মানসিক চাপ ভাঙতে ৫ উপায়

জীবনে চাপ থাকবেই। তাই বলে কি জীবন থেমে থাকবে!

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Sept 2016, 06:53 AM
Updated : 6 Sept 2016, 06:53 AM

মানসিকস্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় মানসিক চাপ ওহতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে পাঁচটি পন্থাই যথেষ্ট। 

'টেন্সড' ?- তাহলে কাজ করুন: যদি কখনও খুব বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাহলে নিজেকে কাজেরমধ্যে ব্যস্ত রাখুন, শারীরিক পরিশ্রম করুন। এর ফলে শরীর অনেক বেশি ঘামে যা প্রকৃতপক্ষেই হতাশা ও বিষাদের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।

কাজ করলে শরীর ও মন দুটোই ব্যস্ত থাকে এবং এই ব্যস্ততা সকলনেতিবাচক চিন্তা ও অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। তবে এর জন্য ব্যায়ামাগারে যাওয়ারদরকার নেই। প্রতিদিন সকালে জগিং করা অথবা বারবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করলেওকার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়। 

ঠিক মতো খান ও ঘুমান: অধিক খাওয়া ও ঘুম চাপ কমায় এটি সম্পুর্ণ ভুল ধারণা। বরং অধিকখাবার খাওয়া শরীরের ক্ষতি করে দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়। বেশি খাওয়া হলে ওজনবৃদ্ধি পায়, আলসতা বাড়ে। এছাড়াও নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

হতাশা ও ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুম বেশ কার্যকর। তবে জোর করেতো আর ঘুমানো যায় না। যদিও বা ঘুমানো যায় তা কখনও আরামদক ঘুম হয় না। সেক্ষেত্রেধ্যান, গান শোনা বা পছন্দের লেখকের বই পড়া যায়। এতে মনোযোগ বিচ্ছন্ন হয় যা হতাশাদূর করতে সাহায্য করে। ফলে মনে স্থিরতা আসে ও রাতে ভালো ঘুম হয়।      

বিরতি নেওয়া: হতাশার প্রভাব পড়ে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার উপরেই। যদি খুব বেশিএকঘেয়ে লাগে অথবা যদি মনে হয় 'এভাবে আর চলছে না ' তাহলে গতানুগতিক জীবনযাত্রা থেকেখানিকটা বিরতি নিতে পারেন। এর জন্য যেতে পারেন ছোট কোনো ছুটিতে। অথবা একদিনের জন্যন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটান। চাইলে একা 'লং ড্রাইভ'য়ে যেতে পারেন অথবা নিজেরপছন্দসই কোনো খাবার তৈরি করে খেতে পারেন। যা করতে ভালো লাগে, স্বাচ্ছন্দ্য অনুভবকরেন তা-ই করার চেষ্টা করুন। এটি গতানুগতিক জীবনে আনন্দ দেবে যা হতাশা কমাতেসাহায্য করে।

'পারফেক্ট' হতে চাওয়ার দরকার নেই: মানুষের জীবনের অধিকাংশ সমস্যা মানুষ নিজেই তৈরি করে। আমরানিজেরাই নিজেদের উপর অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করি যা জীবনে ব্যর্থতা ডেকে আনে। যখনসফলতার জন্য অনেক কিছু করা হয় তখন এর পাশাপাশি নিজেকে ব্যর্থতার জন্যও প্রস্তুতরাখতে হয়।

জীবনে ব্যর্থতা এলে তা থেকে ঘুড়ে দাঁড়াতে হয়। মাঝে মাঝে ব্যর্থতাজীবনকে নতুন দিক-নির্দেশনা দিতে ও সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

'না' বলুন: আমরা অনেক সময় নিজেদের সীমাবদ্ধতা ভুলে গিয়ে অন্যের মন রাখারজন্য নানা ধরনের কাজ করতে রাজি হই। এই কাজ করা একদমই ঠিক নয় বরং এতে অযথা চাপসৃষ্টি হয়। তাই যদি কোনো কাজে মন সায় না দেয় অথবা কাজটি করতে আগ্রহী না থাকেন তবেতা পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিন। এতে জীবনে হতাশা কম দেখা দেয়। একটি স্পষ্ট 'না' অনেকমানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ছবি: রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক