ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশ পাথর, রাজপথ এক নিজাম ডাকাত

লুৎফুল হোসেন
Published : 13 August 2018, 01:10 PM
Updated : 13 August 2018, 01:10 PM

ছাইরঙা শ্রাবণ মেঘের আঁধার যখন ঢেকে রেখেছে এ শহরের আকাশ। সদ্য ঘটে যাওয়া অভাবনীয় কিশোর সামাজিক আন্দোলন তখন প্রজ্জ্বল আলোকরশ্মি হয়ে উঁকি দেয় ওই মেঘের আড়াল থেকে। হাতছানি দিয়ে জানান দেয় এই কিশোর প্রতিবাদের হাত ধরে সাফল্যের ভেলায় চড়ে দেশটাকে কোনো এক স্বপ্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেবার অমিত সম্ভাবনার কথা।

কোনও লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা এবং তা বাস্তবে সংঘটিত হওয়ার মধ্যে তফাৎ এক্ষেত্রে কতটুকু! এর জবাব জানতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। কিন্তু ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য যেটুকু ঘটে গেছে তা এই যে, ৪৭ বছরে না হওয়া অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বাচ্চারা। এদেশের চির অনিয়মের রাজপথকে নিয়মের সরলরৈখিক পথে প্রশ্নহীন চলতে শিখিয়েছে। অবাক উন্মোচনে দৃশ্যমান করেছে এই সত্য যে, আইন প্রয়োগকারী মানুষই আইন ভঙ্গকারীর তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে। সেই সাথে এটাও অনায়াসে প্রতিষ্ঠা করেছে এই শিশু কিশোরেরা যে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আসতেই হবে।

বাচ্চারা কাজটা এতো সহজ, স্থির ও শান্ত মস্তিষ্কে প্রতিষ্ঠা করেছে যা অবিশ্বাস্য। কেননা তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ও বর্ষীয়ান পূর্ব প্রজন্ম থেকে কেউই এ নজির ইতোপূর্বে রাখতে সক্ষম হয়নি। বড়রা কেউই তাদেরকে এসবের পথ পন্থা কিছুই শিখায়নি। একটা অরাজক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার বিপরীতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রয়োগের তাগিদে এই ঘুরে দাঁড়ানোর অভূতপূর্ব নজিরটাই এদেশটার নিয়মে ফিরবার প্রথম পদক্ষেপ।

যতো হতাশা বা ব্যর্থতার তকমাই আমরা এর সর্বাংশে জুড়ে দিতে চাই, পুরোপুরি ব্যর্থ আমাদের সন্তানেরা অবশ্যই হয়নি। হয়নি বলেই এই ঝকমারি নিমজ্জিত সময়ে ঘোষিত ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম তিন দিনেই সারা দেশে মামলা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫৪৯টি এবং জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৯৫ টাকা। সেইসাথে জব্দ হয়েছে ১৮৭০টি গাড়ি।

নগন্য নিষ্পাপ শিশু-কিশোররাই আমাদেরকে এমন সঠিক পথে ফিরবার অভিযাত্রায় নামিয়েছে। এদের প্রাপ্য সম্মান দিতে এবং এদের শুরু করা কাজ শেষ করতে আমাদের প্রথম ও অবশ্য করণীয় হলো রাজপথের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, আইন অমান্যের জন্য প্রযোজ্য শাস্তি আরোপ করা। এটুকু নিশ্চিত করবার পর বাকিটা ধাপে ধাপে মুঠোয় এসে ধরা দিতে থাকবে।

সেই লক্ষ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়াটি অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রণালয় অবশেষে সংসদে উপস্থাপনের জন্য পাঠিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে দীর্ঘকাল পরে এ প্রদঙ্গে একটা উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক নিদর্শন। তবে এই প্রস্তাবিত আইনটি যথাযথ কিনা, সড়কপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে বাস্তবিক অর্থে কতখানি কার্যকর হবার সম্ভাবনা আছে তা যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ রাখে।

প্রসঙ্গটিকে দুটা স্পষ্টভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে বিবেচনা করা আবশ্যক।

এক, প্রস্তাবিত নতুন সড়ক পরিবহন আইনের সক্ষমতা। সত্যি সত্যি কি এই সংশোধিত আইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঙ্খিত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে?

দুই, সড়ক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি নতুন আইনই যথেষ্ট হতে পারে নাকি এ ছাড়াও সড়ক পরিবহন খাতের ব্যবস্থাপনা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবার পক্ষ, যার পুনর্বিন্যাস ছাড়া এই আইন কার্যকর হতে পারবে না।

প্রথমে নতুন আইনের প্রসঙ্গটি বিশ্লেষণ করলে কি পাই!  এতে সন্নিবেশিত আইনের প্রধান উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে বেশ কিছু সাংঘর্ষিক প্রস্তাবনা আছে। যা এর সক্ষমতা খর্ব করে।

ক। গাড়ি দিয়ে মানুষ হত্যা করলে ৩০২ ধারা মোতাবেক শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড (হত্যা প্রমাণিত হলে)। আবার অন্যত্র বলা হচ্ছে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড। গাড়ি পাল্লা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। তাহলে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বা পাল্লা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে যদি মানুষ মারা যায়, সে ১ জন হোক কি ১০ জন বা যে কোনো সংখ্যায়, তখন কোন পন্থায় সত্যিকারের বিচার ও সাজার সুযোগ থাকে ! এরকম আইন সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর।

খ। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদণ্ড। নকল লাইসেন্স ব্যবহার করে ধরা পড়লে ২ বছরের কারাদণ্ড। তাহলে ধরা পড়লে কেউ কি তার নকল লাইসেন্স দেখাবে!

এ বিবেচনায় প্রশ্ন দাঁড়ায়, তাহলে কি ড্রাইভাররাই স্বেচ্ছায় লাইসেন্স ছাড়া বা নকল লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালায়!

আরো খুঁটিনাটি প্রসঙ্গ থাকলেও উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি এবং সাংঘর্ষিক প্রসঙ্গতেই সীমাবদ্ধ রেখে এবার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে আসি।

সব অনিয়মের কারণ কি ড্রাইভাররাই?  শাস্তি কী তাহলে শুধু ড্রাইভারকেই দেবেন? এক্ষেত্রে আসলে প্রথমে বুঝতে হবে এ শহরে এবং এদেশে পরিবহন ব্যবস্থা কী নিয়মে চলে। বিভিন্ন মানুষ তার পুঁজি বিনিয়োগ করে বাস কিনে পুলে জমা দেয়। সেই বাসের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে ফেডারেশনের। মালিকের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ওই গাড়ি নিলাম পদ্ধতিতে ফেডারেশনকে প্রতিদিন পথে নামার অনুমতি পেতে বড় অংকে টাকা দিতে বাধ্য।

এবার চালক-মালিক ট্রিপ মেরে সেই টাকা উঠানোর পর নিজেরা কামাই করতে পারবে। তো বসে থেকে ঘি মাখন ফেডারেশন নিয়ে নেবার পর ড্রাইভার আর মালিক লেগে পড়ে মাঠাকে কচলে টচলে কিছু ছানা আর তেল বের করতে।

তখনই যৌক্তিক হিসাবে ৪ টা রাউন্ড ট্রিপ দিতে পারা গাড়ি ৬ টা রাউণ্ড ট্রিপ দিতে মরিয়া হয়। ফলে যে ওভার স্পিডিং এবং রুল ব্রেকিং হতেই থাকে, তার জের হচ্ছে নিয়মিত দুর্ঘটনা। উপরন্তু, ড্রাইভারদের এরকম একটা হারিকিরি প্রতিবেশে গাড়ি চালাবার পেছনে মদদ দিতে এই যে নিয়মিতভাবে বলা হয়, যেভাবে পারিস ওই টার্গেট অনুযায়ী চালাতে হবে। মানুষ মরলো না বাঁচলো সেইসব দেখা লাগবে না। তখন জীবন বাজি রেখে ড্রাইভিং করা মানুষগুলো হয়ে ওঠে সীমাহীন বেপরোয়া। যাকে আপনি মৃত্যু ভয় দেখিয়ে বিচলিত তো দূর, আরো বেপরোয়াই করে তুলতে পারবেন।

এই অনিয়ম চক্রেরই এক রকম বাই প্রোডাক্ট হলো লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার। পুরোপুরি শিক্ষিত এবং লাইসেন্সওয়ালা ড্রাইভার হলে যে পুতুল নাচের নিয়ন্ত্রণ আর থাকবে না। ড্রাইভার ও মালিক সকলেই আসলে এক রকম জিম্মি সিস্টেমের কাছে।

মোদ্দা কথা প্রতিটা অঘটনের পেছনে দায়ী হলো সড়ক ব্যবস্থাপনায় মুখ্য ভূমিকার হোতা পরিবহন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশে অন্য সব সমিতি বা মাতব্বরিতে বরাবরই ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র আধিপত্য বা দখল দেখি আমরা। কোথাও অন্য দলের কাউকে পিয়ন আর্দালির পদেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ কেবলমাত্র পরিবহন খাতে সব দল একসাথে আছে। এখানে মাফিয়া চক্র সবচেয়ে সংঘবদ্ধ। এদের টিকি ছুঁতে পারে নাই এযাবৎ কালের কোনো সরকারই। সবচেয়ে কম রাজনৈতিক পিছুটান ছিল যে এরশাদ সরকারের, তারাও অন্যান্য দেশের মতো কেন্দ্রীয় একটা ব্যবস্থাপনায় ঢাকার বাস সার্ভিসকে আনতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

ফেডারেশনের বাড়তি টাকার চাপ না সরে যাওয়া পর্যন্ত ওভারস্পিডিং, ফিটনেস বিহীন, বিপদজক মানের গাড়ি রাস্তায় নামা থামবে না। সেই সাথে লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার ও বেপরোয়া ড্রাইভিংও থামবে না। তাই নতুন আইনে কেবল ড্রাইভার নয়, মালিক ও ফেডারেশনকে ড্রাইভারের চাইতে অধিকতর সাজা ও জরিমানার আওতায় আনতে হবে। নাহয় সত্যিকারের সমাধান হবে না – নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের।

এখন দেশের এরকম অবস্থাতেও এই কারণেই জাবালে নূর গাড়ির রঙ আর নাম পরিবর্তন করে পথে নামার জন্য তৈরি হচ্ছে। দুর্ঘটনার দুই কী তিন দিন পরই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন অন্যান্য পরিবহনগুলোও এই রঙ পালিশের কাজে নেমেছে, যাদের ইঞ্জিনের অবস্থা আনফিট এবং যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা যা তা রকমেরই বিদ্যমান থাকছে। আর হ্যা গণপরিবহনের আনুমানিক ৩৫ শতাংশ গাড়ির কাগজপত্র নেই এবং যাদের আছে তাদেরও যোগ্যতা বিবেচনা ছাড়াই আছে।

তাই ফেডারেশনকে যত দিন সাজার সিংহভাগ দিয়ে আইনের আওতায় আনা না যাবে ততদিন পথে পথে খুন হবেই মানুষ।

এটা এক অর্থে অতীব জটিল এবং প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। তবে হ্যা, যদি এটা নিশ্চিত করা যায় যে, জেনুইন ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ পথে নামতে পারবে না এবং পথে নেমে আইন ভাঙলে কঠোর সাজা থেকে কেউ মাফ পাবে না, তাহলে সম্ভব অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকিয়ে দেয়া। আর এটুকু করতে হলে বুয়েট বা এরকম অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করতে হবে লাইসেন্সিং এর কাজে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তের কাজেও এমন তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্তি আবশ্যক। নইলে কিচ্ছু হবে না। সত্যি সত্যিই কিচ্ছু হবে না।

অথচ বাচ্চাগুলোর পুরষ্কার এমন চপেটাঘাত কখনোই হওয়া উচিৎ ছিল না। এদের মনিস্তাত্বিক নেতিবাচকতা কি হলো তা একজন মনস্তাত্ত্বিক ভালো বলতে পারবেন। যদিও এতেই একদল ইতিবাচকভাবে উল্লাসে আছে যে, কোটি কোটি নতুন ভোটারকে এই অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে একটা দলের উপর বিষিয়ে দিতে পেরেছি। তাদের কাছে বাচ্চাগুলা মূল্যহীন। তাদের ফায়দাটুকুই মূল্যবান।

আরো একটু কথা যোগ করতে চাই। বাস্তবতা হলো এই যে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি আসলে সেভাবে কোথাও কোনো দেশে হয় না। শাস্তিটা হয়, নিয়ম বা আইন ভঙের জন্য। ড্রাঙ্ক ড্রাইভিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, স্পিড লিমিট অমান্য, এইসব বিবিধ অপরাধের সাজা বাড়ানো এবং সত্যি সত্যি সেটা প্রয়োগ নিশ্চিত করাটা যদি আমরা পেরে উঠি তবে দুর্ঘটনা আসলেই দুর্ঘটনার বৃত্তে আটকা থাকবে। নচেৎ আগের মতোই সড়ক পথে খুন চলমান থাকবে।

এসবের পাশাপাশি লাইসেন্স বা ফিটনেস বিহীন গাড়ির জন্য মালিক এবং ফেডারেশনকে কড়া শাস্তি ও জরিমানার বিধান করতে হবে। দুর্ঘটনা ও ভূয়া ড্রাইভারের চালক আসনে বসার জন্য ড্রাইভারের পাশাপাশি মালিক এবং ফেডারেশনকে দায়বদ্ধ করে শাস্তি ও জরিমানার বিধান করতে হবে।

আশার কথা নয় দিন বন্ধ থাকার পর দূরপাল্লার বাসগুলোকে কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক পাওয়া সাপেক্ষেই চলাচলে অনুমোদন দিচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভাররাও নিজে থেকে বিরত থাকছে। এতে নিকটবর্তী ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের দুর্ভোগের একটা জোর সম্ভাবনা আছে। তবু এটা আশার আলো।

এর বিপরীতে গত কয়দিনে ঢাকা শহরের ভিতরে চলমান বাসগুলোকে আবারও আগের মতোন পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া চলতে দেখা গেছে। তার মানে ফেডারেশনের প্রচলিত পন্থায় এখনও আদপে কাঙ্খিত পরিবর্তনের দৃষ্টিগ্রাহ্য নিশানা মিলছে না। অর্থাৎ আমাদের নতুন আইন দিয়ে উদ্ধার সেই মাত্রায় কিছুই হবে না যতোক্ষণ পর্যন্ত না নতুন আইন যথার্থ যৌক্তিক না হবে এবং যথাযথ প্রয়োগে না আসবে।

সেইটুকু আমাদের পারতেই হবে। আমাদের সন্তানদের আমরা নিশ্চয়ই হেরে যেতে দিতে পারি না। তাদের পুরষ্কৃত করতে না পারি, হেরে যেতে দিলে কিন্তু গোটা জাতি হেরে যাবে।

আমাদের ক্ষ্যাপা তারুণ্য পেয়ে যাক কাঙ্খিত স্বীকৃতি ও সম্মাননা। অরাজকতার পেছনের সব নিজাম ডাকাত হয়ে উঠুক আউলিয়া সম পূণ্যবান।

শিশুরা জিতুক। তারুণ্য জিতুক। বাংলাদেশ জিতুক।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক