিধি  মেনে চলায় সবাইকে খবরদারি করছেন, সেটা তো নগরবান্ধব কিছু নয়।  বরং পুরো আচরণবিধি আসলে পোস্টার-ব্যানার দিয়ে একভাবে শহর-নগর ঢেকে ফেলায় উদ্বুদ্ধ করে।

আচরণ বিধির ৮ এবং ৯ নম্বরে পোস্টার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট, ভোটার স্লিপ নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। ব্যানার নিয়ে প্রচারণা করা যাবে কি যাবে না তা স্পষ্ট নয় এই আচরণবিধিতে। অবশ্য ২৬ নম্বর শর্তে বলা আছে নির্বাচনী প্রচারণায় স্থায়ী-অস্থায়ী কোনো বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না।  আচরণবিধিতে বিলবোর্ডের কোনো সংজ্ঞা ও মাপ নেই। এতে করে বিলবোর্ড না বসালেও ব্যানার বসানোর সুযোগ নিতেই পারেন প্রার্থীরা।   আর নির্বাচন কমিশন এইসব সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় শৈত্যপ্রবাহের জেরে সূর্যের মুখ দেখা  দুরূহ হয়ে ওঠার এই ঋতুতে  ছোট-বড়-মাঝারি ব্যানারে ঢাকা নগরের গলি থেকে গলিতে রোদের ছটা আসার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটাও হারাতে বসেছে নগরবাসী।

আচরণবিধির শুরুতে 'পোস্টার লাগানো'  অর্থ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, আঠা দিয়ে সাঁটানো বা ঝুলানো বা টাঙ্গানো। পোস্টারের আকার ও রঙ নিয়ে নিয়ম বাতলে দিয়ে দেয়ালে পোস্টার না লাগাতে বলার কষ্টটুকু করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া ভোটকেন্দ্র বাদে প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার যে কোনো স্থানে পোস্টার লাগানোর খোলা অনুমতি দিয়ে রেখেছে খোদ নির্বাচন কমিশন। তাই প্রার্থীরা পোস্টার লাগিয়ে নগর ছেয়ে ফেলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের মত কাজ করছেন এমন কোনো অভিযোগ আনার সুযোগ নেই। নীতিগতভাবে হয়ত প্রার্থীদের দায় দেওয়া যায়, কিন্তু আসলে এসবের পেছনে নির্বাচন কমিশনের দায়হীনতাই দায়ী।

নাগরিকের আকাশ ঢেকে যাচ্ছে মেয়র আর কাউন্সিলরদের পোস্টারের ভিড়ে, তাতে নির্বাচন কমিশনের তোয়াক্কা নেই।  নাগরিকের আকাশ দেখার যে অধিকার তার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড- রক্ষা করার গরজ নির্বাচন কমিশনের নেই।  পোস্টার কখন খুলে নিতে হবে, কে খুলে নেবেন, সেটাও আচরণবিধিতে যোগ করার প্রয়োজন বোধ করেনি নির্বাচন কমিশন।

এই রকম পরিবেশ ও নাগরিক  'অবান্ধব' একটি নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কী করে একটি নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনা করতে পারে? নগরের পরিবেশ দূষণকে তরান্বিত করা এই আচরণবিধি নিয়ে কী করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে?  ভোটের তোড়জোড়ে  সৃষ্ট  শব্দ দূষণে নাগরিকের স্বাস্থ্যহানি করে সেই নাগরিককে কি ভোট দিতে যাওয়ার কথা বলা যায় আর?

ডিজিটাল বাংলাদেশ একদিকে 'লেস পেপার' নীতিতে এগুচ্ছে, আর এর উল্টোরথে চড়ে প্রার্থীদের কাগজের পোস্টার করায় 'উস্কানি' দিয়ে ভোটের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।

পলিথিন ব্যবহার করা তো যাবেই না, কাগজের পোস্টার-লিফলেট একেবারেই বন্ধ হওয়ারও সময় এখন। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে প্রতি ওয়ার্ডে ও করপোরেশনের আওতার এলাকায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট অস্থায়ী বোর্ড বসাতে পারে; যেখানে মনোনয়ন পাওয়া ওই এলাকার প্রার্থীদের নাম, সমর্থনকারী দল ও প্রতীক দেওয়া থাকবে এলাকাবাসীর কাছে তাদের সবাইকে সমানভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে। এর বাইরে প্রচারণায় নেমে প্রার্থীদের পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব আচরণের মধ্যে দিয়ে ভোটারদের মন জোগাতে হবে।

তাই সময় এসেছে প্রার্থীদের প্রচারণার ধরন পাল্টানোরও। এই যে কোনো প্রার্থী টং দোকানে চা বানালেন, কোনো প্রার্থী বাসের হেলপারি করলেন, এ বেশ অভিনব। যে বাস হেলপার ভোট দেওয়ার জন্য একদিন সময় বার করে কেন্দ্রে যাবেন, তার তো মেয়র প্রার্থীর কাছ থেকে একটু সময় পাওনা থাকেই। এসবের মধ্যে যারা স্ট্যান্ট খুঁজে পান তারা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির মত ক্লিশে।

প্রচারণায় এই নির্দিষ্ট সময়ে ইশতেহার প্রকাশ ছাড়া প্রার্থীদের একটাই বড় কাজ; ভোটারদের সাথে নিজেকে 'কানেক্ট' করা। জনগণের মাঝে গিয়ে যত সহজে বসতে-দাঁড়াতে-হাঁটতে পারবেন ততই জনস্রোত সেই প্রার্থীর দিকে নজর দেবে।

তাই চায়ের দোকানেই মেয়র প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই। বাসের হেলপারিতে মেয়র প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই। নদীতে মাছ ধরে মেয়র প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই। একদিন সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে মেয়র প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই। কখনও মর্নিং ওয়াকে কখনও ইভনিং ওয়াকে কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই। মেডিটেশনে মেয়র প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই। ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা আর চিতুই পিঠা কিনতে গিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোটের প্রচারণায় চাই।

প্রচারণার এই বেঁধে দেওয়া সময়ে মেয়র অথবা কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রত্যেকেই একক ও প্রতিপক্ষের বিপরীতে গণমাধ্যমে আলোচনা-বিতর্কেও আসতে পারেন।

প্রচারণা এমন হলে প্রচার বেশি হবে, আলোচনা বেশি হবে। ভোটারের জন্য প্রার্থীকে দেখার-শোনার এবং জানার সুযোগও বাড়বে। পোস্টার আর লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে ভোট চাওয়ার অবসান হোক এখনই।

ভোটের সময় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের উচিৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো। বাণিজ্যিক-আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর আশেপাশে এবং দিন-রাত ভেদে শব্দের ডেসিবল মাত্রা নিয়ে গাইডলাইন রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। তাই আচরণবিধিতে শর্ত যোগ হোক, কোনো প্রকার শব্দদূষণ ও পরিবেশদূষণ করে ভোট চাওয়া যাবে না।

২০২০ সালে এসে আচরণবিধি খোলনলচে পালটে ফেলা নির্বাচন কমিশনের জন্য 'পবিত্র' কাজ হয়ে উঠেছে। ভোটের প্রচারণা হতে হবে জনবান্ধব, শিশুবান্ধব, জনস্বাস্থ্যবান্ধব এবং পরিবেশবান্ধব। ভোটারের মানবিক অধিকার, নাগরিক অধিকার আর মেধাস্বত্বের অধিকার হরণ না করে তবেই কেবল ভোট হতে পারে।

পুনশ্চ:

তবু ভালো নির্বাচনী আচরণবিধিতে প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য আকাশযান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধারণা করছি, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন দূরদর্শী ছিলেন। তাদের নিশ্চয়ই ভয় ছিল এই বিধি-নিষেধ না থাকলে প্রার্থীরা 'রকেট' নিয়েই ভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নেমে পড়বেন!

বারবার নির্বাচন আয়োজন করেও প্রতিবারের অভিজ্ঞতা থেকে কমিশন কোনো জনবান্ধব-পরিবেশবান্ধব শিক্ষা নিতে পারছে না বলে মনে হচ্ছে; নয়তো আচরণবিধি আগেই হালনাগাদ হওয়ার কথা। তবে ইসি শিক্ষা পাক বা না পাক, সরস্বতী দেবীর কিন্তু ঢের শিক্ষা হয়েছে!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক