‘শরীরে গুলি লাগার পরেও আব্দুল শহীদ যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন’

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Dec 2016, 06:53 PM
Updated : 23 Dec 2016, 06:54 PM

আব্দুল শহীদ মুক্তিযুদ্ধে ৫ নাম্বার সেক্টরে অংশ নিয়েছিলেন। তার জীবনের গল্পটা একটু অন্যরকম। তার বাবা যখন রেডিওতে যুদ্ধের আহবান শুনতে পেলেন, তখন তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার দুটো সন্তানের দরকার নেই। একটা সন্তান হলেই চলবে। একটা সন্তানকে আমি দেশের জন্য উৎসর্গ করতে চাই।’

আব্দুল শহীদের বড় ভাই যুদ্ধে গিয়ে ফিরে এসেছিলেন, এতে তার বাবা রাগ্রত হন। আব্দুল শহীদের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক বছর এবং একটা ছোট বাচ্চাও ছিল তাদের। সংসারের এই মমতাকে উপেক্ষা করে তিনি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একশ টাকা হাতে নিয়ে তিনি নেমে পড়লেন যুদ্ধে। আশেপাশের বন্ধুদেরও আহবান করলেন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। ২০/২৫ জন  তরুণ যোগ দিলেন তার সাথে। এরপর আব্দুল শহীদ ভারতে গিয়ে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নেন। ট্রেনিং শেষে ৫ নাম্বার সেক্টরে যোগ দেন তিনি।

তখনকার সেক্টর কমান্ডার হেলালউদ্দিন আব্দুল শহীদকে দোয়ারাবাজার থানায় অপারেশন পরিচালনার জন্য পাঠালেন। তারা সেই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের কথা জানতে পেরেছিলেন। দুইজন কম বয়সী মেয়েকে পাকিস্তানি বাহিনী সবার চোখের সামনে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এ খবর জেনে আব্দুল শহীদ এবং তার সহযোদ্ধারা পরদিন পাকিস্তানি বাহিনীর উপর হামলা চালান। শুধু এখানেই থেমে থাকেন নি তারা, বালিউড়া বাজার যা ব্রিটিশের রাস্তা নামে পরিচিত সেখানেও পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করেছিলেন তারা। এই মুহুর্মুহু আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ক্ষেপে গিয়েছিল অনেক। তারা সর্বশক্তি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

সেই সময়ে সংঘটিত অন্য এক যুদ্ধে আব্দুল শহীদ গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু গুলি লাগার পরেও তিনি থেমে থাকেন নি। প্রায় আধাঘণ্টা যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। তার মনে একটাই সংকল্প ছিল; এগিয়ে যেতে হবে, শত্রুকে পরাস্ত করতে হবে। তার সহযোদ্ধা খালেক তাকে গুলি লাগার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু আব্দুল শহীদের কোন ব্যথার অনুভূতি ছিল না। পরবর্তীতে গুলি লাগার কারণে আব্দুল শহীদের বাম হাতটা অকেজো হয়ে গিয়েছিল।

সকলের উদ্দেশ্যে আব্দুল শহীদের আহবান, ‘একাত্তরের মতো সব ভেদাভেদ ভুলে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ দেশ ভালো থাকলে, আমরা সবাই ভালো থাকব।’

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক