চুলের প্রসাধনী হতে পারে ব্রণের কারণ

আর সেই ব্রণ শুধু মুখে নয় হতে পারে পিঠেও।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 August 2021, 12:51 PM
Updated : 24 August 2021, 12:51 PM

খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, ত্বকের ধরণ, শারীরিক বা হরমোনের সমস্যার কারণ ছাড়াও ব্যবহৃত প্রসাধনীর প্রভাবে ব্রণ হয়।

‘হ্যালো গিগিলস ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ত্বক-বিশেষজ্ঞ ডা. আইরিশ রুবিন বলেন, “শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, লিভ-ইন প্রসাধনী ইত্যাদি ব্রণের কারণ হতে পারে, তাই এই সকল প্রসাধনী সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।”

ব্রণের একাধিক কারণ থাকায় কোন একটা বিষয়কে দায়ী করা যায় না।

তবে ডা রুবিন বলেন, “ব্রেক আউট’য়ের সমস্যা যেখানে সেখানে নজর দিতে হবে আগে।”

যাচাই করা

চুলের রেখা, পিঠ, ঘাড় ইত্যাদি স্থানে ব্রেক আউট দেখা দিলে তা চুলের প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে বলে জানান ডা, রুবিন।

সাধারণত, গাল ও থুতনিতে হরমোনের কারণে এবং পিঠ, গলা ও চুলের রেখায় ব্রণ ব্যবহৃত প্রসাধনীর কারণে হয়ে থাকে।

ডা রুবিন লক্ষ্য করেছেন যে, পিঠে ব্রণ ঘাম ও পোশাকের কারণেও হতে পারে। 

তিনি বলেন, “শরীরচর্চা করা, আটঁসাঁট পোশাক পরা ঘাম বাড়ায় ও দেহে আটকে থাকে যা মৃতকোষ ও ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে মিশে ব্রেক আউট সৃষ্টি করে।”

তাই, তিনি আটঁসাঁট পোশাক না পরার ও শরীরচর্চার পরে দ্রুত পোশাক পাল্টে ফেলার পরামর্শ দেন। 

ত্বকের ধরন বোঝা

বিভিন্ন কারণে মুখ ও শরীরে ব্রণ হয়ে থাকে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “অধিকাংশ ‘ব্রেক আউট’য়ের সমস্যা চুলে কমেডোজেনিক প্রসাধনী ব্যবহার করার জন্য হয়। বিশেষত ত্বক যদি তৈলাক্ত বা ব্রণ প্রবণ হয়ে থাকে।

তাই যে কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

চুলের প্রসাধনীর পরিবর্তন

আদৌ চুলের প্রসাধনীর জন্য ব্রণ হচ্ছে কি-না তা বুঝতে কয়েকদিনের জন্য এগুলো ব্যবহার বন্ধ রাখুন। তার মানে এই নয় যে চুলের যত্ন নেওয়া বন্ধ করতে হবে। চুল ও ত্বকের একসঙ্গে যত্ন নিতে আরও বেশি ত্বক-বান্ধব প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।

নারিকেল তেল এড়িয়ে চলুন

ডা রুবিন ও যুক্তরাষ্ট্রের আরেক ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. হ্যাডলি কিং- দুজনের মতে, ব্রণ সৃষ্টিকারী উপাদান তালিকার শীর্ষে রয়েছে নারিকেল তেল। যদিও এটা চুলকে উজ্জ্বল ও মজবুত করে এবং আর্দ্র রাখে।

তবুও এটা কমেডোজেনিক উপাদান হিসেবে পরিচিত থাকায় ব্যবহার না করাই উচিত। একইভাবে কোকোয়া বাটারও কমেডোজেনিক উপাদান হওয়ায় তা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন ডা রুবিন।

‘নন-কমেডোজেনিক’ ফর্মুলা ব্যবহার

যদিও ‘ব্রেক আউট’ ঠেকাতে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান যেমন- নারিকেল তেল ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে দেন ডা রুবিন।

তবে তিনি বলেন, “প্রসাধনীর কারণে হওয়া ব্রেক আউট ঠেকানো একটা জটিল প্রক্রিয়া।”

ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা শ্যাম্পুতে থাকা ২০টা উপাদানের মধ্যে কয়েকটা ‘কোমেডোজেনিসিটি’ থাকতে পারে। তাছাড়া, এগুলোর অধিকাংশই প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করা যা মানবদেহের জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।”

স্যালিসাইলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ প্রসাধনী খোঁজা

ব্রণ কমাতে সহায়ক উপাদান হল স্যালিসাইলিক অ্যাসিড। শ্যাম্পুতে এই উপাদান থাকলে তা খুশকি দূর করে এবং মাথার ত্বকের ব্রণ কমায়। এছারাও এক্সফলিয়েটরের কাজ করে বাড়তি তেল দূর করে বলে জানান ডা. কিং।

মাথার ত্বক ও শরীররে ব্রণ কমাতে স্যালসাইলক অ্যাসিড সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক