পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনে সায় রাজ্য মন্ত্রিসভার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2016, 05:27 PM
Updated : 2 August 2016, 07:29 PM

মঙ্গলবার রাজ্যের নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব পাস হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

রাজ্যের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, রাজ্য সরকার নতুন নাম হিসেবে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’ বা ‘বঙ্গ’ এবং ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ চাইছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মন্ত্রিসভায় রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই বিষয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেও আলোচনা করা হবে।”

নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে এরপর নাম পরিবর্তনের বিল বিধানসভায় পেশ করতে হবে জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার জানায়, বিধানসভায় পাস হলে, তা চলে যাবে কেন্দ্রীয় সংসদে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

কোনো রাজ্যের সীমানা বা নাম পরিবর্তন করার অধিকার কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় আইনসভারই রয়েছে বলে জানায় তারা।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক কাজকর্মে বাংলা ভাষাভাষীদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের ইংরেজি নাম ওয়েস্টবেঙ্গল, যা শুরু হয়েছে ইংরেজি বর্ণমালার শেষ দিকের অক্ষর ‘ডব্লিউ’ দিয়ে।

রয়টার্স বলছে, আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈঠকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্যের জন্য ডাকা হয়। ফলে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের ডাক আসে একদম শেষে। আর এতে করে দাবি-দাওয়া উত্থাপনে পিছিয়ে থাকছে রাজ্যটি।

একে দীর্ঘ অপেক্ষা, তার উপর প্রথম দিকের বক্তারা বেশি সময় নিয়ে ফেলায় শেষের বক্তাদের নির্ধারিত সময় কমে যায়। তা ছাড়া শেষ দিকে অনেকটা শিথিলও হয়ে আসে সভার মনোভাব।

আনন্দবাজার জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বৈঠকে এমন সমস্যাতেই পড়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।  নিজের পুরো বক্তব্য বলার মতো যথেষ্ট সময় পাননি তিনি। তার পরই কলকাতায় ফিরে এই নাম বদলের দ্রুত উদ্যোগ।

কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন করলে নতুন নামে বর্ণমালার ক্রমানুযায়ী তালিকায় প্রথম সাত থেকে আট রাজ্যের মধ্যে চলে আসবে পশ্চিমবঙ্গ।

মমতার আগে ক্ষমতাসীন সিপিএম সরকারও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল, তবে তা নাকচ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক