খালি পেটে ঘুমানোর ফলাফল

ভুঁড়ি কমাতে রাতের খাবার বাদ দিয়ে হিতে বিপরীত হলো না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 April 2019, 12:37 PM
Updated : 25 April 2019, 12:37 PM

ওজন কমানোর জন্য কিংবা সারাদিনের ক্লান্তিথেকে ক্ষুধামন্দার কারণে অনেকেই রাতের খাবার বাদ দিয়ে থাকেন। এমনটা যদি কালেভদ্রে হয়তাতে সমস্যা নেই, তবে তাকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করা কখনই উচিত হবে না।

খালি পেটে ঘুমাতে যাওয়ার ক্ষতিকারকদিকগুলো জানানো হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটের তথ্য অবলম্বনে।

পুষ্টির অভাব:রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে, বিশেষত, ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট’য়েরঅভাব। ভারতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরামর্শদাতামঞ্জরি চন্দ্র বলেন, “শরীরের প্রয়োজনীয় ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট’গুলোর মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম,ভিটামিন বি টুয়েলভ এবং ভিটামিন ডি থ্রি অন্যতম, যার সবগুলোই শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলীবজার রাখার জন্য জরুরি। একজন ব্যক্তি রাতে না খেয়ে থাকার অভ্যাস গড়লে সে এই পুষ্টিগুলোরঅভাবে ভুগবে।”

বিপাকক্রিয়ার ক্ষতি: নিয়মিত রাতের খাবার বাদ দিয়ে কিংবা বেখেয়ালী খাদ্যাভ্যাসগড়লে বিপাকীয় প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মঞ্জরি চন্দ্র বলেন, “এতে শরীরের ইনসুলিনেরমাত্রায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা শরীরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। এছাড়াওখাদ্যাভ্যাসের অনিয়মের কারণে ‘কোলেস্টেরল’ ও ‘থাইরয়েড’য়ের মাত্রাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।”সঠিক সময়ে সঠিক খাবার না খেলে হরমোনের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফলে শরীরে বিভিন্ন রোগের আক্রমনহয়।

ঘুমের সমস্যা:পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে গেলে শুধু এপাশ-ওপাশ করাই হবে, ঘুম আর আসবেনা। কারণ ক্ষুধাইআপনাকে সতর্ক রাখবে এবং গভীরভাবে ঘুমানোর সুযোগ দেবে না। মঞ্জরি বলেন, “এর কারন হলোআমাদের শরীর দুইভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, স্নায়বিকভাবে ও হরমোনের প্রভাবে। আর পর্যাপ্ত খাবারনা পেলে দুটোই ক্ষতির শিকার হয়।

ওজন বৃদ্ধি: ওজনকমাতে রাতের খাবার বাদ দেন অনেকে কিন্তু ফলাফল হয় উল্টো। রাতে কম খাওয়া উচিত একথা সত্য,তবে একেবারে না খেয়ে থাকা ভালো নয়। এব্যাপারে মঞ্জরি চন্দ্রের মত, “এসময় শরীর চর্বিজমা করতে শুরু করে, কর্মশক্তি সংরক্ষণ করতে শুরু করে, যার কারণে ওজন বাড়ে। ওজন কমানোরএকমাত্র উপায় হলো পরিমাণমতো খাওয়া।

বদমেজাজ: খালিপেটে কাজ করতে থাকলে মানুষ বদমেজাজি হয়ে যায়। আর রাতে না খেয়ে থাকলে কাজেও মনোযোগ থাকেনা। তাই দিন শুরু করতে হবে ভালোভাবে নাস্তা করে।

বিশেষ কোনো খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ কিংবাউপোস বা রোজা না থাকলে কখনই খালি পেটে ঘুমানো উচিত নয়। মঞ্জরির মতে, ঐতিহ্যগত উপোসবা রোজা শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং রোগ দূরে রাখায় অত্যন্ত কার্যকরী। এরাশরীরকে ক্ষয়পূরণের সুযোগ করে দেয়। তবে তা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাওয়া উচিত হবে না। আবারযারা কোনো চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত আছেন তাদের কোনো একবেলা না খেয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ারআগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক