প্রিয় দল হারলে কী করবেন?

খেলায় প্রিয় দল হারলে ভক্ত-অনুরাগীদের মন বিষণ্ন হয়। আর সেটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 July 2021, 06:36 AM
Updated : 11 July 2021, 06:36 AM

বড় কোনো খেলায় প্রিয় দলের হার কোনো ভক্তই আশা করেন না। প্রিয় খেলোয়াড়ের ব্যর্থতা মেনে নিতে কষ্ট হয়। বিপক্ষ দলের ভক্তদের বিজয় উল্লাস দেখে নিজের কান্না পায়।

এগুলো সবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এই বিষণ্নতা ধরে রেখে নিজের মন-মেজাজ খারাপ করে বসে থাকারও মানে নেই।

এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে, বরং নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

অতীতের সাফল্য রোমন্থন করা: এই পদ্ধতিটা ‘লিভারপুল ভক্তদের থেরাপি’ হিসেবে পরিচিত। তাদের চির-প্রতিদ্বন্দ্বি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড’য়ের সঙ্গে হারতে থাকলে লিভারপুলের ভক্তরা প্রথম যে কাজটি করে তা হল অতীতের সাফল্যময় খেলা বার বার দেখা।

‘দি হেলথসাইট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এই পদ্ধতিটা বর্তমান ব্যর্থতা ভোলার জন্য বেশ কার্যকর। তাই প্রিয় দল হারলে তাদের অতীতের সাফল্যময় খেলা দেখা যেতেই পারে। আর অনলাইনের যুগে সেসব খেলা খুঁজে বের করাও তেমন কষ্টসাধ্য বিষয় নয়।

অনুভূতির প্রকাশ: চিৎকার, কান্না, লাফ, হুঙ্কার- যা করলে মনের চাপ কমতে পারে সেটা করেই খারাপ লাগার অনুভূতিটা প্রকাশ করে দিন। চেপে রাখার দরকার নেই।  

মানসিক-চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই থেরাপি সমর্থন করে বলে জানায় খেলাধূলা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল্স ডটকম’।

রাগ চেপে রাখলে রাগ আরও বাড়ে। তাই দুঃখ ঝেড়ে ফেলতে ওপরের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা ভালো। অন্যের কিংবা টিভির ওপর রাগ ঝাড়ার কোনো মানেই নেই।

টিভি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে: প্রিয় দলের ব্যর্থতার গল্প বারবার দেখলে মন খারাপের পরিমাণ আরও বাড়বে। এখন আপনার গোল হচ্ছে এই বিষণ্নতা থেকে বের হয়ে আসা।

তাই বিভিন্ন মাধ্যম যত কম ব্যবহার করে থাকা যায় ততই মঙ্গল।

সমব্যথীদের সঙ্গে আলাপ: বিভিন্ন মাধ্যম থেকে দূরে থাকা যেমন কার্যকর তেমনি একই দুঃখে দুখী মানুষের সঙ্গে আলাপ করেও মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।

‘বডি-মাইন্ড-সৌল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমব্যথীর সঙ্গে আলাপকালে তার মনের দুঃখবোধ কমানোর প্রচেষ্টাও নিজের মনে ইতিবাচক অনুভূতির জন্ম দেয়।

ব্যায়াম: যেকোনো মানসিক চাপ, বিষণ্নতা কমাতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরচর্চার কথা বলা হয়। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে, ব্যায়ামের ফলে ‘এন্ডোরফিন্স’ হরমোনের নিঃসরণ মনের জমে থাকা ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। ‘ডোপামিন’ ও ‘সেরোটনিন’ হরমোন সুখের অনুভূতি দেয়। আর শরীরচর্চার ফলে এসব হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে।

মনে রাখুন এটা একটা খেলা: ‘স্পোর্টস ফ্যান ডিপ্রেশন’কে সাধারণত ‘স্পোর্টস ফ্যান ব্লুজ’ হিসেবেও আখ্যায়ীত করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর স্থায়ীত্ব বেশিদিন থাকে না বলেই সমর্থন করে।

থ্রাইভওয়ার্কস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রিয় দল হারার দুঃখের অনুভূতি খুব বেশি হলে দুই সপ্তাহ থাকতে পারে। সাধারণত দুতিন দিন পরেই ঠিক হয়ে যায়। আর এরজন্য মনে রাখতে হবে এটা শুধুই একটা খেলা, হার-জিত থাকবেই।

এবার জয় হয়নি তাতে কি, আগামীতে আবার হবে বিজয়। এভাবে ভেবেই জীবনকে এগিয়ে নিতে হয়।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক