দাম্পত্য ঝগড়া থামানোর উপায়

‘ঝগাড়াঝাঁটি তক্ক বিতক্ক বাদ বিতম্বাদ চলবে... তবু তুমিও যাবে না দিল্লি, আমিও না বম্বে’ অঞ্জন দত্তের গানের মতো দাম্পত্যজীবনে ঝগড়া চলতেই পারে। তবে এই বিবাদ থামাতে জানা থাকা চাই কৌশল।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2017, 08:50 AM
Updated : 7 Dec 2017, 08:50 AM

সামান্য ঝগড়া থেকে সম্পর্কে অবনতি ঠেকাতে ধৈর্য এবং শান্ত মেজাজধরে রাখাটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা করতে পারলে এক কথাতেই ঝগড়া মীমাংসা করে ফেলতেপারবেন।

সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনেযুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের বিবাহ ও পরিবারবিষয়ক পরামর্শক জিল হুইটনি বলেন, “ঝগড়ারসময় সবচাইতে ইতিবাচক কথাটি হতে পারে ‘আমি তোমার যুক্তিটা বুঝতে পেরেছি’ কিংবা ‘এই বিষয়েতুমি ঠিক বলেছ’ কিংবা এই রকম ভাব প্রকাশ করে এমন যে কোনো বাক্য। মূল বিষয় হল সঙ্গীকেবোঝানো যে, তার কথা আপনি শুনেছেন এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”

ঝগড়ার সময় এমন কথন সঙ্গীর চোখে আপনাকে অপরাধী হওয়া থেকে বাঁচায়।সঙ্গীর মনে হয়, যাই হোক না কেনো, আপনি সঙ্গীর পক্ষেই আছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ঝগড়া হলেওএই আলাপচারিতায় আপনার মনোযোগ আছে।

কলহ ঝেড়ে ফেলে সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বেশ দুষ্কর হয়েপড়ে অনেকসময়। তবে একে অপরের প্রতি বিরোধিতা কমিয়ে ফেলতে পারলে ঝগড়া মিটমাট করে নেওয়াঅনেক সহজ হয়ে যায়। আর সঙ্গীকে দেওয়া কষ্টের পরিমাণও থাকবে অল্প মাত্রায়।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনি কী বলছেন তার চাইতে কীভাবে বলছেনসেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এই সহানুভূতিশীল কথাগুলোই যদি রাগি সুরে বলেন, তবে কোনোলাভ হবে না। তাই নিজেকে শান্ত করে তারপরই এই হাতিয়ার ব্যবহার করতে হবে। আর একান্তইযদি নিজেকে শান্ত করতে না পারেন তবে সঙ্গীকে জানান যে আপনি অনেক ক্লান্ত।

ফলে পরে পস্তাতে হয় এমন বেফাঁস কিছু বলে ফেলার আশঙ্কা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনওয়াইসি ফ্যামিলি থেরাপি’র কর্ণধার ভিজেতাসিং বলেন, “অবশ্যই এই উপদেশগুলো দেওয়া সহজ, তবে বাস্তবে কাজে লাগানো কঠিন। সঙ্গীকেআপনার অংশগ্রহণের অপারগতার কথা জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কটা বেঁচে থাকবে। সমস্যাগুলোকেসুষ্ঠুভাবে সমাধান করার উপায় ভেবে বের করার সময় মিলবে। সুস্থ মানসিক অবস্থায় পৌঁছেতারপর মতোবিরোধ মীমাংসা করার চেষ্টা করা দুজনের জন্যই যৌক্তিক এবং ন্যায্য অধিকার।”

সহানুভূতিশীল কথা ও অঙ্গভঙ্গিতেও যদি কাজ না হয় তবে বিশেষজ্ঞদেরপরামর্শ হল, সঙ্গীর যে বিষয়গুলো আপনি সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন সেগুলো মনে করা এবং তামাথায় রাখা। ঝগড়ার সময় এগুলো মাথায় না থাকাই স্বাভাবিক, তবে আপনাদের সম্পর্কের স্বার্থেইএই দুঃসাধ্য সাধন করতে হবে।

সঙ্গীর প্রিয় বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারলে ঝগড়ার সময় আপনার কথাগুলোহবে প্রাসঙ্গিক, অনুপ্রেরণা মিলবে সমস্যা সমাধান করার। আর ঝগড়ার উত্তেজিত পরিস্থিতেসঙ্গীকে আপনি কেনো ভালবাসেন তা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে পারা সমস্যার একটা সুখকর সমাধানআনতে সাহায্য করবে।  

পরিবারবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পপুলার ম্যান’য়ের পরামর্শক জনাথানবেনেট বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া দ্রুত তিক্ততা, অবহেলা, নেতিবাচক দিকে মোড়নিতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সঙ্গীর প্রতি সহমর্মীতা প্রকাশের পন্থা বের করতে হবে,এমনকি ঝগড়ার মধ্যেও। এর মাধ্যমে সঙ্গীর ভালো গুনগুলো আপনার নিজেকে মনে করানো যেমন হবে,তেমনি সঙ্গীকেও বোঝানো হবে যে আপনি আজও ওই বিষয়গুলোকে মূল্যায়ন করেন।”

অঞ্জন দত্তের গানের কথায় ‘দিনটা আজকে ঠাণ্ডা নাকি বেড়েছে গরমমাংসটা ঠাণ্ডা নাকি ভিষণই নরম’ এই ধরনের দৈনন্দিন তর্ক থেকে শুরু করে জটিল বিষয় নিয়েদাম্পত্য কলহ থামাতে নিজেকে রাখুন সংযত।

আর মনে মনে আওড়ান- ‘এত দেমাগ কিসের? সেই তো আমায় ভালোবাসবে।’

প্রচ্ছদচিত্রণ: আজীজী ফাওমী খান।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক