মাটির পাত্রে রান্নার উপকারিতা

মাটির পাত্রে রান্নায় তেল লাগে কম। খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ রাখে অক্ষুণ্ন।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2018, 08:31 AM
Updated : 1 April 2018, 08:32 AM

পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে শখে মাটির পাত্রে রান্না ও পরিবেশন করেন অনেকে। তবে শুধু ঐতিহ্য বা্ আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্যই নয়, মাটির পাত্রে খাওয়া এবং রান্না দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে উপকার।

হান্ডি বিরিয়ানি আর সাধারণ বিরিয়ানির মধ্যে পার্থক্য নিশ্চই জানা আছে। এদের মূল পার্থক্য স্বাদ আর পুষ্টিউপদানে। কাচ বা স্টিলের পাত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির পাত্রের ব্যবহার প্রায় হারাতে বসেছে।

বর্তমানে পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে মাটির তৈজস।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এটা আসলে কতটা কার্যকর ও উপকারী সেসব বিষয় নিয়েই এই আয়োজন।

মাটির পাত্রে রান্নার উপকারিতা: স্বাদ ও পুষ্টির বিবেচনায় সব ধরনের রান্নার জন্য মাটির পাত্র উপযোগী। আয়ুর্বেদশাস্ত্র অনুযায়ী, মাটির পাত্র রান্না ধীর করে এবং খাবারের স্বাদ ও মান উন্নত করে।

ভারতের শেরাটন হোটেল’য়ের, নির্বাহী পাচক, রাজদ্বীপ কাপুর বলেন, “মাটির প্রাকৃতিক নিরোধক বৈশিষ্ট্য পাত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পুষ্টি উপাদানের কোনো ক্ষতি করে না। পাশাপাশি খাবার পুড়ে যাওয়াও প্রতিরোধ করে।”

মানব স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী: ভারতের শরীরবিদ ডা. সরস সলীল বলেন, “মাটির পাত্র এক ধরনের ক্ষারীয় উপাদান দিয়ে তৈরি যা খাবারের অ্যাসিড প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়তা করে। তাছাড়া মাটির পাত্রে রান্না করা খাবারে লৌহ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফারের মান বেশি থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “মাটির পাত্রে রান্না করলে খুব সহজেই তেলের ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া যায়। কেননা এর প্রাকৃতিক আর্দ্রতা খাবার ভালোভাবে রান্না করার জন্য উপযোগী।”

প্রাকৃতিক ক্ষারীয় উপাদান: মাটির পাত্র কাদা দিয়ে তৈরি করা হয়। যাতে প্রাকৃতিক ভাবে ক্ষারীযুক্ত হয়। তাপ প্রয়োগে মাটির পাত্র খাবারের অ্যাসিডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং পিএইচ’য়ের ভারসাম্য বজায় রাখে। যা খাবারকে সহজপাচ্য করে।

তাছাড়া এটা খাবারের পুষ্টি উপাদান যেমন- লৌহ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগ্নেসিয়াম এবং সালফার ঠিক রাখে।   

তেলের কম ব্যবহার: মাটির পাত্রে রান্নার আরেকটি ভালো দিক হল, এতে তেল কম লাগে। ধীর গতিতে রান্না ও তাপ নিরোধক হওয়ায় এটা খাবারের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

স্বাদ ও গন্ধ: খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় রেখে স্বাদ ও গন্ধ অক্ষুণ্ন রাখে বা বাড়িয়ে দেয় মাটির পাত্র। যা অন্যান্য উপাদানের তৈজস দিয়ে সম্ভব নয়।

সস্তা ও সহজ প্রাপ্য:
মাটির পাত্রের দাম অন্যান্য তৈজসের তুলনায় বেশ সস্তা। আর রাস্তার পাশের দোকানেই পাওয়া যায়।

চকচকে মাটির পাত্র নয়: রাজদ্বীপ কাপুর সুপারিশ করেন যে, পলিশ অর্থাৎ চকচকে মাটির পাত্র ব্যবহার না করারই ভালো।

তার কথায়, “চকচকে ভাব আনার জন্য এতে নানান রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয়। যা তাপ প্রয়োগে বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে। এমনকি বিষাক্ত নয় এমন পদার্থকেও বিষাক্ত করে তুলতে পারে।”

“কাদামাটির সমস্ত বৈশিষ্ট্য বাতিল করেই তা চকচকে করে তোলা হয়। তাই রান্নার ক্ষেত্রে নয় এই ধরনের মাটির পাত্র বরং ঘরের সজ্জায় ব্যবহার করুন।”

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক