স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খান রয়ে সয়ে

মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা যত বাড়ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদা। তবে যতই স্বাস্থ্যকর হোক না কেনো, কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো পেট ভরে খেলে এই স্বাস্থকর স্ন্যাকসও হতে পারে স্বাস্থ্যহানীর কারণ।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2017, 12:18 PM
Updated : 16 Jan 2017, 12:22 PM

খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক এক ওয়েবসাইট জানিয়েছে কীভাবে এই স্ন্যাকস খাওয়ার লাগাম টানা যেতে পারে।

বাদাম: সব ধরনের বাদামই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হেজেলনাট, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, আখরোট ইত্যাদি খেতে হবে কাঁচা কিংবা বালুতে ভাজা অবস্থায়। বাদামে প্রচুর আঁশ ও আমিষ থাকে যা রক্তে শর্করা ও লিপিড’য়ের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে বাদামে প্রচুর ক্যাররিও থাকে, তাই খাওয়ার সময় পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া প্যাকেটজাত ও তেলে ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ অনেক সময় এধরনের বাদাম অস্বাস্থ্যকর চর্বি মিশিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়, ফলে বাদামের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।

অ্যাভোকাডো: লুটেইন, ভিটামিন বি সিক্স, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফোলিক অ্যাসিডে ভরপুর অ্যাভোকাডোতে থাকে মনোআনস্যাচুরেইটেড ফ্যাট যা শরীরে এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও হৃদরোগ দূরে রাখে। তবে মাঝারি আকারের একটি অ্যাভোকাডোতে থাকে প্রায় ২৭৬ ক্যালরি, তাই একবারে দুতিন টুকরার বেশি খাওয়া উচিৎ নয়।

সাগুদানা: এটিই একমাত্র শষ্যজাতীয় খাবার যাতে ৯ ধরনের এসেন্সিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা সাগুদানাকে বানায় একটি পরিপূর্ণ আমিষ। এছাড়াও এতে আঁশ ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে প্রচুর, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপকারি। তবে প্রতি কাপ সাগুদানায় থাকে প্রায় ২২২ ক্যালরি, তাই অতিরিক্ত খাওয়া পেটের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

হামাস: মটরশুঁটি, তিল, অলিভ অয়েল, রসুন, লেবুর রস এবং মরিচ মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়, যা আমিষ, হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারি চর্বি এবং আঁশের একটি ভালো উৎস। তবে একবারে দুই টেবিল-চামচের বেশি খাওয়া উচিৎ নয়, কারণ এতেই মিলবে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ ক্যালরি। আর একে চিপসের সঙ্গে খাওয়া পরিবর্তে সদ্য কাটা তাজা সবজির সঙ্গে খেতে হবে। আর বাইরে থেকে কেনার পরিবর্তে ঘরে বানানোর চেষ্টা করতে হবে। কারণ বাজারের হামাস ডিপ’য়ে অতিরিক্ত সোডিয়াম কিংবা সিরাপ থাকতে পারে।

আম: মৌসুমি এই ফল- আঁশ, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি সিক্স এবং ভিটামিন সি’তে ভরপুর, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং হজমে সহায়ক। কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী খনিজ উপাদানও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ফলটিতে। তবে মাঝারি আকারের একটি আমে প্রায় ১৩০ ক্যালরি ও ৩১ গ্রাম চিনি থাকে। তাই যখন আম খাবেন তখন গ্লাইসেমিক ও কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার কম খেয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

খাওয়া কমানোর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে-

* একবারে কয়েকবাটি বা কয়েকবার নিয়ে খাওয়া যাবে না।

* লোভ সামলাতে হবে এবং পেট ভরে খাওয়া যাবে না।

* ছোট কামড়ে এবং ছোট পাত্রে খেতে হবে।

* কেনার সময় ছোট প্যাকেট কিনতে হবে।

ছবি: রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক