স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণ

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার বিষয়টা শুধুই বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্ষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 July 2022, 01:57 PM
Updated : 15 July 2022, 01:57 PM

রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকাল সেন্টার’য়ের ‘নিউরোসাইকোলজিস্ট ড. রবার্ট এস. উইলসন বলেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে মৃদুমাত্রায় স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার ঘটনা আসলে ‘ডিমেনশা’ বা স্মৃতিভ্রংশের প্রাথমিক লক্ষণ।”

ইটদিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “এই ভুলের যাওয়ার মাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকে। ‘আলৎঝাইমার’স’ ও অন্যান্য ‘ডিমেনশা’ ধাঁচের রোগগুলো বৃদ্ধ বয়সে যে পরিমাণে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব রাখে তা পুরোপুরি এখনও আমরা বুঝে উঠতে পারিনি।”

মাথায় আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউরোলজি অ্যাট পেন’য়ের সহকারী অধ্যাপক ড. অ্যান্ড্রেয়া এল.সি. স্নাইডার বলেন, “তীব্রতা ভেদে মাথায় আঘাত পাওয়া থেকে ‘অ্যামনিসা’ বা স্মৃতিবিলোপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর তা হতে পারে চিরস্থায়ী। পরে সেটাই হতে পারে ‘ডিমেনশা’র কারণ।”

তবে একে প্রতিরোধ করা সম্ভব। মাথায় কতবার আঘাত পাচ্ছে একজন মানুষ সেই সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যত বেশি আঘাত, ততই ‘ডিমেনশা’র আশঙ্কা বেশি।”

মানসিক আঘাত

নিউ ইয়র্কের সনদস্বীকৃত মনবিজ্ঞানি ফাবিয়ানা ফ্রাঙ্কো বলেন, “মানসিক আঘাত থেকে স্মৃতিশক্তি নষ্ট হতে পারে। তা হতে পারে ক্ষণস্থায়ী কিংবা চিরস্থায়ী।”

মানুষ যখন কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় তখন পরে সে পুরো ঘটনাটি মনে করতে পারে না। ওই ঘটনার ঠিক আগে বা পরে কী ঘটেছিল সেটাও মনে পড়ে না। শৈশবে কোনো বাজে অভিজ্ঞতা বা অত্যাচারের শিকার হলে বড় হয়ে সেই ঘটনাগুলোও মানুষ পুরোপুরি মনে করতে পারে না।

স্মৃতিশক্তির ওই দুর্বলতা ভুলিয়ে দিতে পারে আরও অনেক কিছুই। বিশেষ করে মানুষ যখন মানসিক যন্ত্রণায় থাকে তখন তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়।

টিউমার

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইন সেন্টার’য়ের দেওয়া তথ্য মতে, “মস্তিষ্কে হওয়া টিউমার ও এর চিকিৎসা স্মৃতিশক্তি কমায়। টিউমার তো অবশ্যই, পাশাপাশি চিকিৎসা হিসেবে অস্ত্রোপচার, ‘রেডিয়েশন থেরাপি’, কেমোথেরাপি’ ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা রোগী দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি হারান অনেকটাই।”

টিউমার ও এর অস্ত্রোপচারের ফলে মস্তিষ্কের গড়নে পরিবর্তন আসে যা তার জ্ঞানীয় ক্ষমতা ও মনযোগ কমায়।

মদ্যপান

কিংস কলেজ লন্ডন’য়ের ‘ওল্ড এইজ সায়কায়াট্রি’ ‘ভিজিটিং ক্লিনিকাল ফেলো’ টোনি রাও বলেন, “মদ্যপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই, বিশেষত মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। মদ্যপানের এই অভ্যাস মস্তিষ্কে খুব সামান্য কিছু পরিবর্তন আনে যা শনাক্ত করা যায় না। তবে সেগুলোই মস্তিষ্কের ছোট ছোট অংশ নষ্ট করে ফেলে।”

আলৎঝাইমার’স রোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জেরিয়াট্রিশান’ ড. সেভিল ইয়াসের বলেন, “স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ। মানসিক চাপ, প্রচণ্ড কর্মব্যস্ততা, ঘুমের অভাব, কিছু ওষুধ স্মৃতিশক্তি কমায়। তবে কোনো একটা কথা পেটে আসে কিন্তু মুখে আসছে না এমনটা মস্তিষ্কের কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। যে কোনো সন্দেহে নিশ্চিন্ত হতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।”

আরও পড়ুন