ঘরের মাঝে রঙিন মাছ

ড্রইং রুমের কোণে রঙিন মাছের ছুটে চলা দেখতে কার না ভালো লাগে! তাও আবার যদি থাকে নজরকাড়া ডিজাইনের অ্যাকোয়ারিয়াম! তাহলে তো মুগ্ধ হওয়া অনিবার্য।

মনি ইয়াছিনবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Nov 2014, 10:49 AM
Updated : 14 Nov 2014, 08:50 AM

ঘরের সৌন্দর্য একটু বাড়িয়ে তুলতে আপনিও বেছে নিতে পারেন মন মাতানো ও নজরকাড়া অ্যাকোয়ারিয়াম। তাতে থাকবে একঝাঁক চোখ ধাঁধানো রঙিন মাছ। মাছগুলোর ছোটাছুটি ঘরের পরিবেশে নিয়ে আসবে নতুন প্রাণের স্পন্দন।

শোবার ঘরের যে কোনো খোলামেলা একটি কোণে রাখতে পারেন সুবিধামতো আকারের একটি অ্যাকোয়ারিয়াম অথবা ড্রইংরুমে রাখতে পারেন বড় আকারের একটি অ্যাকোয়ারিয়াম। তাতে ছেড়ে দেবেন বড় ও মাঝারি আকারের কিছু রঙিন মাছ।

রঙিন যত মাছ

রাজধানীর কাঁটাবনেই রয়েছে নানান রকম পোষা প্রাণী বিক্রির দোকান। এগুলোর মধ্যে লাভ অ্যান্ড হবি'র এই দোকানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হামিদ বকুল জানান, অ্যাকোয়ারিয়ামে পোষার মতো রয়েছে বিভিন্ন রকমের বাহারি মাছ। বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে গোল্ডফিশ। এর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, "দেখতে অনেকটা রূপচাঁদা মাছের মতো সাদা-কালোর মিশ্রণের অ্যাঞ্জেল ফিশের চাহিদাও কম নয়। আরও রয়েছে এলবিনো শার্ক, চকচকে রূপালি রঙের সিলভার শার্ক, লম্বাটে গড়নের টাইগার শার্ক ও বিচিত্র রঙের দৃষ্টিনন্দন ডিসকাস ফিশ।"

লাল পাখনা ও ধূসর শরীরের রেম্বু শার্ক ও কালো শরীরের গুচ্ছ লেজওয়ালা ব্ল্যাকমুর ফিশ, ব্লু ও গোল্ডেন গোরামি, কই কাপ বা কমেড ফিশও রাখতে পারেন আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামে। লাল, নীল, ধূসর, আকাশি ও ক্রস রঙের ফাইটার ফিশ ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন কাটাবনের বিক্রেতারা।

মজার বিষয় হচ্ছে, এক মাছ একের অধিক একসঙ্গে রাখা যায় না। রাখলে তারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু করে। এ ছাড়া অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কার রাখার জন্য আবর্জনাখেকো দু-একটি সাকার ছেড়ে দিতে পারেন।

আব্দুল হামিদ পরামর্শ দেন, জারে পোষার ক্ষেত্রে বেশি মাছ পোষা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রয়েছে বেলুনমলি, মুনটেলমলি, গাপ্পি, প্লাটি ফিশ, আর্গাস ও বাংলালিংক ফিশ।

বাহারি রঙের মাছের পাশাপাশি অ্যাকোয়ারিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে নানান রকম ডেকোরেশনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন নজরকাড়া 'প্ল্যান্ট' বাজারে পাওয়া যায়। সবুজ, শ্যাওলা অথবা মিশ্র রঙের একটি প্ল্যান্ট বসিয়ে দিতে পারেন অ্যাকোয়ারিয়ামে।

এছাড়া চীনামাটির তৈরি কুমির, হাঁস, বড় একটি প্রবাল আকৃতির পাহাড় রেখে দিতে পারেন। এগুলো বাড়তি সৌন্দর্য দিবে।

বাজার ও দাম

সুন্দর মনোমুগ্ধকর অ্যাকোয়ারিয়াম আর রঙিন মাছের বিশাল আয়োজন রয়েছে কাঁটাবনে। আকার অনুযায়ী বিভিন্ন দামের রঙিন মাছ জোড়া হিসেবে সাধারণত বিক্রি করা হয়।

গোল্ডফিশ জোড়া ১০০ থেকে ৬০০ টাকা। সিলভার শার্ক ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। টাইগার শার্ক ৭০ থেকে ১০০ টাকা। এলবিনো শার্ক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। অ্যাঞ্জেল ফিশ ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। ডিসকাস ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা। ব্লু ও গোল্ডেন গোরামি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। বেলুনমলি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। কমেড ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। রেম্বু শার্ক ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। মুনটেলমলি প্রতি পিস ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। ক্যাট ফিশ ৭০ থেকে ১০০ টাকা। বাংলালিংক ৮০ থেকে ১২০ টাকা। প্লাটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ফাইটার ফিশ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। কাছিম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

কাটাবন ছাড়াও এই ধরনের দোকান বিভিন্ন এলাকার মোড়ে, রাস্তার পাশে দেখা যায়। ইচ্ছে করলে আপনার আশপাশের সেসব দোকান থেকেও কিনে নিয়ে ঘর সাজাতে পারেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক