‘ডায়েট’য়ের প্রচলিত ধারণার সত্যতা

ওজন কমানোর জন্য সকালে নাস্তা কর, প্রতিদিন ওজন মাপা, বেশি করে প্রোটিন খাও ইত্যাদি নানা রকমের কথা আমরা শুনে থাকি যা আনলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

লাইফস্টাইলডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Oct 2016, 12:22 PM
Updated : 22 Oct 2016, 12:22 PM

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ওজন কমানো নিয়ে নানা বিভ্রান্তির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সম্পর্কে। এইখানে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হল। 

প্রচলিত ধারণা: 'ফ্যাড ডায়েট' বা সাময়িক ‘ডায়েট’ করে ওজন কমানো পদ্ধতিতে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে ওজন কমানো যায়।

সত্যতা: শুরুতে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করলেও পরে এর ফলে পুষ্টিহীনতার সমস্যা দেখা দেয়। এবং যখন এই ধরনের ডায়েট বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন ওজন পুনরায় বাড়তে থাকে।

করণীয়: প্রতিদিন হালকা শরীরচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে সপ্তাহে দেড় কেজির বেশি ওজন কমানো সম্ভব। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডায়জেস্টিভ কিডনি ডিজিজ-এর গবেষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

প্রচলিত ধারণা: না খেয়ে ওজন কমে।

সত্যতা: শরীর কার্যক্ষম রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি ও ক্যালরি দরকার। এক বেলার খাবার না খেলে পরে মানুষ আরও বেশি পরিমাণে খাবার খায়।

করণীয়: ওজন কমানোর জন্য সবচেয়েও ভালো উপায় হল সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া এবং খাবারগুলো অবশ্যই নানা রকমের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ হওয়া জরুরি।

প্রচলিত ধারণা: ভারি বস্তু তুললে ওজন কমে না বরং বাড়ে।

সত্যতা: ভারি বস্তু উত্তোলন করলে অথবা শরীর সংকোচন করার মাধ্যমে পেশি সুগঠিত হওয়ার মাধ্যমে ওজন কমে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। পেশি শরীরের চর্বির তুলনায় বেশি ক্যালরি খরচ করতে সাহায্য করে।

করণীয়: বার্মিংহাম এর 'ইউনিভার্সিটি অব অ্যালবামা'র গবেষণা অনুযায়ী ভারী বস্তু তোলার পাশাপাশি ৩০ মিনিট হাঁটা, ‘পুশ আপ’ করা ইত্যাদি শক্তি বর্ধক ব্যায়াম সপ্তাহে দুতিন দিন করা হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।      

প্রচলিত ধারণা: সন্ধ্যা সাতটার পরে খাবার খেলে ওজন বাড়ে।

সত্যতা: দিনে কখন খাবার খাওয়া হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কি খাওয়া হচ্ছে এবং কতটুকু খাওয়া হচ্ছে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে অধিক ক্যালরি চর্বি হিসেবে জমা থাকে।

করণীয়: ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা কিছু খেতে চাইলে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা ঘুমের সময়ের মাঝে অন্তত তিন ঘন্টা আগে হয়। 

প্রচলিত ধারণা: শাকাহারি হলে দ্রুত ওজন কমে ও সুস্থ থাকা যায়।

সত্যতা: ক্রিটিক্যাল রিভিউ ইন ফুড সায়েন্স’য়ের এক প্রতিবেদনে ও পুষ্টিবিদদের মতে, শাকাহারি হলে ওজন দ্রুত কমে ঠিকই তবে একই সময়ে সকল পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় না।

করণীয়: ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কম চর্বিযুক্ত শাকাহার খাদ্যতালিকা মেনে চলুন যা শরীরের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সরবারহ করতে সাহায্য করে।

ছবি: রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক