ঘরের সৌন্দর্যে পর্দা

সাদামাটা একটি ঘর পুরোপুরি বদলে দিতে পারে মানানসই ও সুন্দর পর্দা। সৌন্দর্য বর্ধণ ছাড়াও রোদ থেকে বাঁচতেও ও ঘরের আবরু রক্ষায় প্রয়োজন পর্দা।

তৃপ্তি গমেজবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Oct 2014, 10:14 AM
Updated : 23 Oct 2014, 10:14 AM

শুধু রোদের তীব্র আলো নয়, বাইরের ধুলাবালি ও ময়লা থেকে ঘরকে বাঁচায় পর্দা। তাই ঘরের সঙ্গে মানানসই পর্দা বাছাই করা খুবই জরুরি। কারণ বেমানান পর্দা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর বদলে দৃষ্টি কটু করে তোলে।

আসছে শীতকাল, জানালা বন্ধ থাকলেও ঘরে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশা থেকে ঘর বাঁচাতে কিছুটা মোটা কাপড়ের পর্দা প্রয়োজন।

ঘরের পর্দা নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নাসিমা নাসরিন।

“পর্দার রং, কাপড়ের ধরন কেমন হবে তা নির্ভর করবে পর্দা কোন ঘরে লাগানো হবে তার উপর। ঘরের দেয়ালের রং, ঘরে আলো বাতাস প্রবেশের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে পর্দা নির্বাচন করতে হবে। শীতকালে যে ঘরে আলো কম সে ঘরের জন্য কিছুটা পাতলা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আলো বাতাসের পরিমাণ বেশি থাকলে মোটা কাপড় ও গাঢ় রংয়ের পর্দা ব্যবহার করাই ভালো। এক্ষেত্রে হলুদ, লাল, কমলা, লালচে কমলা, গাঢ় নীল, সবুজ ইত্যাদি রং বেছে নেওয়া যেতে পারে।”

নাসরিন জানান, শীতকালে ব্যবহারের জন্য কৃত্রিম বয়ন তন্তু বা সিনথেটিক কাপড়ে তৈরি পর্দা সব থেকে বেশি উপযোগী। অন্যদিকে গ্রীষ্মের সময় ঘরের জন্য সুতি বা প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পর্দা ভালো।

“শোবার ঘরের জন্য সবসময় হালকা ও স্নিগ্ধ রংয়ের পর্দা ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে হালকা নীল, হালকা সবুজ, হালকা গোলাপি ও বেগুনি রং বেছে নেওয়া যেতে পারে। আবার দুই ধরনের পর্দার সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে চাইলে দুই স্তরের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথমে কিছুটা মোটা কাপড়ের পর্দা দিয়ে তার উপর নেটের বা পাতলা কাপড়ের পর্দা লাগানো যেতে পারে।” বললেন নাসরিন।

তিনি পরামর্শ দিতে গিয়ে আরও জানান, বসার ঘরের জন্য চাইলে হালকা ও গাঢ় দুই ধরনের পর্দাই ব্যবহার করা যেতে পারে। হালকা হলুদ, নীল, সবুজ ও গোলাপি ছাড়াও ক্রিম, বিস্কুট ইত্যাদি ভিন্নধর্মী কিছু রংও ব্যবহার করা যেতে পারে। আর বাচ্চাদের ঘরের জন্য কিছুটা গাঢ় এবং উজ্জ্বল রংগুলোই বেশি মানানসই।

তবে পর্দা বাছাইয়ের আগে ঘরের আকার ও দেয়ালের রংয়ের বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। ঘরের রংয়ের সঙ্গে যদি পর্দার রং বেমানান হয় তাহলে দেখতে দৃষ্টিকটু লাগতে পারে বলে জানান নাসরিন।

তিনি বলেন, “ঘরের আকার, দেয়ালের রং ইত্যাদির উপর নির্ভর করে পর্দা নির্বাচন করা প্রয়োজন। ঘরের দেয়াল, ছাদ ও মেঝের রং, আসবাবপত্রের ডিজাইন এবং রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে পর্দার রং বাছাই করা উচিত। পর্দার রংয়ের কারণে ঘরের আকার ছোট বা বড় দেখায়। যেমন, গাঢ় রংয়ের পর্দায় ঘর ছোট দেখায়। তাই ছোট ঘরের জন্য হালকা রংয়ের পর্দা ব্যবহার করা ভালো।”

“জবড়জং ছাপার পর্দা ব্যবহারে ঘর অগোছালো দেখায়। হালকা রংয়ের এবং লম্বালম্বি ছাপার কাপড় পর্দা ব্যবহার করলে ঘর বড় দেখাবে।” এমনটাই বলেন নাসরিন।

যেখানে মিলবে পর্দা

রাজধানীর নিউ মার্কেট, এলিফেন্ট রোড, মৌচাক, গ্রিন রোড, মোহাম্মদপুর, গুলশানের ডিসিসি মার্কেটের পাশেসহ বিভিন্ন জায়গায় পর্দা পাওয়া যায়। এ সব মার্কেটে পর্দার দোকান থেকে রেডিমেইড পর্দা কেনার পাশাপাশি পছন্দমতো কাপড় কিনে নিয়েও নিজের মনমতো ডিজাইনে পর্দা বানানো যাবে।

এখন চাইলে বিভিন্ন ডিজাইনের লেইস, বোতাম বা লেয়ার হিসেবে পর্দা বানানো যায়।

দরদাম

সাধারণত দেড়শ টাকা থেকে প্রতি পিস পর্দার দাম শুরু হয়। কাপড় এবং ডিজাইন ভেদে দাম এক হাজার টাকা বা বেশিও হতে পারে।

যত্ন

পর্দায় বাইরের ধুলোবালি বেশি আটকায়। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন একবার করে প্লাস্টিকের ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে নিলে পর্দায় লেগে থাকা আলগা ধুলাময়লা ঝরে যাবে। আর ছয়মাসে একবার ঘরে বা লন্ড্রিতে দিয়ে পর্দা ধুয়ে নিলে পর্দার রং ঠিক থাকবে। 

ছবি: মামুনুর রশিদ শিশির।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক