Published : 09 Jun 2026, 12:44 AM
মতবিনিময় সভা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ‘বুঝতে’ এবং নিজেদের কিছু ‘উদ্বেগ’ তুলে ধরতে এই সভায় বসার কথা এসেছে সম্পাদক পরিষদের তরফে।
তবে কোন পক্ষের উদ্যোগে এই সভা হয়েছে, তা কোনো পক্ষই স্পষ্ট করেনি।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজেমি সেন্টারে এ সভা হয়। এতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের নেতৃত্বে জাতীয় দৈনিকের আটজন সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সভার পর ব্রিফিংয়ে নূরুল কবীর বলেন, “মানুষের মধ্যে অনেক দুশ্চিন্তা আছে অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে। কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের কী অবস্থা, ইত্যাদি বিষয়ে কথা হলো। এগুলো উনারা ব্রিফ করলেন; আমাদেরও কিছু প্রশ্ন ছিল।’’
তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতিটা কীভাবে চলছে, এইটা তাদের কাছ থেকে বোঝা এবং আমাদের উদ্বেগগুলো তাদেরকে জানানো— এইটাই মেইন জিনিস ছিল।”
কোন ধরনের উদ্বেগ গভর্নরকে জানানো হয় জানতে চাইলে নূরুল কবীর বলেন, ‘‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের কিছু বিষয়, যেগুলো ইতোমধ্যে সংসদে পাস হয়েছে, সেটা উনারা উনাদের জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
“ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে পরিস্থিতিগুলো আমরা শুনতে চেয়েছি। দেশের ব্যাংকিং খাত কীভাবে চলছে, দেশের বাইরে তার একটা সিগন্যাল যায়। এতে ডিপোজিটর, প্রাইভেট সেক্টর ও বহির্বিশ্বে একটা সিগন্যাল দেয়।’’
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ পাসের সময়ে তাতে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। সেখানে একীভূত হওয়া ব্যাংকে পুরনো পরিচালকদের শেয়ার কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ফিরে আসার প্রক্রিয়া নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান নূরুল কবীর।
তিনি বলেন, ‘‘ফেরত যাওয়ার অবস্থা কী, কেউ আবেদন করেছে কিনা, ডিপোজিটরদের মানি ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কী করবেন, মার্জার হওয়া ব্যাংকগুলো সম্পর্কে উনাদের ভাবনা কী, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিত কেমন— এই সমস্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।’’
গভর্নরের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছিল, নাকি সম্পাদক পরিষদের উদ্যোগে সভা হয়েছে, নূরুল কবীরকে সেই প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।
জবাবে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বোঝবার একটা চেষ্টা আমরা করেছি। উনারাও সম্পাদক সাহেবদের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ চেয়েছেন।’’
সভার পর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে মূগভর্নরের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
গভর্নরকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, যা দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’’
সভার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘গভর্নর ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পাদক পরিষদকে অবহিত করেন।”
সভায় অন্যান্য সম্পাদকের মধ্যে প্রথম আলোর মতিউর রহমান, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, সমকালের শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন।