বঙ্গবন্ধুর আহবানে জনাব আলী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Jan 2017, 07:24 PM
Updated : 2 Jan 2017, 07:24 PM

মোঃ জনাব আলী ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ৫ নম্বর সেক্টরে অংশ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পরেই তিনি বুঝতে পারেন, নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাইকে প্রতিবাদ করতে হবে। এরপর এলো ২৫ শে মার্চের কালো রাত। জনাব আলী যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করলেন। প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের পথে পাড়ি জমালেন। ২৮ দিন প্রশিক্ষণ চলল তাদের। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে দেশকে বাঁচানোর শপথ করতে হয়েছিল। শপথ শেষে তাদের প্রয়োজনীয় হাতিয়ার সরবারহ করা হয়। জনাব আলী একটা এসএলআর এবং পাঁচটা গ্রেনেড পেয়েছিলেন।    

তখন জনাব আলীর দলের কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন সুবেদার জালাল। সেকশন কমান্ডারসহ দশজনের এক একটি দলে ভাগ হলেন তারা। বাতেরটেকে জলাশয়ের ওপারে ছিল পাকবাহিনীর ক্যাম্প। সেখানে আক্রমণের পরিকল্পনা করল মুক্তিযোদ্ধারা। এপারে বাংকার তৈরি করেছিল জনাব আলীর দল। উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় ছিল মুক্তিযোদ্ধারা। এভাবে পার হলো তিন দিন, রাত। জলাশয়ে পানি ছিল কম। তাই চতুর্থদিন পাকবাহিনী খুব সহজে গুলি করতে করতে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের হাতে ছিল আধুনিক এবং হালকা অস্ত্র। গ্রেনেডও চার্জ করছিল তারা। এমন অতর্কিত আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। এরপর যুদ্ধে কিছুদিনের বিরতি পড়ে। জনাব আলী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথেই ছিলেন, কিন্তু নতুন কোন অপারেশনের দায়িত্ব ছিল না তাদের উপর।

জনাব আলী এরপর কিশোরগঞ্জে এক যুদ্ধে অংশ নেন। বেশ ভয়ানক যুদ্ধ হয়েছিল সেখানে। সেই যুদ্ধে আলাল নামে এক মুক্তিযোদ্ধা পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। আলালকে প্রচন্ড নির্যাতন করে মেরে ফেলে পাকবাহিনী। এই ঘটনাটি স্মরণ করে এখনও শিহরিত হন জনাব আলী।

জনাব আলীর প্রত্যাশা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করবে। দেশ গড়ার যুদ্ধে তাদের অবশ্যই নিজেদের ভূমিকা পালন করতে হবে। 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক