অনেকদিনের পুরানো মসলার ভিন্ন ব্যবহার

পোকা তাড়ানো কিংবা কাপড়ের রং- অনেক কিছুই করা যায় পুরানো মসলা দিয়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 11:37 AM
Updated : 18 July 2022, 11:37 AM

খাবারের স্বাদ আনার প্রধান নায়ক হল তাতে ব্যবহৃত মসলার। স্বাস্থ্য ও স্বাদ দুটোর জন্যই খাবারটা যেমন তাজা হওয়া জরুরি, ততটাই জরুরি মসলাগুলো তাজা হওয়া।

রান্নার ব্যাপারে যারা শৌখিন তাদের সংগ্রহে বিভিন্ন ধরনের মসলা থাকে। তবে সবগুলোই নিয়মিত ব্যবহার হয় না। আর মসলাও একটা নির্দিষ্ট সময় পর স্বাদ, গন্ধ, ঝাঁঝ, রং হারায়।

এজন্য মসলা বেশি করে কেনার ক্ষেত্রে গুঁড়া মসলা না কিনে যদি আস্ত মসলা নিয়ে তা প্রয়োজন মাফিক গুঁড়া করে নেওয়া হয় তাহলে অপচয়ের সম্ভাবনা কমবে।

বাতাসের অক্সিজেন হল মসলার প্রধান শত্রু। মসলার সংগ্রহশালা প্রতি ছয় মাসে একবার খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

আর কেনার সময় শুধু মসলা ধরনের দ্রব্য বিক্রি হয় এমন বিশেষ দোকানগুলো থেকে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ সেখানে সবচাইতে তাজা মসলাটা পাওয়া যাবে।

এখন যে মসলা নষ্ট হয়ে গেছে, স্বাদ, গন্ধ হারিয়েছে সেগুলো কি ফেলে দেবেন?

না, খাবারের স্বাদ আনার ক্ষমতা হারালেও আরও অনেক কাজে তা ব্যবহার করা সম্ভব। রিয়েল সিম্পল ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।

সুগন্ধি মোম বানাতে

ঘরেই বানাতে পারেন সুগন্ধি মোম। এজন্য সয়া মোম, নারিকেল তেল গলাতে হবে। আর তাতে যোগ করতে পারেন আদা, দারুচিনি, লং, ভ্যানিলা বীজ ইত্যাদি। সব একসঙ্গে মিশিয়ে তা বসিয়ে দিতে হবে ‘ডাবল বয়লার’য়ে। সব সিদ্ধ হলে মিশ্রণটি তাপরোধী পাত্র যেমন- ‘মেসন জার’য়ে ঢেলে নিতে পারেন। হয়ে গেল সুগন্ধি মোমবাতি।

ডাই রং বানাতে

হলুদ, জাফরান পাতা, পাপ্রিকা ইত্যাদি গাঢ় রংয়ের মসলা প্রয়োজন হবে এই কাজের জন্য। প্রতি মসলাকে আলাদাভাবে পাতলা জালের মতো কাপড় বা ‘চিজক্লথ’ দিয়ে মুড়িয়ে নিতে হবে।

এবার চুলায় পানি ফুটাতে দিতে হবে এবং ফুটন্ত পানিতে একটি পোটলা অল্প আঁচে সিদ্ধ করতে হবে এক ঘণ্টা ধরে।

মসলার রং মিশবে পানিতে, তাতে যোগ করতে হবে এক কাপ সাদা ভিনিগার।

এই মিশ্রণে যে কাপড়টা রং করবেন সেটা ডুবিয়ে আধা ঘণ্টা অল্প আঁচে রাখতে হবে। কাপড় রং হয়ে যাবে। 

পোকামাকড় তাড়াতে

বেসিল, বে লিভস, ডিল, ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি, রসুন, থাইম ইত্যাদি গন্ধ সহ্য করতে পারে না পোকামাকড়।

এই মসলাগুলোকে ছোট ছোট বাতাস চলাচল করে এমন পুরিয়া করে ঘরের যেসব স্থানে পোকার উপদ্রব বেশি সেখানে ফেলে রাখতে পারেন।

পটপুরি

ঘরোয়া পদ্ধতির ঘর সুগন্ধি হল ‘পটপুরি’, যা তৈরিতে মসলা ব্যবহার করা যায়।

মসলাকে গরম করলে তার গন্ধ ছড়ায় বেশি আর সেটাই তাদেরকে ‘পটপুরি’য়ের আদর্শ উপাদানে পরিণত করে।

ফুটন্ত গরম পানিতে আদা, এলাচ, দারুচিনি, লং ইত্যাদি সিদ্ধ করতে হবে। লেবুজাতীয় ফলের খোসাও যোগ করতে পারেন।

তারপর পানি থেকে তুলে সেগুলো একটি পাত্রে ঘরের কোনো একটি অংশে রেখে দিন, সুগন্ধি কাজ করবে।

সাবান বানাতে

ঘরে তৈরি সাবানে মসলা ধরনের উপাদান দারুণ সুগন্ধ যোগ করতে পারে। আর মসলার গুঁড়া প্রাকৃতিক ‘এক্সফোলিয়েটর’ হিসেবেও অনন্য।

ঘরের সুগন্ধি

‘সেজ’, থাইম, অরেগানো ইত্যাদির আছে ‘ডিওডোরাইজিং’ গুণ। এই মসলাগুলো ছোট জালের ব্যাগে ভরে ঘরের বিভিন্ন কোনায়, শৌচাগার, রান্নাঘর বা যে কোনো বদ্ধ স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।

এতে ওই স্থানের ভ্যাপসা দু্র্গন্ধ দূর হবে।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক